মঙ্গলবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১১ আশ্বিন ১৪৩০

শিরোনাম: তামিমকে ছাড়াই বিশ্বকাপ দল!    নাগোরনো-কারাবাখে জ্বালানি ডিপোতে বিস্ফোরণে নিহত ২০    রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৩    শপথ নিলেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান    খেলাধুলা সুস্থ সমাজ গঠনের অন্যতম অনুষঙ্গ: প্রধানমন্ত্রী    ভোটের দিন সাংবাদিকদের মোটরসাইকেল ব্যবহারে নতুন নির্দেশনা দিলো ইসি    বিএনপিকে ৩৬ দিনের আলটিমেটাম কাদেরের   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
পরিশ্রমের তুলনায় মজুরি কম, অভিযোগ কর্মকারদের
হাটহাজারী প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ জুন, ২০২৩, ১০:১৬ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ঠুং-ঠ্যং শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠা হাটহাজারীর কামারের দোকানগুলোর ব্যস্থতা এখন একেবারে শেষের দিকে । গত ১৫/২০ দিন ধর হাতুড়ি দিয়ে লোহা পিটা পিটির শব্দে মুখর হয়ে উঠা হাটহাজারী পৌরসভা ও বিভিন্ন বাজারের কামারের দোকানগুলোতে  লোহা গলিয়ে চলছে পশুজবাই ও মাংস কাটার ছুরি, চাপাতি, দা, বঁটিসহ নানাবিধ সরঞ্জাম তৈরি ও মেরামতের কাজ। এখন দম ফেলারও সময় নেই তাদের। অর্ডার নিয়ে তৈরী করে রাখা পণ্যগুলো এখন ডেলিভারি হচ্ছে বেশি।

বেশি মুল্য দিয়ে জরুরী ভিক্তিতে অর্ডার নেয়া সামগ্রী তৈরী করতে এখনও কোনো কোনো কামারের দোকানে ভারি হাতুড়ি দিয়ে পেটাচ্ছেন আগুনরাঙা লোহার খণ্ড। তবে এই শেষ সময়ে পুরনো দা-ছুরিতে শাণ দেয়ার কাজ হচ্ছে অনেক বেশি।

হাটহাজারীর বিভিন্ন কামারের দোকান ঘুরে দেখা যায় এবার দা, ছুরি, চাকু ও বঁটির বেচাকেনা তুলনামূলকভাবে কম। বর্তমানে লোহার দাম বাড়তি হওয়ায় দা ছুরি বটির দামও বেড়েছে কিছুটা। বাজারে প্রতিটা দা বিক্রি হচ্ছে ৪/৫ শ টাকায়, চাপাতি ৫/৬ শ টাকায় গরু জবাই করার বড় ছুরি ৬/৯ শ টাকা এবং ছোট ছুরি ৫০/১০০ টাকায়। এদিকে উপজেলার মেখল ইউনিয়ন থেকে বাজারে কোরবানির গরু কাটার জন্য দা,বটি,ছুরি শান দিতে আসা আব্দুল মান্নান মিন্টু জানান, আমি তিনটি দা, একটি বটি, চারটি ছুরি শান দেয়ালাম ৫০০ টাকায়। 

 কারিগরদের অভিযোগ, বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে পরিশ্রমের তুলনায় মজুরি অনেক কম হচ্ছে তাদের। সারাদিন আগুনের পাশে বসে থাকার ফলে তাদের শরীরে বিভিন্ন ধরণের সমস্যাও তৈরি হয়। তারা বলেন, সারাবছর আমাদের মোটামুটি বিক্রি হয়। তবে কোরবানির সময় বিক্রি হয় সবচেয়ে বেশি। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভ আগের চেয়ে কমে গেছে। তাছাড়া এবছর অন্য বছরের তুলনায় বেচা-বিক্রিও কম। 



উপজেলার পৌরসভা এলাকার এক কামার দোকানের মালিক বলেন, কোরবানি ঈদে তারা প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের উপকরণ তৈরি করেন। বর্তমানে লোহা ও কয়লার দাম অনেক বেড়ে গেছে। সে তুলনায় কামার শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়েনি। 

বাজারের আরেক কর্মকার রবি জানান, সারাবছর বেচাকেনা কিছুটা কম থাকে। গত ২ বছর করুনা মহামারি কারনে ব্যবসা হয়নি বলা যায়। আর এবার কোরবানির আগেও বেচা-বিক্রি কম। 

কাজল কর্মকার জানান এ বছরও ক্রেতার সংখ্যা অনেক কম, মানুষের হাতে টাকা নাই। কুরবানির পশুর দাম গত অন্যান্য বারের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় ইচ্ছে থাকা সত্বেও এবার অনেকেই কুরবানি দিতে পারছেন না। কোরবানির পশুর জন্য দা, ছুরি, চাকু বটি কিনতে আসা কয়েকজন ব্যক্তি জানান, অধিকাংশ মানুষের হাতে তেমন টাকা নেই। তাছাড়া যন্ত্রপাতির দাম গতবারের তুলনায় বেশি। 

হাটহাজারী উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারের রবি কর্মকার, সজিৎ সেন, উজ্জ্বল কর্মকার, বাবুল, স্বপন, পলাশসহ বেশ কয়েকজন কর্মকারের সাথে কথা বলে জানা যায়, আধুনিকতার ছোঁয়ায় বর্তমানে এ কামার সম্প্রদায় আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়ছে। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে এই প্রত্যাশা তাদের। 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/bb.jpg
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Screenshot_1.jpg
http://dailyvorerpata.com/ad/apon.jpg
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]