প্রকাশ: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৩ পিএম (ভিজিট : ৪৬)

সংগৃহীত ছবি
সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী ও মাদারীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাজাহান খান এবং তার ছেলে মো. আসিবুর রহমানকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত। জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৯ কোটি ৮৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫ টাকার সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগে করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবীরের আদালত এ আদেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুর রহমান বাদশাহ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শাজাহান খানের বিরুদ্ধে দুদকের আনা অভিযোগ সত্য নয়। মামলায় একটি ফ্ল্যাটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেটি ব্যাংকঋণের মাধ্যমে কেনা হলেও এর পুরো মূল্য ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে দেখানো হয়েছে। তার বৈধ সম্পদের পরিমাণ দেড় কোটি টাকা এবং ২০১২ সাল থেকে তিনি নিয়মিত ওই সম্পদের কর পরিশোধ করে আসছেন।
এদিন আদালতে হাজির করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শাজাহান খান। এ সময় এনসিপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এনসিপিকে নিয়ে কী বলব, তারা জামায়াতের সঙ্গে মিশে জামায়াতে ইসলামী হয়ে গেছে।’
দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি দুদকের উপপরিচালক কমলেশ মণ্ডল বাদী হয়ে ঢাকা মহানগরের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি করেন।
এজাহারে বলা হয়, আসিবুর রহমানের নামে ৩ কোটি ৬৮ লাখ ৭৮ হাজার ৩৩ টাকার স্থাবর এবং ৭ কোটি ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৭১৪ টাকার অস্থাবর সম্পদ পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে তার অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ৭৫ লাখ ৬৬ হাজার ৭৪৭ টাকা। এর বাইরে পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৫০১ টাকা।
দুদকের অনুসন্ধানে এসব সম্পদ ও ব্যয়ের বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস এবং দায়-দেনার হিসাব পর্যালোচনা করে ৯ কোটি ৮৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, শাজাহান খান নৌপরিবহনমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য থাকাকালে সরকারি দায়িত্বে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রভাব ও আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে ছেলে আসিবুর রহমানকে ওই সম্পদ অর্জনে সহযোগিতা করেছেন। তবে এসব অভিযোগ আদালতে এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।
দুদকের অনুসন্ধানে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শাজাহান খান ও তার পরিবারের সম্পদ ও আয়সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। পরে দুদকের অনুমোদন নিয়ে ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।