শনিবার ২ মার্চ ২০২৪ ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০

শিরোনাম: অভিশ্রুতি নাকি বৃষ্টি ? পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মিলবে লাশ     গাউসুল আজম মার্কেটে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে    জাতীয় সংসদে অফশোর ব্যাংকিং বিল উত্থাপন    আমরা উন্নত চিকিৎসার জন্য একটা সুন্দর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছি : স্বাস্থ্যমন্ত্রী    ক্রিকেটেই মনোযোগ দিতে চান গৌতম গম্ভীর     ডিসি সম্মেলনের মূল ইস্যুই হচ্ছে নির্বাচনী ইশতেহারের বাস্তবায়ন    পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে এসেছে শ্রীলঙ্কা দল   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
৭ই মার্চ বাঙালীর সকল স্মরণীয় দিনের মাতৃদিবস
শাহাবুদ্দিন
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ মার্চ, ২০২৩, ১২:৩২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

ঐতিহাসিক গুরুত্বঃ বাঙালীর সারে চার হাজার বছরের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের মত এত বিশাল গনজাগরণ সৃষ্টি হয়নি এবং বাঙালীর সাড়ে চার হাজার বছরের ইতিহাসে আর কোন বাঙালী নেতা  শেখ মুজিবের মত বিদ্রোহের তীব্র আবেগ মিশ্রিত অনলবর্ষী জ্বালাময়ী ভাষন দিয়েছে বলে বাঙালীর ইতিহাসে উল্লেখ নাই। ৭ই মার্চের শেখ মুজিবের এই দুনিয়া কাঁপানো ঐন্দ্রজালিক  অগ্নিঝরা ভাষন হাজার বছরের একটি পরাধীন, ভীতু, জাতিকে বিশ্বের অন্যতম এক সাহসী ও লড়াকু  জাতিতে পরিণত করেছিল। তাই শুধু এই ভাষন ১৯৫২-১৯৭১ সাল পর্যন্ত  নয়। এই দিনটি আমার মতে বাঙালীর যত ঐতিহাসিক দিবস আছে তার সবগুলোর মাতৃদিবস। কারণ ৭ই মার্চ যদি বাঙালীর জাতীয় জীবনে না আসতো তাহলে বাঙালীর জীবনে ২৬শে মার্চ আসতোনা, ২৬শে মার্চ না আসলে, ১৬ই ডিসেম্বর আসতোনা, ১৬ই ডিসেম্বর না আসলে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটতোনা, লাল-সবুজের বিজয় পতাকা বিশ্বের বুকে উড়তোনা। ২১শে ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষিত হতনা। ১লা বৈশাখ বাঙালীর সার্বজনীন দিবসে পরিণত হতনা। শেখ মুজিব যদি ৭ই মার্চের ভাষনের অগ্নি বীনায় মুক্তির সুর না তুলতো বাঙালীর পায়ে এখনো ক্রীতদাসের শৃঙ্খল বাঁধা থাকতো। বাঙালী রমনীরা প্রধানমন্ত্রী হতে পারতোনা,বাঙালী রাষ্ট্রপতি, রাষ্ট্রদূত, জেনারেল, এ্যাডমিরাল, এয়ার মার্শাল হতে পারতোনা। এক কথায় বাঙালী কিছুই হতোনা। 

