বুধবার ২৪ জুলাই ২০২৪ ৯ শ্রাবণ ১৪৩১

শিরোনাম: কর্মোপযোগী শিক্ষার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি সম্ভব    নববর্ষের আনন্দ যেন বিষাদের কারণ না হয়: রাষ্ট্রপতি    নির্বাচনে ২১ সদস্যের মনিটরিং সেল গঠন ইসির    দেশজুড়ে যে তিনদিন মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা!    মির্জা ফখরুলের জামিন শুনানি ৯ জানুয়ারি    প্রাথমিকের ছুটি বাড়ল ১৬ দিন (তালিকা)    নির্বাচনের বিরুদ্ধে বিএনপির প্রচারণা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
'দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিতে ১ মিনিটও অপেক্ষা করব না'
ভোরের পাতা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২০ মে, ২০২৩, ৩:০০ পিএম আপডেট: ২০.০৫.২০২৩ ৩:০৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

কারো বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ যদি আমার কাছে আসে আমি অন্তত এক মিনিটও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অপেক্ষা করব না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

বৃহস্পতিবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট অডিটরিয়ামে জাতীয় আইনি সহায়তা দিবস ২০২৩ উপলক্ষে উচ্চ আদালতে সরকারি আইনি সহায়তার অগ্রগতি শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটি সভার আয়োজন করে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, আমি একটি কেসের ঘটনার কথা আপনাদের বলি, ‘এখানে সুপ্রিম কোর্ট বারের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি আছেন। তারা হয়তো অখুশি হতে পারেন। এখন থেকে ৭/৮ বছর আগে আমার এক দূর সম্পর্কের আত্মীয় সার্ভিস ম্যাটারে রিট করার জন্য আমার সাথে কথাবার্তা বললেন। আমি তাকে অ্যাডভাইস করলাম। বললাম দেখো এই মামলা-মোকাদ্দমা করতে যেও না। এই মামলা করো না। এই মামলাতে তুমি হেরে যাবে। এটা সার্ভিস ম্যাটার। কারণ বিষয়টা হাইকোর্ট ডিভিশনের এখতিয়ারভুক্ত ছিল না। কিন্তু সে আমাকে না জানিয়ে হাইকোর্টে মোকাদ্দমাটা করে। হাইকোর্ট তার পক্ষে রায়ও দেয়। রুল অ্যাবসুলুট (যথাযথ ঘোষণা) হয়। অ্যাবসুলুট হওয়ার পর সে আর নকল পায় না। অনেক দিন ঘুরে ঘুরে নকল যখন পাননি এক পর্যায়ে আমার সাথে দেখা করে। আমি তখন দেশের প্রধান বিচারপতি। এর আগে সে যে মামলা করেছে, রুল অ্যাবসুলুট হয়েছে কিছুই আমাকে বলেনি। কারণ আমি তাকে মামলা করতে বারণ করেছিলাম।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সম্প্রতি আমার ব্রাদারদের (সহকর্মী বিচারপতি) কাছে গল্পটা করেছিলাম।’

‘পরিস্থিতিটা আপনাদের বোঝানোর জন্য বলছি। আমি তখন প্রধান বিচারপতি। একদিন সেই আত্মীয় আমার বাসায় গেছেন। আমি কাজ করছিলাম। বাসায় এসে সেই আত্মীয় দেখি কান্নাকাটি শুরু করেছে। আমি বললাম কান্নাকাটি করো কেন। তখন সে বললো আপনি তো মোকাদ্দমা করতে নিষেধ করেছিলেন। আমি মোকাদ্দমা করেছিলাম। মোকাদ্দমাতে জিতেছিও। কিন্তু দুই বছর হলো। মামলার রায়ের কপি এখনও পাইনি। আমি যে অ্যাডভোকেট এনগেজড করেছিলাম সেই অ্যাডভোকেট সাহেবের ক্লার্ককে ৪০ হাজার টাকা দিয়েছি মামলার নকল ওঠানোর জন্য। কিন্তু সে রায়ের নকল দিতে পারেনি। পরে আরেকজন লইয়ারের ক্লার্ককে বললাম তুমি নকলটা তুলে দিতে পারো? সে বলল খুবই পারি। কিন্তু নকল তুলতে পারেনি। এর মধ্যে ওই ক্লার্ক ৮০ হাজার টাকা নিয়ে নিয়েছে।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম তুমি এ কেসের পারপাসে মোট কত টাকা খরচ করেছ? সে তখন বলছে আমি লইয়ারকে দিয়েছি ১৮ লাখ টাকা। আমি জিজ্ঞেস করলাম লইয়ার সাহেবের নাম কি? একজনের নাম বলল। কিন্তু সেই আইনজীবীর নাম আমি এর আগে শুনিনি, দেখিওনি। যারা প্র্যাকটিসিং লইয়ার তাদের সবাইকে তো আমার চেনার কথা। আর ১৮ লাখ টাকা যার ফি তাকে তো চিনবই। কিন্তু একে আমি চিনতে পারলাম না। ১৮ লাখ টাকা লইয়ার নিয়েছে। ৪০ হাজার টাকা তার ক্লার্ক নিয়েছে নকল তোলার জন্য। পরে নকল ওঠানোর জন্য আরেকজন ক্লার্ককে ধরেছে। সে আবার ৮০ হাজার টাকা নিয়েছে। কিন্তু মামলার নকল পাননি।’

প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আমি প্রধান বিচারপতি হিসেবে এই সমস্যাটা কীভাবে সমাধান করব? আপনারা বলেন তো দেখি। এটা সমস্যার একটা উদাহরণ দিলাম। এরকম সমস্যার মধ্যে আশার কথাও আছে।’  

এরপর প্রধান বিচারপতি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।



তিনি বলেন, ‘কারো বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ যদি আমার কাছে আসে আমি অন্তত এক মিনিটও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অপেক্ষা করব না। সে যত উচ্চপদস্থ বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা হোক বা সুপ্রিম কোর্টের কর্মচারীই হোক। তার বিরুদ্ধে প্রসিডিং শুরু করতে এক মুহূর্ত অপেক্ষা করব না। কিন্তু যদি কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না আসে তাহলে কীসের ভিত্তিতে আমরা ব্যবস্থা নেব। যখন কারো দুর্নীতি হাতে নাতে ধরা হয় আমরা সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি।’

এ সময় আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনে যদি দুর্নীতির সাথে কেউ জড়িত হন, কোনো প্রমাণ থেকে থাকলে আমাদেরকে সঙ্গে সঙ্গে জানাবেন। আমরা ব্যবস্থা নিতে পিছ পা হব না।’

সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি নাইমা হায়দারের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকী, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম, অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. গোলাম রব্বানী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির, সম্পাদক আব্দুন নূর দুলাল, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান প্রমুখ।

এ সময় অনুষ্ঠানে আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ সাইফুর রহমান, হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মুন্সি মো. মশিয়ার রহমানসহ সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তা এবং সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডের কর্মকর্তা ও প্যানেল আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Vorer-pata-23-12-23.gif
http://www.dailyvorerpata.com/ad/bb.jpg
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Screenshot_1.jpg
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]