রোববার ২৬ জুন ২০২২ ১২ আষাঢ় ১৪২৯

শিরোনাম: পদ্মা সেতুর নাট-বল্টু খুলে ভাইরাল যুবক আটক    সয়াবিন তেলের দাম কমলো    করোনায় আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর    করোনায় আরও ২ জনের মৃত্যু    নিউজিল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে থাকছে পাকিস্তান-বাংলাদেশ    পদ্মা সেতুতে নেমে ছবি তুললেই জরিমানা    তেলের দাম নিয়ে সুখবর দিলেন বাণিজ্য সচিব   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
বাবার স্নেহ, ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত যৌনপল্লীর শিশুরা
আবুল হোসেন, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ জুন, ২০২২, ১০:০৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

বাবা মানে হাজার বিকেল আমার ছেলে বেলে। বাবা মানে রোজ সকালে পুতুল, পুতুল খেলা। বাবা মানে যাচ্ছে ভালো কাটছে ভালো দিন। কবির এই কথা গুলো প্রত্যেকটি শিশুর প্রত্যাশা তাদের বাবা যেন এমনই হয়। কিন্তুু  সমাজে এমনও শিশু রয়েছে, তারা বাবার স্নেহ, আদর ভালোবাসা এমনকি বাবার সাথে পরিচয়, দেখাটুকু হয়নি তাদের।

তেমনি পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত দেশের বৃহত্তম দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে জম্ম নেওয়া শিশুদের। মায়ের আদর ভালোবাসায় চলছে তাদের জীবন। বাবার স্নেহ, আদর ভালোবাসা কেমন তা তারা জানেও না। দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র মিরাজুল ইসলাম আজও বাবার পথ চেয়ে বসে আছে। মায়ের কাছে শুনেছে বাবা তার জন্যে ঈদে নতুন পায়জামা, পাঞ্জাবী আনবে। সাথে ভালো ভালো খাবারও আনবে। বাবা আসলে তার সাথে অনেক আনন্দ করবে। বুক ভরা ভালোবাসা নিয়ে আজও বাবার জন্য অপেক্ষা করছে শিশুটি। ঈদ আসে, আবার চলেও যায়, কিন্তুু বাবা আর নতুন পোশাক নিয়ে আসে না। 

 মিরাজুলের কাছে বাবা সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, বাবা চাকরি করে। বাবার নাম কি জানতে চাইলে গোমড়া হয়ে যায় তার  কোমল মুখটি। বলতে পারে নাই বাবার নামটি। মনে হয় আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে তার মাথার উপর। ফ্যাল ফ্যাল করে  তাকিয়ে থাকে। এভাবেই বাবার জন্য অপেক্ষায় দিন কাটছে মিরাজুলের মতো অনেক শিশুর। 



সরেজমিনে ১৮ জুন শনিবার  গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া যৌনপল্লী সংলগ্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পায়াক্ট বাংলাদেশে দেখাযায়,  সেভ হোমে থাকা শিশু কেও  স্কুলে যাওয়ার প্রস্ততি নিচ্ছে। ছোটরা খেলাধুলা করছে। কেও  ঘুমিয়ে আছে। তাদের মায়েরা যৌন পেশায় থাকায় সন্তানদের কে সেভ হোমে রেখেছে। মিরাজুল, সালমান, কথা, লামইয়াদের বেড়ে উঠা সেভ হোমে। 

দৌলতদিয়া দেশের বৃহত্তম যৌনপল্লী। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার  তালিকা মতে  ১ হাজার ৩শ’র বেশি পেশাদার যৌনকর্মী ও আরো ২ হাজার মানুষের বসবাস এখানে। তাদের সন্তান রয়েছে প্রায় ৭শতাধীক। এখানকার যৌনকর্মীদের গর্ভে সন্তান জন্ম হলেও বাবার ঠিকানা নেই সেসব শিশুদের। ফলে পিতৃপরিচয় ছাড়া বেড়ে উঠাছে তারা।

যৌনপল্লীর বাসিন্দা চাঁদনী  (ছদ্দনাম)  তিনি বলেন, বাবার আদর ভালবাসা তো দুরে থাক, বাবার পরিচয় ও দিতে পারছিনা। বাবার স্নেহ, ভালোবাসা মা হয়ে আমি পূরণ করতে পারি না। সমাজের অন্য সন্তানদের মতো মানুষ করতে পারছিনা। সন্তান যখন বাবার কথা জিজ্ঞেস করে তখন তার প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কঠিন হয়ে যায়।

বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা পায়াক্ট বাংলাদেশের মাদার কেয়ার হাসিনা বেগম বলেন, যৌনপল্লীর শিশুরা বাবার স্নেহ, ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত। অনেক মায়েরা তাদের সন্তানদের বাবার নাম দিতে পারে না। বাবার নাম না থাকায় অনেক  শিশুদের জন্মনিবন্ধন ও স্কুলে ভর্তির জটিলতা দেখা দেয়।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://dailyvorerpata.com/ad/apon.jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]