ভাষার গন্ডি পেরিয়ে উপমহাদেশে ৭ই মার্চের ভাষনের সার্বজনীনতা ও আবেদন। 

বহু বছর ধরে  জার্মানীতে বাস করছি। পৃথিবীর অন্যান্য উন্নত দেশের মত জার্মানীও বিভিন্ন জাতির অভিবাসী বাস করে, তাই এই দেশটাও বহু জাতিক, বহু সংস্কৃতির দেশ। উপমহাদেশের সকল জাতির অভিবাসী আছে জার্মানীতে। এখানে ভারতীয়,পাকিস্তানী, শ্রীলংকা, ভুটান, নেপাল, বার্মা ও মালদ্বীপের সকল জাতিগোষ্ঠীর অভিবাসী বাস করে। যার ফলে উপমহাদেশের অনেক জাতির অনেক লোকের সাথে প্রতিবশী হিসেবে, কলিগ হিসেবে, গ্রোসারী বা রেষ্টুরেন্টের গেস্ট হিসেবে আমার পরিচয় ও বন্ধুত্ব আছে। আমার এই বহুজাতিক পরিচিত ও বন্ধু মহলে বলতে গেলে প্রায় সবাই  শিক্ষিত,সজ্জন  ও রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তি। এদের মধ্যে অনেকের সাথে পারিবারিক বন্ধুত্ব আছে, অবসরে বা ছুটির দিনে জম্পেশ আড্ডা চলে। সে আড্ডা প্রায়ই বহুমুখী হয়। একেক সময়ে একেক বিষয়ে হয়, স্পোর্টস,  সঙ্গীত,সিনেমা,কৌতুক, ধর্ম, ইতিহাস থেকে রাজনীতি, অর্থনীতি পর্যন্ত গড়ায়।

তবে বেশীরভাগ চলমান বিশ্ব রাজনীতি নিয়েই আলাপ আলোচনা হয়। 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও তার ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক  ভাষন নিয়ে এ রকম কয়েকটি  কথাবার্তা এখানে তুলে ধরছি। এর থেকে অনুধাবন করা যাবে উপমহাদেশে এ মহাকাব্যিক  ভাষনের সার্বজনীনতা ও আবেদন।

একবার আমার এক পান্জাবী (শিখ) বন্ধু জার্মানীতে চিকিৎসা ও বেড়াতে আসা তার পিতাকে নিয়ে আমার বাসায় এলো। আমার ঘরের দেওয়ালে টাঙানো  বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষনের একটি প্রতিকৃতি দেখেই পাগড়ি পরিহিত বন্ধু পিতা সর্দার জী "মুজিবুর রহমান" বলে হাল্কা  স্যালুট দিল। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম " আন্কেল ডু ইউ নো মুজিবুর রহমান? ষাটোর্ধ শক্ত সামর্থ্য  বৃদ্ধ সর্দার স্মিথ হেঁসে হিন্দিতে জবাব দিল "তোম পাগল হো ইয়ার। মুজিবুর রহমান যেচে মহান নেতাকো কৌন নেহী জানতা? (মুজিবুর রহমানের মত এত বড় নেতাকে কে না জানে?) তিনি বল্লেন মুজিবুর রহমান সিংহ পুরুষ, সিংহ নিনাদের মত তার গলার আওয়াজে যাদু আছে। কথায় কথায় জানালেন তার ছোট ভাই, আমার বন্ধু বলজিৎ সিংএর চাচা ১৯৭১ সালে ভারতীয় প্যারাট্রিপার কম্যান্ডো ব্যাটেলিয়নের ক্যাপ্টেন হিসেবে টাঙ্গাইলে অবতরণ করেছিল। তিনি বলছিলেন ৭১এর মার্চে তিনি তার নিজ শহর পাঞ্জাবের চন্ডীগড়ের উপকন্ঠে তার গ্রামের বাড়ীতে ছিলেন, তিনি ছয়ই মার্চ চন্ডীগড়ের একটি স্হানীয় পান্জাবী পত্রিকায় মুজিবের ছবি সহ হেডলাইন ছিল " পাকিস্তান বেচাঁন হে মুজিবুর রহমান কাল মশরিকি পাকিস্তানকো আজাদী এলান কর সাকতে হুঁ"। (পাকিস্তান অশান্ত, মুজিবুর রহমান আগামীকাল পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা করতে পারে।") ৭ই মার্চ অল ইন্ডিয়া আকাশবাণী রেডিও ভাষনটি পাকিস্তানি রেডিও থেকে প্রচার করবে এই রকম শুনা যাচ্ছিল। ৭ই মার্চ সমগ্র চন্ডিগড় শহরে ও শহরের বাইরে যেখানে রেডিও সেখানেই মানুষের ভীড় লেগে গেলো। কিন্তু মুজিবুর রহমানের ভাষন শুরুর আগেই ধারা বর্ননা হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল। এর ফলে অনেকে আশাংকা করছিল, পাকিস্তানীরা ঢাকায় হয়ত জালিয়ানওয়ালাবাগ সৃষ্টি করেছে। যাইহোক, তারপরের দিন ৮ই মার্চ ভাষনটি প্রথমে সকাল ১০টার খবরের মাঝখানে অংশ বিশেষ প্রচার করলো, এবং বলা হলো খবরের পরপরই ভাষনটি প্রচার করা হবে। যব, ভাষনকা প্রচারণ শুরু হওয়াতো,  একিন মানো পুত্তর  ইয়াহিয়া, ভুট্টো, মার্শাল ল,মেজরিটি এই রকম কয়েকটি শব্দ ছাড়া আমরা একটা শব্দও বুঝতেছিনা তবুও মুজিবুর রহমানের গলার আওয়াজে আমাদের রক্ত গরম হয়ে গেল, শরীরের সব লোম খাড়া হয়ে গেল। 

