প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ এএম (ভিজিট : ২৬১)

সংগৃহীত ছবি
সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ অবকাশ ছুটি বিচারব্যবস্থার গতি কমিয়ে দিচ্ছে এবং মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। এ পরিস্থিতিতে আদালতের দীর্ঘ ছুটি কমানোর বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা এসব কথা বলেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সুপ্রিম কোর্টের ক্যালেন্ডার পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বছরে ৩৬৫ দিনের প্রায় অর্ধেক সময়ই ছুটি হিসেবে চিহ্নিত থাকে। সরকারি ছুটির পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব দীর্ঘ অবকাশও রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক থাকাকালে ছুটি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ অবকাশের কারণে বিচারব্যবস্থায় শ্লথগতি তৈরি হচ্ছে এবং মামলা নিষ্পত্তি ব্যাহত হচ্ছে।
রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, দীর্ঘ অবকাশের সময় অনেক বিচারপতি তাঁদের রায় কিংবা অসমাপ্ত রায় লিখবেন—এমন প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তব অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর নয়। এই প্রত্যাশাও পূরণ হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, এমন বিচারপতিও রয়েছেন, যাঁরা এক মাসের মধ্যে একটি রায়ও লেখেননি।
অ্যাটর্নি জেনারেলের মতে, সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ ছুটি পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে। তাঁর ভাষায়, এই দীর্ঘ অবকাশ বিচারব্যবস্থার গতি বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।
রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা আশা প্রকাশ করেন, প্রধান বিচারপতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত ছুটির বাইরে সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব যে অতিরিক্ত ছুটি রয়েছে, সেগুলোও পুনর্বিবেচনার আওতায় আনা প্রয়োজন।
অ্যাটর্নি জেনারেল মনে করেন, ছুটি কমিয়ে বিচারকদের আরও বেশি সময় বিচারিক কাজে নিয়োজিত করা গেলে অনিষ্পন্ন মামলা নিষ্পত্তিতে গতি আসবে। এতে বিচারপ্রার্থীদের চাহিদা ও প্রয়োজন অনেকাংশে পূরণ করা সম্ভব হবে।