বুধবার ২৪ জুলাই ২০২৪ ৯ শ্রাবণ ১৪৩১

শিরোনাম: বিএনপির বড় বিশৃঙ্খলার চেষ্টা আ.লীগের সতর্কতায় বিফল: তথ্যমন্ত্রী    সংকটকে সম্ভাবনায় রূপ দিতে কাজ করছে সরকার: কাদের    নাটোরে ট্রেনে কাটা পড়ে ৩ জনের মৃত্যু    ‘কিছুই করি নাই শ্রেণিটা’ চোখ থাকতেও দেখে না: প্রধানমন্ত্রী    রাজকে আমার জীবন থেকে ছুটি দিয়ে দিলাম: পরীমনি    সৌদি আরবের ক্লাবে যোগ দিলেন রোনালদো    বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
পদ্মা সেতু সাতক্ষীরার অর্থনীতিতে আনবে যুগন্তরি পরিবর্তন
গাজী ফারহাদ, নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ জুন, ২০২২, ৫:১৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

অবশেষে সাতক্ষীরাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে আগামী ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে। আর এই সেতু চালু হলে দেশের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী এই জেলার আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে।

সুন্দরবনের কোল ঘেষে গড়ে উঠা কৃষিতে সমৃদ্ধ এই জেলার উৎপাদিত পন্য জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশে অভ্যান্তরে ও বিদেশে রপ্তানি করে দেশের অর্থনীতিতে রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। এছাড়াও দেশের দ্বিতীয় চিংড়ি উৎপাদনকারী জেলা হিসাবে খ্যাতি লাভ করেছে এই জেলা। সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যাটনসহ শিল্প সমৃদ্ধ সাতক্ষীরার অর্থনীতিকে অনন্য স্থানে নিয়েছে দেশের বৃহৎতম ভোমরা স্থলাবন্দর। 

ভোমরা স্থলাবন্দও সূত্রে জানা যায়, দেশের তৃতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর হিসেবে ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর। প্রতিষ্ঠার ২৬ বছরের বিভিন্ন সময়ে অবকাঠামোগত নানা উন্নয়ন হয়েছে বন্দরটিতে। বর্তমানে বন্দরটি দিয়ে প্রতিদিন চার শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক ভারত থেকে প্রবেশ করছে বাংলাদেশে। আমদানি ও রপ্তানি কাজে জড়িত রয়েছেন পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ী। ভোমরা বন্দরে প্রতিদিন রাজস্ব আদায় হয় তিন  থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকা। এই রাজস্ব আদায় বছর শেষে গিয়ে দাঁড়ায় ১১০০ কোটি টাকায়।

তবে বন্দর প্রতিষ্ঠা পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে বন্দরটিতে নানা ধরণের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও যাতায়াত ব্যবস্থা খারাপ থাকায় আমদানিকৃত পচনশীল কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্য ঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে পণ্যের উপযুক্ত দাম থেকে বঞ্চিত হওয়ায় ক্ষতীর সম্মুখীন হন এখানকার ব্যবসায়ীরা। পদ্মা সেতু চালু হলে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের সাথে এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। এই অঞ্চল ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভোমরা স্থল বন্দরের মাধ্যমে দেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক জোনে পরিণত হবে বলে ধারণা বন্দর কর্তৃপক্ষের।

ভোমরা স্থল বন্দর শ্রমকি ইউনয়িনরে সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সকাল হলেই আমদানি ও রপ্তানির বিভিন্ন কার্যক্রমে ৫ হাজার মানুষের কর্মযজ্ঞ শুরু হয় সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে। সিএন্ডএফ এজেন্ট, কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন, শ্রমিক মিলে ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে বন্দরটিতে। বর্তমানে পণ্য আমদানির পর এখান থেকে ঢাকা পৌঁছাতে সময় লাগে ১০-১২ ঘণ্টা। ফেরিতে অনেক সময় এর চেয়েও বেশি সময় লাগে। দুর্যোগকালীন সময়ে ফেরি না পাওয়ায় এই নদীর পাড়েই কেটে যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এতে ভারত থেকে আমদানিকৃত পচনশীল পণ্য নষ্ট হওয়ায় নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হন ব্যবসায়ীরা। 

তবে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর সেই দুর্ভোগ লাঘব হবে জানিয়ে এই শ্রমিক নেতা বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে ভারত থেকে পণ্য আমদানির পর রাজধানীতে পৌঁছে যাবে ৫-৬ ঘণ্টায়। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমদানি-রপ্তানিতে খরচও কমে আসবে বহুলাংশে। এতে পাল্টে যাবে ভোমরা স্থল বন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্যের অতীত  প্রেক্ষাপট।

পরিবহণ শ্রমিক ঈমান আলী বলেন, বর্তমানে মাওয়া-জাজিরায় পদ্মা পাড়ি দিতে ফেরিতে দেড় ঘণ্টার মতো সময় লাগে। আর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় সময় লাগে ৪০ মিনিটের মতো। সমস্যা হলো, ঘাটে গিয়েই ফেরিতে উঠার নিশ্চয়তা নেই। সময় মতো ফেরি না পাওয়ায় এই নদীর পাড়েই কেটে যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ঝড়, বর্ষা, নদীর প্রবল স্রোত কিংবা ঘন কুয়াশায় পদ্মার পাড়েই কেটে গেছে দিন-রাত। 

পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে ভোমরা স্থল বন্দর থেকে ঢাকায় যাতায়াতের সময় ৫-৬ ঘণ্টা কমে আসবে। তখন পথপাড়ি দিতে সময় লাগবে ৫-৬ ঘণ্টা। এতে একদিকে যেমন ভোগান্তি কমবে, তেমনি যাত্রাও সহজ হবে। 

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান নিরাপদ ট্রেডার্সের সত্বাধিকারী মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম বলেন, প্রতিদিন ভারত থেকে ৪০০ পণ্যবাহী ট্রাক ভোমরা স্থল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। পদ্মা সেতু চালু হলে এসমস্ত আমদানিকৃত পণ্য ৫-৬ ঘণ্টায় ঢাকায় পৌঁছে যাবে, যেখানে এখন ফেরিতে সময় লাগে ১০-১২ ঘণ্টা। ফেরিতে কখনো এর  চেয়েও বেশি সময় লাগে। কাঁচামাল পচেঁ যায়। এতে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন ব্যবসায়ীরা। তবে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর সেই দুর্ভোগ লাঘব হবে।

ভোমরা স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম খান বলেন, পদ্মা  সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ভোমরা স্থলবন্দরে ব্যবসা-বাণিজ্যের অবাধ কার্যক্রম শুরু হবে। ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে। ভোমরা বন্দরের কিছু উন্নয়ন কাজ বাকি রয়েছে। এখানে একটি কাস্টমস হাউস প্রয়োজন। সেটি হলে সকল পণ্য আমদানির সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে রাজস্ব আদায়ও দ্বিগুণ হবে।

ভোমরা স্থলবন্দরের উপপরিচালক মনিরুল ইসলাম বলেন, ভারতের কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরের সাথে ভোমরা বন্দরের দূরত্ব বাংলাদেশের যেকোন বন্দর অপেক্ষা কম হওয়ায় পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এই বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বর্তমানে বন্দরটি দিয়ে প্রতিদিন ৪০০ পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। আর বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাচ্ছে ৫০-১০০ ট্রাক। এতে দৈনিক রাজস্ব আদায় হচ্ছে তিন থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকা।
তিনি আরও বলেন, ভোমরা স্থলবন্দরের উন্নয়নে বর্তমানে ভোমরা বন্দরে ১৫ একর জমির ওপরে কার্যক্রম চলছে। আরও ১০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও বন্দরকে গতিশীল করা এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে একটি মাস্টার প্ল্যানও হাতে নেয়া হয়েছে। পদ্মা সেতু চালু হলে এই বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম অনেকাংশে বেড়ে যাবে। এতে রাজস্ব আদায়ও দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে। 



অপরদিকে, সাতক্ষীরা চিংড়ী ব্যবসায়ি সমিতির সভাপতি আবুল কালাম বাবলা বলেন, পদ্মা সেতু দেশের হোয়াইট গোল্ড খ্যাত সাতক্ষীরার চিংড়ী শিল্পের রপ্তানিতে যোগ করবে নতুন মাত্রা। চিংড়ীর গুনগত মান ঠিক রেখে বাজার সম্প্রসারন করতে এই পদ্মা সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই পেশায় জড়িতরা।

সাতক্ষীরা চেম্বর অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠ বলেন, দেশের দশিক্ষ-পশ্চিমনাঞ্চলের সীমান্তবর্তী একটি সম্ভাবনাময় জেলা সাতক্ষীরা। সুন্দরবনের কোল ঘেষে গড়ে উঠা কৃষিতে সমৃদ্ধ এই জেলার উৎপাদিত পন্য জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশে অভ্যান্তরে ও বিদেশে রপ্তানি করে দেশের অর্থনীতিতে রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। এছাড়াও দেশের দ্বিতীয় চিংড়ি উৎপাদনকারী জেলা হিসাবে খ্যাতি লাভ করেছে এই জেলা। তিনি বলেন, এই পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা অভূতপূর্ব উন্নয়নের ফলে এই অঞ্চলের ব্যবসায়-বানিজ্য সম্প্রসারনসহ ভোমরা স্থলাবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধির ফলে সরকারের রাজস্ব কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।

এবিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক ড. কাজী এরতেজা হাসান সিআইপি বলেন, দক্ষিণের এই জেলার সাথে ঢাকার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে এই জেলার কৃষি ও পর্যটন শিল্প বিকশিত হবে। পদ্মা সেতু সাতক্ষীরার অর্থনীতিতে যুগন্তরি পরিবর্তন আনবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব কমবে। 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, ইতি মধ্যে সাতক্ষীরায় একটি অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠা হতে যাচ্ছে, ফলে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হবে। 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Vorer-pata-23-12-23.gif
http://www.dailyvorerpata.com/ad/bb.jpg
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Screenshot_1.jpg
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]