এই ভাষনের উপর আরেকটি মজার ঘটনা এখানে উল্লেখ করছি। একবার আমার বাসার সন্নিকটে একটি সপিং সেন্টারের প্যাসেজে অবস্থিত একটি কফি বেকারীতে কফি নিয়ে দুইজন বন্ধুর জন্য অপেক্ষা করছিলাম, কফি পান করতে করতে মোবাইলে ব্রাউজিং করছিলাম এমন সময় পাঁচজন পরিচিত  পাকিস্তানি  ডুকলো কফি বেকারীতে। তারমধ্য তিনজন আমার পরিচিত এদের মধ্যে দুই জন বেলুচী। আমাকে দেখেই হাত তুলে মুচকি হাসি দিয়ে শুভেচ্ছা জানালো, আমিও হাত তুলে মুচকি হাসি দিয়ে শুভেচছার জবাব দিলাম। তারা আমার এক টেবিল পরেই লম্বা ডিম্বাকৃতির টেবিলে বসল। আমি ফেইসবুকে ব্রাউজিং করতে গিয়ে হঠাৎ করে ক্ষনিকের জন্য  বেজে উঠলো ৭ই মার্চের ভাষন :পাকিস্তানিরা আমার দিকে তাকালো, তাদের মধ্যে ইউসুফ আমাকে বল্লো "ভাই ইয়েতো মুজিবুর রহমানকা আওয়াজ হে"। ভাই এটাতো মুজিবুর রহমানের কন্ঠ।  আমি বল্লাম ইয়েস, হাউ ডিড ইউ আন্ডারস্টেন্ড? আমি উর্দু বুঝি এবং বলতে পারি কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে বলিনা। যাইহোক, পাকিস্তানি পাঠান ইউসুফ খান উত্তর দিল "ভাই ইয়ে আওয়াজতো বহুত মশহুর হ্যায় কৌন নেহী জানতায়? এক সেকেন্ড মে সমজমে আতেহুঁ ইয়ে মুজিবুর রহমানকা আওয়াজ হে" (ভাই, এই কন্ঠ বিখ্যাত, কে না জানে? এক সেকেন্ডেই বোঝা যায় এটা মুজিবুর রহমানের কণ্ঠ)। তারপর তারা সোৎসাহে তাদের টেবিলে আমন্ত্রণ জানিয়ে আমাকে ইউসুফ  বল্লো :  কাম হিয়ার শাহাব ভাই, লেট আস হিয়ার দি রোয়ার অব দ্যা লায়ন অব বেঙ্গাল। আমি তাদের টেবিলে গেলাম ভাষনটি বাজালাম, তারা কি বুজলো, না বুঝলো জানিনা, মাথা নাড়ছে, হাত মুষ্টি করে একজনে (বেলুচি রাজ্জাক)বল্লো ওয়াউ-- --কিতনে তাগদওয়ালা যাদুয়ী আওয়াজ হে ভাই, (কি শক্তিশালী যাদুকরী কন্ঠ)  সে আরো বল্লো এ ভাষন সে ইউটিউবে উর্দু সাবটাইটেল এর আগেও শুনেছে। সে বল্লো ইয়াহিয়া ভুট্টোকা খোশ কিশমত হে মুজিবুর রহমান ইয়ে তাকরির উর্দু মে নেহি কিয়া, আগর ও উর্দু মে দেতে হুঁ পাকিস্তান মে সয়লাব আ যাতা হা। ইয়াহিয়া ভুট্টো বহিরা আরব মে বাহা যাতা হ্যায়।( তারা আরো বল্লো, ইয়াহিয়া, ভুট্টো ভাগ্যবান যে মুজিবুর রহমান এই ভাষণ উর্দুতে দেয় নাই, তিনি যদি উর্দুতে দিতেন তাহলে পাকিস্তানে প্লাবন এসে যেতো ইয়াহিয়া ভুট্টো আরব সাগরে ভেসে যেত।" অতএব, এর থেকে এটাই পরিস্কার প্রতিয়মান হয় যে, ভাষার গন্ডি পেরিয়ে এ মহাকাব্যিক ভাষনের আবেদন উপমহাদেশের সকল জাতির হৃদয় স্পর্শ করেছিল। তার ঐতিহাসিক বাস্তব প্রমান হচ্ছে ১৯৭২ সালে পাকিস্তানি কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দিল্লির পালাম বন্দরের নাগরিক সংবর্ধনার বিশাল সমাবেশে ইন্দিরা গান্ধীর পাচে দাঁড়িয়ে যখন তিনি ইংরেজিতে লেডিস এন্ড জেন্টেলম্যান প্রেজেন্ট  বলে যেইনা ইংরেজিতে   ভাষন শুরু করতে যাবেন, তখনি জনসমুদ্র থেকে দাবি উঠলো বাংলায় ভাষন দেবার জন্য। কারণ ৭ই মার্চের ভাষন উপমহাদেশের সকল ভাষাভাষী মানুষের মনে এক অদ্ভুত আবেদন সৃষ্টি করেছিল।  তাই ইউনেস্কো এই মহান ভাষনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের নিদর্শন ঘোষণা বাস্তবসম্মত। 



