রোববার ২১ এপ্রিল ২০২৪ ৮ বৈশাখ ১৪৩১

শিরোনাম: প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের তৃতীয় ধাপের ফল প্রকাশ    জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম থেকে খোকনকে অব্যাহতি    ইউক্রেন-ইসরায়েলকে সহায়তা দিতে মার্কিন পার্লামেন্টে বিল পাস    মধ্য আফ্রিকায় ফেরিডুবিতে ৫৮ জনের মৃত্যু    সারাদেশে হিট স্ট্রোকে ৫ জনের মৃত্যু    তাপপ্রবাহের কারণে স্কুল-কলেজে ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা    আ.লীগের সব রকম কমিটি গঠন ও সম্মেলন বন্ধ থাকবে : কাদের   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
‘সাংবাদিকতা পেশা সবদেশেই কমবেশি ঝুকিপুর্ণ ছিল, আছে এবং থাকবে’
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ জুন, ২০২৩, ৭:০৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

‘গণমাধ্যমকেও বস্তুনিষ্ট ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করতে হবে। জাতীয় স্বার্থে কথা বলতে হবে। কোন দলীয়  বা ব্যক্তি স্বার্থে উদ্দেশ্য প্রণোদিত প্রতিবেদন করা উচিত নয়। এসব দিকে আমাদের সাংবাদিকদের সচেতন হতে হবে। বর্তমানে নিউ মিডিয়া অর্থাৎ সামাাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে গুজব ও অসত্য তথ্য প্রচারিত হচ্ছে। যা অনেকের ক্ষতির বড় কারণ হচ্ছে। বিশেষ করে নারী সমাজের জন্য বড় হুমকি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে সামাজিক মাধ্যম। এখানে সবাইকে সতর্ক হতে হবে।’ ভোরের পাতার সাথে একান্ত আলাপচারিতায় এই কথাগুলো বলেন সবুজ ইউনুস।

ভোরের পাতা: সাংবাদিকতায় এলেন কেন, ঝুকিপুর্ন পেশা জেনেও?
সবুজ ইউনুসঃ ১৯৮০ এর দশকে আমি একটি সাধারণ পরিবার থেকে রাজধানী ঢাকায় উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য আসি। ভর্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ন হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে ভর্তি হই। ঢাকায় খরচ মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা বাড়ি থেকে আসতো না। ফলে পড়াশোনার খরচ জোগাড় করার জন্যই আমি খন্ডকালিন চাকরি হিসেবে সাংবাদিকতাকে বেছে নিই। আমি জানতাম সাংবাদিকতার পেশা অত্যন্ত ঝুকিপুর্ণ। বিশেষ করে আমার ছাত্রত্বকালে ১৯৮০ ও ৯০ এর দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক অস্থিরতা ছিল। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ নানা কারণে ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে পুলিশ বাহিনীর সংঘর্ষ হতো। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার হিসেবেই প্রথমে জাতীয় দৈনিক পত্রিকা বাংলার বাণীতে যোগ দিই। তখন প্রতিবেদন লিখতে গিয়ে নানাবিধ হুমকির মধ্যে পড়তে হতো। ঝুকিপুর্ন জেনেও আমি এই মহান কাজটি করে গেছি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষে এই এই পেশাকেই আমার জীবিকা হিসেবে গ্রহন করেছি।   

ভোরের পাতা: সাংবাদিকতায় বেশ কয়েকটি বড় পুরষ্কার পেয়েছেন, অনুভূতি কি?
সবুজ ইউনুসঃ কাজের স্বীকৃতি কে না পেতে চায়। আমিও সেই সম্মান ও স্বীকৃতি পেয়েছি। পুরস্কার বা স্বীকৃতি যে কাউকে তার কাজে আরো উৎসাহিত করে। অনুপ্রেরণা যোগায়। আমার পেশাগত জীবনে অনেক সাড়া জাগোনো বড় প্রতিবেদন করেছি। যাকে বলে অনুসন্ধানি প্রতিবেদন। আমি মূলত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়েই অধিকাংশ সময় কাজ করেছি। আমার কাজের ক্ষেত্র ছিল মূলত এটাই। তবে এর বাইরেও বিভিন্ন খাতে কাজ করতে হয়েছে। পেশাগত জীবনে আমার স্বরণীয় মুহুর্ত হলো ২০১২ সাল । এই সালে বাংলাদেশ সরকার আমাকে দেশ সেরা রিপোর্টার হিসেবে জাতীয় পুরষ্কার দেয়। এটা ছিল আমার জীবনের পরম পাওয়া। এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন সময়ে আমাকে সম্মামনা ও পদক দিয়েছে। সম্মানিত করেছে। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে একটি বড় সাংস্কৃতিক সংগঠন আমাকে ২০২২ সালে পুরস্কৃত করে। এসব পুরস্কার আমাকে আরো উৎসাহিত করেছে ভালো কাজ করার জন্য। 

ভোরের পাতা: বাংলাদেশে এ পেশা কেন দিন দিন আরো ঝুকিপুর্ণ হয়ে উঠছে?
সবুজ ইউনুসঃ সাংবাদিকতা পেশা সবকালে সবদেশেই কমবেশি ঝুকিপুর্ণ ছিল, আছে এবং থাকবে। আমরা যদি উন্নত বিশ্বের দিকে তাকাই, তাহলে দেখবো সেখানেও সাংবাদিকরা ঝুঁকি নিয়েই কাজ করেন। বিশ্ব পরিসংখ্যানে দেখা যায় প্রতিবছরই বহু সাংবাদিক নির্মমভাবে খুন হচ্ছেন। সাংবাদিকরা সত্য প্রকাশের কারণে নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাদের গুম করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের এই নির্যাতনের ইতিহাস শত বছর আগেও ছিল। এখনো আছে, তবে একটু অন্যভাবে এই আর কি। 



