মঙ্গলবার ১৭ মে ২০২২ ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

শিরোনাম: করোনায় আক্রান্ত ৫২ কোটি ৩২ লাখ, সুস্থ ৪৯ কোটি ৩২ লাখ    'শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি মাইলফলক'    শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ    গম রপ্তানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের জন্য নয়    টাকার মান আরও ৮০ পয়সা কমলো    পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়-ইউজিসি পেল সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকার বাজেট    বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট: ৩ বছরে আয় ৩০০ কোটি ছাড়িয়েছে   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
তবুও সর্বনাশের ইটভাটা! কমে আসছে আবাদি জমি
তোফায়েল হোসেন তোফাসানি, সাভার:
প্রকাশ: সোমবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২২, ৭:১১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

অনুমোদন নেই। নিষিদ্ধ এলাকায় ভাটা করার ফলে কালো ধোঁয়া সর্বনাশ করছে ফসলের ক্ষেত, ফলবান বৃক্ষ ও পরিবেশের। এলাকার মানুষ পড়ছেন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। ঢাকার সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে এমনিভাবে কৃষিক্ষেত বিনষ্ট করে, পাড়া মহল্লা বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে ইটভাটা। এতে করে কমে আসছে আবাদি জমি। বিনষ্ট হচ্ছে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। বছরের পর বছর ধরে সর্বনাশ হচ্ছে সাধারণ কৃষকের। তবুও সর্বনাশের ইটভাটা বন্ধে কোন ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। 
ধামরাইয়ের কুশুরা গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান। গ্রামের ফসলের ক্ষেতে ফলন দেখে এক সময় খুশীতে তার বুক ভরে উঠতো। বাড়ির সবজি বাগানে ভাল ফলন হতো। আম-কাঠাল গাছে ফল আসতো আশানুরূপ। সবই যেন আজ স্মৃতি। পাড়ার সাথেই ইটভাটা হওয়ায় ফসলের ক্ষেত বিরান হয়ে গেছে। গাছে সবজি ও ফল ধরার সাথে সাথেই তা ঝড়ে পরে। এসব সর্বনাশ হয়েছে ইটভাটার কারণে। বছরের পর বছর এ অবস্থা চলে আসলেও প্রতিকার নেই। তাই এখন নিশ্চুপ মান্নানের মত ভুক্তভোগীরা। 

সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকার হেমায়েতপুরের ঝাউচর, ভাকুর্তা, মুশুরী খোলা, ধামরাইয়ের বালিয়া, সুতিপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১০ বছর যাবৎ নিষিদ্ধ ঝিকঝাক চুল্লি দিয়ে চলছে প্রায় ৩০টি ইটভাটা। পাশেই স্কুল, পাড়া মহল্লা থাকলেও বিধি নিষেধের তোয়াক্কা নেই। পুড়ানো হচ্ছে কাঠ, টায়ার ও ফার্নেশ অয়েল। 

ধামরাইয়ের সুতিপাড়া, কালামপুর, নান্না, বালিয়া, সুয়াপুর, কুল্লা, মহিষাশী, কাওয়ালীপাড়া, জালসাসহ অনেক এলাকা এখন ইটভাটার গ্রামে পরিণত হয়েছে। তিন ফসলী জমি উজার করে গড়ে উঠেছে শত শত ইটভাটা। এসব ইটভাটার সিংহভাগেরই কোন অনুমোদন নেই। এরা স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে তিন ফসলী জমিকে এক ফসলী জমি দেখিয়ে ছাড়পত্র উত্তোলন করে। এরপর পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসক অফিসের অনুমোদন না পেলেও বছরের পর বছর ধরে চলছে এসব ইটভাটা। ফলে, ভাটার পাশের জমি গুলোতে ফলন কমে গেছে। ভাটার পাশের পাড়া মহল্লার ফলবান বৃক্ষের মুকুল ঝড়ে পড়ে অকালে। ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় স্বাস্থ্যহানী হচ্ছে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের। 
এমনিভাবে সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে বিভিন্ন জনপদে গড়ে উঠেছে প্রায় সহ¯্রাধিক ইটভাটা।  
এলাকাবাসীরা অভিযোগ করে বলেন, মালিকেরা প্রভাবশালী হওয়ায় তারা ইটভাটার বিরদ্ধে প্রতিবাদ করলেও কোন লাভ হয়নি। ফসলের ক্ষেত বিনষ্ট করে নির্বিচারে গড়ে তোলা হয়েছে ইটভাটা। এসব ভাটা বন্ধে এত বছরেও প্রশাসনের কোন ভূমিকা পরিলক্ষিত হয়নি। মাঝে মাঝে দু’একটি লোক দেখানো অভিযান চললেও রাঘব-বোয়ালরা রয়ে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। 



এলাকাবাসীরা আরো বলেন, ইটভাটার পাশে বসবাস মানেই সর্বনাশ ডেকে আনা। এলাকার বাতাসেও পোড়া গন্ধ। কৃষি জমি বিনষ্ট করে গড়ে উঠা এসব অনুমোদনহীন ইটভাটা কবে বন্ধ হবে তা অনিশ্চিত। তবে, মানুষের এ সর্বনাশ থেকে রেহায় পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এসব মানুষ। 
তিন ফসলী জমিকে এক ফসলী জমির ছাড়পত্র দেয়ার ব্যাপারে সাভার উপজেলা কৃষি অফিসার নাজিয়াত আহমেদ বলেন, আমি তিন ফসলী জমিকে কখনও এক ফসলী জমির ছাড়পত্র দেই না। কেউ অভিযোগ করলে তাকে নিয়ে আসবেন বলেও তিনি জানান। 

ধামরাইয়ের কৃষি অফিসার আরিফুল ইসলাম বলেন, ভাটা নির্মান করে পরে এসে অনেকেই ছাড়পত্র চান। যা আইন সম্মত নয়।  

এ ব্যাপারে ধামরাইয়ের উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকি বলেন, এসব ইটভাটার কোন অনুমোদন নেই। তবুও আমাদের বিধি নিষেধকে উপেক্ষা করে চালানো হচ্ছে ইটভাটা। এরা কৃষি জমি কেটে মাটি সংগ্রহ করে ভাটায় ব্যবহার করছে। এতে করে আমাদের ধান-চালের আবাদ কমে যাচ্ছে। সর্বনাশ হচ্ছে সাধারণ কৃষকের। বিভিন্ন সময় আমরা এসব ইটভাটার বিরদ্ধে অভিযান পরিচালনা করলেও তা যথেষ্ট নয়।

এ ব্যাপারে সাভারের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাজহারুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://dailyvorerpata.com/ad/apon.jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]