শুক্রবার ১২ আগস্ট ২০২২ ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯

শিরোনাম: ক্রিকেট নাকি বেটিং, সাকিবকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে: পাপন    জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মন্ত্রণালয়কে বিস্তারিত ব্যাখ্যার নির্দেশ    ডলারের কারণে ভোজ্যতেলের দামে সুফল পাওয়া যাচ্ছে না: বাণিজ্যমন্ত্রী    রাজধানীতে হোটেলে মিলল নারী চিকিৎসকের গলাকাটা লাশ    সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা সম্পর্কে সরকার কেন তথ্য চায়নি: হাইকোর্ট    জম্মু-কাশ্মীরে সেনা ক্যাম্পে হামলা, ৩ সেনাসহ নিহত ৫    বিশ্বব্যাপী বেড়েছে মৃত্যু-শনাক্ত   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
ঢাকার মধু খেয়ে মোখলেছ এখন নরসিংদীতে!
যুব উন্নয়ন অধিদফতরে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের পেছনে টাকার খেলা!
আরিফুর রহমান
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ মে, ২০২২, ১:৪৯ এএম | অনলাইন সংস্করণ

যুব উন্নয়ন অধিদফতরে ১১২ জন নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যে অভিযুক্ত উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. মোখলেছুর রহমানকে বদলি করা হয়েছে। সম্প্রতি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে বদলির আদেশ দেয়। যদিও প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে প্রশাসনিক ‘কাজের সুবিধার্থে’ তাকে বদলির কথা বলা হলেও যুব উন্নয়ন অধিদফতরের মহাপরিচালক আজহারুল ইসলাম খান নিজেই জানিয়েছেন এটি ‘শাস্তিমূলক’ বদলি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৫ নভেম্বর এক অফিস আদেশে ১১২ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে চলতি দায়িত্বে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ ওঠে, নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রায় সবাইকে নিয়ম-বহির্ভূতভাবে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

অধিদফতরের মহাপরিচালক আজহারুল ইসলাম খান অবসরে যাওয়ার পূর্ব মুহূর্তে ২ বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় এই অবৈধ নিয়োগের ঘটনা ঘটে। তবে মহাপরিচালকের পক্ষে উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মো. মোখলেছুর রহমান এই ঘুষ বাণিজ্য করেন। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে দেওয়া এই নিয়োগের ফলে জুনিয়র কর্মকর্তারা সিনিয়র হয়ে যান এবং সিনিয়ররা হয়ে যান জুনিয়র। এতে প্রতিষ্ঠানটিতে চেন অব কমান্ড ভেঙে পড়ে। কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এর মধ্যে জ্যেষ্ঠতার তালিকায় একদম নিচের দিকে থাকা কর্মকর্তাদের ‘পদোন্নতি’ দেওয়া হয়েছে। দেখা গেছে, চলতি দায়িত্বের তালিকায় থাকা উল্লিখিত সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতার ক্রমিক অনেক পেছনে। চলতি দায়িত্বের তালিকায় জ্যেষ্ঠতার তালিকা থেকে ১ ও ২ নং ক্রমিক ঠিক থাকলেও ১১২ জনের এ তালিকার ৩ নং ক্রমিক থেকেই জ্যেষ্ঠতার নিয়ম মানা হয়নি। জ্যেষ্ঠতার তালিকার ৪ নং ব্যক্তি এসএম হাসান ইমামকে আনা হয়েছে ৩ নং ক্রমিকে। প্রকৃতপক্ষে তার স্থলে ছিলেন ছালমান মিয়া। চলতি দায়িত্বের ৪ নং ক্রমিকে আনা হয়েছে জ্যেষ্ঠতার তালিকার ৩৬১ নং ব্যক্তি মো. খলিলুর রহমানকে।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। কমিটি মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে জ্যেষ্ঠতা তালিকা লঙ্ঘন করে অর্থের বিনিময়ে ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে ৩য় শ্রেণির (১১ গ্রেড) ১১২ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে চলতি দায়িত্ব প্রদান, বদলি বাণিজ্য ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে আগামী বৈঠকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়। এরই মধ্যে গত ২০ এপ্রিল প্রজ্ঞাপন জারি করে অভিযুক্ত মো. মোখলেছুর রহমানকে নরসিংদীতে বদলি করা হয়। তবে সর্বশেষ পওয়া তথ্যমতে বদলির আদেশ প্রত্যাহার করে ‘স্বস্থানে’ ফেরার চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।

‘রাজাকারপুত্র’ হিসেবে পরিচিত মোখলেছ উচ্চপর্যায়ে তদবিরের মাধ্যমে নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে চাইছেন। 

এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মেজবাহ উদ্দিন ভোরের পাতাকে বলেন, ‘তাকে (মোখলেছুর) বদলি করা হয়েছে নরসিংদীতে। এটি পরিবর্তনের আর কোনো সুযোগ নেই।’যুব উন্নয়ন অধিদফতরের মহাপরিচালক আজহারুল ইসলাম খান ভোরের পাতাকে বলেন, ‘যখন যে সরকার আসে তখন কিছু পরিবর্তন হয়, এটাই স্বাভাবিক। তিনি (মোখলেছ) যখন চাকরি নিয়েছিলেন সেটা বিএনপি ‘আমল’ ছিল, আর বর্তমানে আওয়ামী লীগের আমল। তার অনৈতিক কাজের জন্য তাকে বদলি করা হয়েছে এবং বিভাগীয় তদন্ত চলছে। শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না।’ 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত মোখলেছুর রহমান পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার পায়না গ্রামের ৫নং ওয়ার্ডের হাফিজ উদ্দিন সরকার ওরফে মফিজ রাজাকারের ছেলে মো. মোখলেছুর রহমান। তার বাবা পিস কমিটির মেম্বার এবং বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। এই মোখলেছুর রহমান ২০০২ সালে মতিউর রহমান নিজামীর সুপারিশে চাকরিতে যোগদান করেন। অথচ গত কয়েক বছরে ভোল পাল্টে বিশাল মুখোশধারী আওয়ামী লীগার বনে যান। বিএনপি আমলে পূর্ববর্তী কর্মস্থল কেরানীগঞ্জে থাকার সময়টা তার কাটে বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমানের ছত্রচ্ছায়ায়। কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে তার কর্মকালীন সময়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও প্রমাণিত। মোখলেসুর রহমানের বাবা রাজাকার ছিলেন- এ কথা নিশ্চিত করেছেন পাবনার বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ডা. আলতাফ হোসেন সরকার। 



তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে ভোরের পাতাকে বলেন, রাজাকার শাবকরা এখন দেশের উচ্চপর্যায়ে বসে আছে আর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা ঘুরছে পথে-ঘাটে। মো. মোখলেসুর রহমানের বদলি বাণিজ্যে যুব উন্নয়ন দফতরে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি কৌশলে নিয়োগ বাণিজ্য করে বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক বনে গেছেন। নিয়োগ কমিটির সদস্য হিসেবে মহাপরিচালককে প্রভাবিত করে বিপুল অংকের ‘বাণিজ্য’ করেন। কর্মচারী নিয়োগে কোনো জেলা কোটা মানা হয়নি। নিজের করা তালিকা অনুযায়ী মেধা কোটা বানিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির পদ দেখিয়ে নিয়োগ দিয়ে দিয়েছেন। অথচ আইন হচ্ছে দ্বিতীয় শ্রেণির পদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। তিনি নিয়োগ ও চলতি দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে সুবিধামতো দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির পদ করেন। 

অথচ মোখলেছের এই অপকর্ম আর স্বেচ্ছাচারের কারণে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন মন্ত্রী, সচিব, মহাপরিচালক। ওপেন সিক্রেট ঘটনা ঘটিয়ে চলতি দায়িত্বের নামে বিপুল অংকের বিনিময়ে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত কর্মচারীদের সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন। মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে দুদক, নিজ মন্ত্রণালয়, সংসদীয় কমিটিসহ একাধিক তদন্ত সংস্থা তদন্ত করলেও অদৃশ্য কারণে সবাই যেন নীরব। তাকে প্রশাসনের চেয়ারে বসিয়ে রাখার কারণে তদন্ত প্রভাবিত করছে। সাক্ষ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডেকে তিনি নাকি হুমকি-ধমকিও দিয়েছেন।

এমনকি মহাপরিচালকের বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘তাকে এই পদ থেকে সরাতে গেলে ডিজি (মহাপরিচালক) নিজেই ফেঁসে যাবেন। তাহলে নাকি থলের বিড়াল বেরিয়ে যাবে। মোখলেসুর রহমান অধিদফতরের সিনিয়র কর্মকর্তাদের অবলীলায় তুচ্ছ তাচ্ছিল্য, অপমান ও অপদস্থ করে কথা বলতে দ্বিধা করেন না। কর্মচারীদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে অধিদফতরকে এক নাজুক পরিস্থিতির সম্মুখীন করেছেন। 

এদিকে তার এই বদলির খবরে যুব উন্নয়ন অধিদফতরের একাধিক কর্মকর্তা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং তারা মোখলেছুর রহমানের স্থায়ী বরখাস্তের দাবি জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে যেন স্বাধীনতা বিরোধীদের সন্তানরা যুব উন্নয়ন অধিদফতরের মতো প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসতে না পারে সেদিকেও খেয়াল রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছেন।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://dailyvorerpata.com/ad/apon.jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]