ভোরের পাতা: ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্ট বাতিল চান কেন?
সবুজ ইউনুসঃ ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্ট মুলত সাংবাদিক রাজনীতিকদের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করা হচ্ছে। এই আইনের বেশ কিছু ধারা সরাসরি সাংবাদিকদের স্বাধীন মত প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে করেছে। এই আইনকে নানাভাবে অপপ্রয়োগের সুযোগ আছে। এবং সেটাই করা হচ্ছে। ফলে সাংবাদিক সম্প্রদায় এ আইনটি বাতিলের দাবি করে আসছে। ইতিমধ্যে সরকার অবশ্য বলছে তারা কয়েকটি ধারা সংশোধন করবে। এই আইনটির কারণে জাতিসংঘও আপত্তি করেছে এবং বাতিলের দাবি করেছে। দেশে বিদেশে এ আইনটির জন্য আমাদের সম্মান নষ্ট হচ্ছে। ফলে এটা বাতিল করাই উচিত বলে আমি মনে করি।   
ভোরের পাতা: এ পর্যন্ত আপনি কতবার হুমকির শিকার হয়েছেন?
সবুজ ইউনুসঃ হুমকির শিকার বহুবার হয়েছি। আগে তেমন আমলে নিইনি। কিন্তু একটু অন্যরকম হুমকি আসছে। ফলে কিছুদিন আগেও একটা জিডি করেছি। আপনি হয়ত জানেন আমি দৈনিক সমকালে এর আগে প্রধান প্রতিবেদক এবং বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি। প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে ক্ষতিগ্রস্তরা সাধারণত প্রধান প্রতিবেদক, বার্তা সম্পাদক, সম্পাদক ও প্রকাশকের বিরুদ্ধে মামলা করে থাকে। ২০০৮ সালে আমাকে প্রধান প্রতিবেদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর সমকালের বিরুদ্ধে অনেকগুলো মামলা হয়। যেখানে আমাকে আসামী করা হয়। এখনো কমবেশি মামলা হয়। তবে সেখানে সরাসরি আমি আসামী নই। কারণ ওই পদগুলোতে আমি নেই। আমি এখন সহযোগী সম্পাদক। ফলে মামলায় এখন আমাকে জড়ানো হয় না। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হলো, আমার একটি নিবন্ধের কারণে সম্প্রতি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান আমাকে সতর্ক করে চিঠি দিয়েছে। এরকম ঘটনা আগে কারো ক্ষেত্রে হয়েছে কিনা জানিনা। আমি একটি আর্টিকেল লিখেছিলাম। বিইআরসি কি অচল হয়ে গেল- এই শিরোনামে। এজন্য ওই প্রতিষ্ঠান আমাকে সতর্ক করে চিঠি দিয়েছে। আমি বেশ অবাকই হয়েছি। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে উড়ো চিঠির মাধ্যমেও হুমকি দেয়া হয়। আগে এগুলো পাত্তা না দিলেও এখন ভয় করে। ফলে থানায় জিডি করেছি। কিন্তু জিডি করেও তেমন কোন লাভ হয়না। পুলিশ এগুলো অনুসন্ধান করে না। ফলে অনেকে জিডি করেনও না। 

ভোরের পাতা: সাংবাদিকদের স্বার্থ রক্ষায় কি ভুমিকা পালন করা উচিত?
সবুজ ইউনুসঃ সাংবাদিকদের স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করা উচিত। সাংবাদিকদের মধ্যে বিভেদ থাকা উচিত না। বিভেদের কারণে অনেক দাবি আদায় করা সম্ভব হয়না। ফলে এই পেশার লোক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। 

ভোরের পাতা: বাংলাদেশে কি সাংবাদিকতার স্বাধীনতা আছে? মুক্তমত চর্চার অধিকার আদায়ে কি করা উচিত?
সবুজ ইউনুসঃ সরকারকে আরো বেশি পরমতসহিঞ্চু হতে হবে। গণমাধ্যমকে প্রতিপক্ষ ভাবা যাবে না। যথার্থ সমালোচনাকে গ্রহন করে সেই মোতাবেক সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে। বস্তুনিষ্ট সমালোচনাকে গুরুত্বের সাথে নিতে হবে। বহুমতের চর্চা সমাজকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। এটা যে কোন গণতান্ত্রিক সরকারকে মাথায় রাখতে হবে। গণমাধ্যমকেও বস্তুনিষ্ট ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করতে হবে। জাতীয় স্বার্থে কথা বলতে হবে। কোন দলীয়  বা ব্যক্তি স্বার্থে উদ্দেশ্য প্রণোদিত প্রতিবেদন করা উচিত নয়। এসব দিকে আমাদের সাংবাদিকদের সচেতন হতে হবে। বর্তমানে নিউ মিডিয়া অর্থাৎ সামাাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে গুজব ও অসত্য তথ্য প্রচারিত হচ্ছে। যা অনেকের ক্ষতির বড় কারণ হচ্ছে। বিশেষ করে নারী সমাজের জন্য বড় হুমকি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে সামাজিক মাধ্যম। এখানে সবাইকে সতর্ক হতে হবে। সরকারকে এখানে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। স্বাধীন সাংবাদিকতা চর্চায় পেশাগত ঐক্যের মাধ্যমে সবর্দা সোচ্চার থাকতে হবে। 

ভোরের পাতা: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ
সবুজ ইউনুসঃ আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Vorer-pata-23-12-23.gif
http://www.dailyvorerpata.com/ad/bb.jpg
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Screenshot_1.jpg
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]