৭ই মার্চ আর জয়বাংলাকে বিএনপি জামাতের এড়িয়ে যাওয়ার আসল কারণ: শুরুতেই উল্লেখ করেছি যে অগ্নিবীণার মত এ মহাকাব্যিক ভাষনে স্বাধীনতার অগ্নিমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়েছিল হাজার বছরের শোষিত, বঞ্চিত, ভীতু বাঙালী। এ ভাষনের দিকনির্দেশিত পথে মুক্তিপাগল বাঙালী স্বাধীনতার জন্য মরণপণ লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, অত্যাধুনিক মারণাস্ত্রে সজ্জিত একটি ম্যাকানাইজড বর্বর সৈন্য বাহিনীকে পরাজিত করে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয় এনেছিল। তাই এই ৭ই মার্চ ও জয়বাংলা যদি ৭০/৭১ এর মত স্বতঃস্ফূর্ত সার্বজনীনতা লাভ করে তাহলে বাঙালী জাতি আবারও দেশপ্রেমের উন্মাদনায় আবারও ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলবে বাংলাদেশ বিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে। ৭ই মার্চ আর "জয়বাংলা" রণধ্বনী  বাঙালির প্রাণ ভোমরা। এই দুটি  বাঙালীর অগ্রগতি ও অস্তিত্বের সারথী, অবিনাশী প্রেরণা। এই দুইটি সার্বজনীন হোক তা বাংলাদেশ বিরোধী অপশক্তি বিএনপি জামাত চায়না। তাই তারা ২৬শে মার্চ, ১৬ই ডিসেম্বর, ২১শে ফেব্রুয়ারী, ১লা বৈশাখ পালন করে কিন্তু ৭ই মার্চ পালন করেনা, বাঙালির অবিনাশী চেতনার রণধ্বনী  "জয়বাংলা" উচ্চারণ করেনা। এই মহান দিবসকে এবং এই মহান শ্লোগানকে তাদের বড় ভয়। 

