শুক্রবার ● ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ● ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

শিরোনাম: এফবিসিসিআই প্রশাসক ফজলুল হকের নিয়োগ নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত   মাহফুজ হত্যা মামলা: মাই টিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ আদালতের   মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে সম্মতি, তালিকাভুক্ত হচ্ছে ৩৩৮ এজেন্সি   সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল হাইয়ের কফিনে রাষ্ট্রপতি ও ও প্রধানমন্ত্রীর পুস্পস্তবক অপর্ণ করে শ্রদ্ধা    মক্কার মসজিদে অনৈতিক কাজের অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর   কৃষিকে লাভজনক করতে কৃষকের হাতে প্রণোদনা পৌঁছানোর তাগিদ রাষ্ট্রপতির   রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় ভারত ছাড়ার নির্দেশ বলিউড অভিনেতা ইমরান খানকে   
'স্কুলবাসের নিচে রক্তাক্ত ছেলে, গলায় ঝুলছিল আইডি কার্ড'
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫১ এএম   (ভিজিট : ১৯২)

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের জলসিঁড়ি শাখার ক্যাম্পাসে বাসচাপায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সায়ন (৮) নিহতের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তার বাবা সাজু আহমেদ সেলিম। এ দুর্ঘটনার জন্য বাসচালক ও তার সহযোগীর গাফিলতিকে দায়ী করেছেন তিনি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত দাবি জানিয়েছেন নিহত শিশুটির বাবা।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোরে ঢাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে সায়নের মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার মাজপাড়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে পৌঁছান স্বজনরা। পরে সকাল ৯টার দিকে জানাজা শেষে স্থানীয় রামচন্দ্রপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে স্কুল ক্যাম্পাসের ভেতরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শাহরিয়ার সায়ন ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জলসিঁড়ি শাখার দ্বিতীয় শ্রেণির ‘সি’ শাখার শিক্ষার্থী ছিল।

সায়নের বাবা সাজু আহমেদ সেলিম ঢাকার খিলক্ষেতের বটতলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তার স্ত্রী শারমিন খাতুন গৃহিণী। দুই সন্তানের মধ্যে সায়ন ছিল বড়। তার ছোট বোন শাহরিনের বয়স চার বছর।

নিহত শিশুটির চাচা সোহেল রানা জানান, আগামী ১২ নভেম্বর সায়নের নবম জন্মদিন উদযাপনের কথা ছিল। কিন্তু জন্মদিনের আগেই এভাবে তাকে হারাতে হবে, তা কেউ কল্পনাও করেননি। এ ঘটনায় পরিবারের সবাই ভেঙে পড়েছেন। সায়নের বাবা-মাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না স্বজনরা। তার অভিযোগ, বাসচালকের অবহেলার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সায়নের বাবা সাজু আহমেদ সেলিম বলেন, প্রতিদিন বেলা ৩টায় সায়নের ক্লাস শেষ হতো। এরপর বিকেল ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের মধ্যে স্কুলবাস ছেড়ে যেত। দুর্ঘটনার সময় তিনি ধানমন্ডিতে নিজের কর্মস্থলে ছিলেন। বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে স্কুল থেকে ফোন করে তাকে দ্রুত সেখানে যেতে বলা হয়। মোটরসাইকেলে প্রায় ৪০ মিনিটের মধ্যে স্কুলে পৌঁছে তিনি ছেলেকে বাসের নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে স্কুলের পোশাক পরা ছিল, গলায় ঝোলানো ছিল আইডি কার্ড। দৃশ্যটি দেখে মনে হয়েছে, আমার পুরো পৃথিবী অন্ধকার হয়ে গেছে। সেখানে পুলিশ ও সেনাসদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ছেলের মরদেহ বুঝে নিই। পরে স্কুলব্যাগ ও স্কুলের পোশাকও আমাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।’

সাজু আহমেদ সেলিম জানান, পরে স্কুলের অধ্যক্ষের সহায়তায় সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেন তিনি। ফুটেজে একটি বাসকে ক্যাম্পাস থেকে বের হতে দেখা যায়। তবে বাসটিতে কোনো সহকারী ছিলেন না বলে দাবি করেন তিনি। তার ধারণা, ওই সময় সায়ন খেলাধুলা করছিল। বাসটি বাম দিকে মোড় নেওয়ার সময় শিশুটি বাম পাশের চাকার নিচে চাপা পড়ে।

তিনি আরও বলেন, এত বড় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ২০টি বাস ও কয়েক হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এমন পরিবেশে বাস চালানোর সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। ক্যাম্পাসের ভেতরে শিশুদের উপস্থিতিতে সহকারী ছাড়াই বাস চালানো এবং চালকের অসতর্কতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও বাসচালকের দায়িত্বে অবহেলা ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সায়নের বাবা বলেন, ছেলের মরদেহের ময়নাতদন্ত, মামলা পরিচালনার ঝামেলা, চাকরির ব্যস্ততা ও সময়ের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় জড়াতে চাননি। দেশের বিচারব্যবস্থা নিয়েও তার আস্থার সংকট রয়েছে বলে জানান। এ কারণে লিখিতভাবে সম্মতি দিয়ে তিনি সন্তানের মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন।

তবে আইনি পদক্ষেপ না নিলেও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। লিখিত আবেদনে স্কুল কর্তৃপক্ষকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সায়নের বাবা।









  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]