প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৪ পিএম (ভিজিট : ১৪৮)

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদী থেকে রাতের আঁধারে ড্রেজার দিয়ে বালু চুরির অপরাধে চুরির কাজে ব্যবহৃত ড্রেজারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ পুলিশ। এ সময় বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত এম-০১-২৬২২ নামে একটি কাটিং ড্রেজার, একটি অ্যাঙ্কর বোট, একটি হাউজ বোট, প্রায় এক হাজার ফুট পাইপ এবং আনুমানিক ৭ হাজার ৫০০ ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার রাতে সোনারগাঁওয়ের বৈদ্যেরবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন আনন্দবাজার এলাকার ছনপাড়া গ্রামের পূর্ব পাশে মেঘনা নদীতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ড্রেজারের গিজার আব্দুল খালেক (২৪), লিভারম্যান আমিরুল ইসলাম (৫২) ও মো. জাহিদুল ইসলাম(২১)। এ ঘটনায় আবু মুকিত শুভ, শাহ আলম, চঞ্চল, সোহাঙ্গীর ও এনামসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন।
জানা গেছে, সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের আনন্দবাজার ছনপাড়া এলাকায় বিগত এক সপ্তাহ যাবত গভীর রাতে ওই এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল বালু কাটার ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু চুরি করে আসছিল। চুরি করে উত্তোলন করা এ বালু পার্শ্ববর্তী ট্রেড এগ্রো নামে একটি প্রজেক্টে ফেলা হচ্ছিল।
এ বালু চুরি সিন্ডিকেটের সাথে স্থানীয় বিএনপি নামধারী নেতা মাজহারুল ইসলাম ও তার চাচা সাবেক ইউপি মেম্বার রূপচান ও তাদের সহযোগীরা জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তারা রাতের আঁধারে ১০-১৫টি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছিল। বিআইডব্লিউটি এর বিজ্ঞপ্তিতে মা ইলিশ সংরক্ষণ ও প্রজননের জন্য সারা দেশের নদীতে ড্রেজিং বন্ধ রাখা হলেও সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিএনপির নামধারী নেতা মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে বুধবার সন্ধ্যায় বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ শাহ কামালের নেতৃত্বে উপ-পরিদর্শক আকতার হোসেন ফোর্স নিয়ে আনন্দবাজার ছনপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযুক্ত বিএনপির নামধারী নেতা মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বালু উত্তোলনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। বালু উত্তোলনের সঙ্গে তিনি জড়িত না বলে দাবি করেন।
বৈদ্যেরবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক শাহ কামাল বলেন, পুলিশ ও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে একটি চক্র। বুধবার সন্ধ্যায় নদীতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় ড্রেজার, পাইপ, বোট ও বালু জব্দ করা হয়। এর সাথে কারা জড়িত রয়েছে তা বের করার জন্য তদন্ত চলছে।
সোনারগাঁ থানার ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, মেঘনা নদীতে বালু উত্তোলনের দায়ে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর তাদের বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।