৭ই মার্চই আসল স্বাধীনতা দিবসঃ জানিনা বঙ্গবন্ধু সরকার কেন ২৬শে মার্চকে স্বাধীনতা দিবস ঘোষণা করলেন। অনেকে বলে থাকেন বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা করেন নি। ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে ঘোষণা করেছেন তাই ২৬শে মার্চকে স্বাধীনতা দিবস ঘোষণা করা হয়। আসলে জাতির জনক ৭ই মার্চের ভাষনে স্বাধীনতা ঘোষণার কিছু বাকি রাখেননি, মূলতঃ এই ভাষনের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী, ২৫শে মার্চের পাকিস্তানি আক্রমণের মূখে ঢাকার রাজারবাগ ও চট্টগ্রাম  দামপাড়া পুলিশ লাইন, পীল খানা আর চট্টগ্রাম  ইপিআর বেস থেকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, জয়দেবপুর থেকে প্রত্যক্ষ স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়, ৭ই মার্চের ভাষনের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী। বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধের বিভিন্ন  দলিল পত্র সহ দেশ বিদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বিভিন্ন প্রামাণ্য দলিল, ভিডিও ক্লিপ, বই,  প্রবন্ধ, আর্টিকেল ইত্যাদি  ঘাঁটাঘাঁটি করে আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে জাতির জনক যে ঘোষণা দিয়েছেিলেন সেটা ছিল মূলতঃ যুদ্ধের ঘোষণা। অর্থাৎ ৭ই মার্চে ঘোষিত স্বাধীনতাকে বাস্তবায়ন করার জন্য ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পড়ে দেখুন হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত মুক্তিযুদ্ধের দলিলের প্রথম খন্ডেের প্রথম পাতায় "স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা" "Declaration of war of Independence" এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ আছে শুধু "স্বাধীনতা নয়" স্বাধীনতা "যুদ্ধেে"র ( War of Independence)।

তার আরেকটি প্রমান হচ্ছে : তৎকালীন বিবিসি"র  সাংবাদিক আতাউস সামাদ তার একটা লেখাতে দাবী করেছেন যে, ২৫শে মার্চের কালো রাতে জাতির জনকের সাথে  সর্বশেষ যে ব্যক্তি দেখা করতে গিয়েছেন সেই ব্যক্তি হচ্ছেন তিনি নিজে : তিনি লিখেছেন, তখন ব্ল্যাক আউটে করালগ্রাসে ঢাকা নগরী অন্ধকার, পাকিস্তানি হানাদার কতৃপক্ষ  ঢাকা নগরে নরকের দরজা উন্মুক্ত করে দিয়েছে, ট্যান্কের গোলা ছুঁড়তে, ছুঁড়তে রক্তপিপাসু দানবেরা ক্যান্টনমেন্ট থেকে বেড়িয়ে আসছে। চারিদিকে   আক্রান্ত মানুষের আর্তনাদ, বিদ্যুত চমকানির মত ট্রেসার বুলেটের আলো আঁধারি। কামানের গোলার প্রচন্ড আওয়াজ আকাশে লক লকিয়ে ভেসে উঠছে আগুনের লেলিহান শিখা, ধোঁয়ার কুন্ডলী এমনি সময় ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরে সাংবাদিক আতাউস সামাদ দ্রুত গতিতে ডুকলেন, বঙ্গবন্ধু তাকে দেখে উত্তেজিত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলেন, এই সময় তুমি এখানে?  তাকে এক প্রকার ধাক্কাতে ধাক্কাতে গেটের কাছে নিয়ে গিয়ে বঙ্গবন্ধু  বল্লেন, সময় বেশী নাই বাঁচতে চাইলে এই স্হান এক্ষুনি ত্যাগ কর। আতাউস সামাদ প্রায় জোর করে জিজ্ঞেস করলেন,আপনি যাবেন না লিডার? আমি আমার দেশবাসীকে ফেলে যেতে পারিনা: আই গেইভ ইউ ফ্রীডম, নাউ ইউ প্রটেক্ট ইট। স্পষ্টতইঃ যুদ্ধের নির্দেশ। ৭ই মার্চে তিনি এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। জয়বাংলা বলে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, যুদ্ধের প্রস্তুতির কথা বলেছেন আর ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন।

লেখক: সাবেক সভাপতি, জার্মান আওয়ামী লীগ
 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Vorer-pata-23-12-23.gif
http://www.dailyvorerpata.com/ad/bb.jpg
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Screenshot_1.jpg
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]