শুক্রবার ২৭ জানুয়ারি ২০২৩ ১৩ মাঘ ১৪২৯

শিরোনাম: ডিসিদের ক্ষমতার অপপ্রয়োগ যেন না হয়: রাষ্ট্রপতি    ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের প্রধান হাতিয়ার ডিজিটাল সংযোগ: প্রধানমন্ত্রী    প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে    ইজতেমা ময়দান প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করল সাদ অনুসারীরা    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ১৯ ফেব্রুয়ারি    ইউএনওর হাতে সাব-রেজিস্ট্রার লাঞ্ছিত: ব্যবস্থা নিতে আইন মন্ত্রণালয়ের চিঠি    বিশ্বে একদিনে করোনায় শনাক্ত পৌনে ২ লাখ   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
পিতার অসাধারণ বীজমন্ত্র, সন্তান শেখ রাসেলের রক্তে বিদ্যমান ছিল
সাবেরা শরমিন হক
প্রকাশ: সোমবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২২, ২:২৯ এএম | অনলাইন সংস্করণ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর ঢাকায় ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবনে জন্ম গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু তাঁর প্রিয় লেখক খ্যাতিমান দার্শনিক ও নোবেল বিজয়ী ব্যক্তিত্ব বার্ট্রান্ড রাসেলের নামানুসারে পরিবারের নতুন সদস্যের নাম রাখেন ‘রাসেল’। এই নামকরণে মা বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শৈশব থেকেই দুরন্ত প্রাণবন্ত রাসেল ছিলেন পরিবারের সবার অতি আদরের। কিন্তু মাত্র দেড় বছর বয়স থেকেই প্রিয় পিতার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের একমাত্র স্থান হয়ে ওঠে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ও ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট। তবে সাত বছর বয়সে ১৯৭১ সালে তিনি নিজেই বন্দি হয়ে যান।

শেখ রাসেলের ভুবন ছিল তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মাতা বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, বোন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এবং ভাই শেখ কামাল ও শেখ জামালকে ঘিরে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে দেশি-বিদেশি চক্রান্তে পরিবারের সদস্যদের সাথে শেখ রাসেলকেও হত্যা করা হয়। তখন রাসেল ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।রাসেলও সুতীব্র চিৎকার, মুষ্টিবদ্ধ হাতে ব্যক্ত করেছিল তার জন্মগত অধিকার, বেঁচে থাকার অধিকার, হ্যাঁ নিরাপদ পৃথিবীর অধিকার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমৃত্যু লড়াই করে আদায় করেছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের মাটি ও মানুষের যৌক্তিক দাবি। বাংলাদেশ নামক ভূ-খণ্ড নির্মাণের মধ্য দিয়ে নিশ্চিত করেছিলেন প্রতিটি মানুষের স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সেই কালোরাতে স্বাধীনতাবিরোধী দেশদ্রোহী মীরজাফরদের হাতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার, দেশনায়ক বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবার, অলৌকিকভাবে বেঁচে যান দেশরত্ন দুই কন্যা। সপরিবারে শহীদ হয়ে তিনি দেশপ্রেমের চরম মূল্য দেন। এই নিষ্ঠুরতার এখানেই শেষ নয়।

নৃশংস জানোয়াররা অবুঝ রাসেলকে তার অস্তিত্বের সর্বস্ব বাংলাদেশ নামক সেই রক্তাক্ত ভূলুন্ঠিত মানচিত্র প্রদক্ষিণ করিয়ে, সবশেষে মায়ের কোলে আছড়ে পড়া শিশুটির ছোট্ট হৃৎপিণ্ডের অসীম সম্ভাবনাকে বুলেটের আঘাতে ঝাঁজরা করে ফেলে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সেই ক্ষমাহীন ভয়ংকর রাতের নির্মম অসহনীয় বেদনার সমাধি আজ সুদীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে বাঙালি বহন করে চলছে। বেঁচে থাকলে আজ বাংলার উজ্জ্বল নক্ষত্র রাসেল সোনা ৫৮ বছরে পা রাখতো। হয়ত সে জাতির পিতার মতোই এদেশের আপামর জনগণের কাণ্ডারি হতো। হয়ত জননেত্রী শেখ হাসিনার ছায়াসঙ্গী হয়ে দেশের মানুষের পাশে থাকত অনুক্ষণ।

স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন, ‘জন্মেছিস যখন দাগ রেখে যা’ বিস্ময়কর এই ছোট্ট মানুষটাও পৃথিবীতে এসেছিল দাগ রাখার জন্যই। ১০ বছর নামক সময়ের সীমানায় আবদ্ধ জীবন তারই স্বাক্ষর দেয়। রাসেলের প্রিয় হাসু আপা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার স্মৃতিচারণে অনেক ক্ষুদ্র-বৃহৎ-মহৎ তাৎপর্যপূর্ণ চিহ্ন দৃষ্টিগোচর হয়। এই চিহ্ন অনন্ত প্রত্যাশার দিকেই বারবার তর্জনী তুলে। যাকে বাংলার মাটি ও মানুষ চিরজীবনের জন্য হারিয়ে ফেলেছে কিন্তু তার স্বল্প সময়ের জীবনের উজ্জ্বল প্রতিভার অমূল্য ইতিহাসখণ্ড একটি চিরঞ্জীব নক্ষত্রের মতো প্রজন্ম পরম্পরা আলোর পথ দেখিয়ে যাচ্ছে। বাংলার মাটির সন্তান বঙ্গবন্ধুর মাঠিঘেঁষা মন ও মনন, মাটির মানুষের সঙ্গে যাপিত জীবনের আদর্শিক আবহে ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরের ‘বঙ্গবন্ধু ভবনে’ তার প্রিয় হাসু আপার কক্ষে জন্ম নেওয়া, হাঁটি হাঁটি পা পা করে বেড়ে ওঠা রাসেলের নিষ্পাপ জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত কোনো না কোনোভাবে বিস্ময়কর সাহস, সততা, বিনয় আর নানা শিষ্টাচারের ভেতর দিয়ে অতিবাহিত। বিচিত্র অনুভবে আপ্লুত হই, প্রাণিত হই এই ভেবে যে, এই ছোট্ট মানুষটা এতো মানবিকবোধ, দেশপ্রেম, সাংগঠনিক ক্ষমতাসহ শিষ্টাচারের নানা পাঠ আতস্থ করলো কেমন করে? বিস্মিত হই না যখন বাঙালি জাতির পিতা, বাংলাদেশ নামক স্বাধীন ভূখণ্ডের স্বপ্নদ্রষ্টা, বাস্তবায়নের দ্রষ্টা বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের দিকে তাকাই। পূর্ববঙ্গ তথা স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিটি মাটিকণা, শস্যদানা, জীবজন্তু পশু-পাখি আর মানুষের প্রতি তাঁর ছিল পরম মমতা, চরম দায়িত্ববোধ। আপসহীন দায়বদ্ধতার জন্য বারবার তিনি কারাবরণ করেছেন, নির্যাতিত হয়েছেন, পরিবারকে মৃত্যুঝুঁকিতে ফেলেছেন কিন্তু ভয় পাননি, আশাহত হননি। শেখ রাসেল নামক ছোট্ট মানুষটা তো পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, অবিস্মরণীয় নেতা শেখ মুজিবুর রহমানেরই আত্মজ। সুতরাং পিতার অসাধারণ বীজমন্ত্র, সন্তান শেখ রাসেলের রক্তে বিদ্যমান ছিল এটাই সত্য। 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/dd.jpg
http://dailyvorerpata.com/ad/apon.jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]