রবিবার ● ৪ অক্টোবর ২০২৬ ● ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

শিরোনাম: চাঁপাইনবাবগঞ্জে সৎ ছেলের ছুরিকাঘাতে মায়ের মৃত্যু   বিমানবন্দরে তিন অভিযানে ৬৭ ভরি স্বর্ণসহ আটক ৭   কক্সবাজার সৈকতে সরকারি জমিতে ‘হাঁড়ি’ রেস্টুরেন্ট!   মাঝ আকাশে হামলার শিকার সেই ভারতীয় ‘হিরো’ পাইলটকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন দুবাইয়ের যুবরাজ   সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ফুয়াং ক্লাবে এসআরবি-এনবিআরের অভিযান   ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি প্রকাশ   এশিয়ান গেমসে ব্যর্থতায় ‘জাতির কাছে লজ্জিত’ কোচ সালাউদ্দিন   
চলতি মাসেই চালু হতে পারে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৩ এএম   (ভিজিট : ১৫১)

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

দুই বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য খুলতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। চলতি মাসের দ্বিতীয়ার্ধে নতুন কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে চাহিদাপত্র দেওয়া শুরু করেছেন মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তারা।

একই সঙ্গে লেভি পরিশোধের মাধ্যমে ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (এফডব্লিউসিএমএস) অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকেরা সংবাদমাধ্যম আমার দেশকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ হাইকমিশনকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার বিষয়টি জানানো হয়। পাশাপাশি আগামী ২০ অক্টোবর থেকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) এফডব্লিউসিএমএসে রিক্রুটিং এজেন্সি হিসেবে কাজ করতে পারবে বলেও জানানো হয়েছে।

তবে চাহিদাপত্র পাওয়ার পর কর্মী নির্বাচন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ পরবর্তী কার্যক্রম কখন এবং কীভাবে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পাননি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো। এ কারণে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক জানান, দীর্ঘদিন পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর সম্ভাবনা বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে দ্রুত কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন।

জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার সদস্য ফরিদ আহমদ মজুমদার আমার দেশকে বলেন, নির্ধারিত সময়ে কর্মী পাঠানো সম্ভব না হলে মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তারা বিকল্প দেশ থেকে কর্মী নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের কোটা বরাদ্দ ও ই-অ্যাটেস্টেশন প্রক্রিয়া এগোলেও পরবর্তী কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় নিয়োগকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর অগ্রাধিকার

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমে বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এরই মধ্যে মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে ১৬টি চাহিদাপত্র পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

আগামী ১৬ অক্টোবরের মধ্যে ২০২৪ সালের ৩১ মে আটকে পড়া কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর নতুন কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে এফডব্লিউসিএমএসে রিক্রুটিং এজেন্সি হিসেবে কাজ করতে পারবে বোয়েসেল।

তবে আটকে পড়া কর্মীদের পাঠানো শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করবে না বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বোয়েসেলের এক কর্মকর্তা জানান, এখনো ১২০ থেকে ১৫০ জন কর্মীর মালয়েশিয়ায় যাওয়া বাকি রয়েছে। তাদের পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নিয়োগকর্তাদের চিঠি দেওয়া হবে।

বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল হক আমার দেশকে বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য আটকে পড়া কর্মীদের মধ্যে যারা এখনো যেতে পারেননি, তাদের পাঠানো। আগে এসব কর্মীকে পাঠাতে হবে। ২০ তারিখের পর কী হবে, সেই চিন্তা পরে করব।’

আট হাজার চাহিদাপত্রের অনুমোদন

কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর জন্য নতুন করে প্রায় আট হাজার চাহিদাপত্রের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত মাসে এফডব্লিউসিএমএসের ই-অ্যাম্বাসি মডিউলে বিভিন্ন নিয়োগকর্তার ২১টি আবেদনের মাধ্যমে ৮৯৫ জন কর্মীর চাহিদাপত্র সত্যায়নের জন্য জমা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশি কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বর্তমানে ১৭টি অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার রয়েছে। এর সঙ্গে আরও অন্তত ১৪টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে দুই ধাপে ৩১৮টি আবেদন জমা পড়ে। পরে আবেদনকারী মেডিকেল সেন্টারগুলোর প্রোফাইল মালয়েশিয়া সরকারের কাছে পাঠানো হয়।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘এখনই কিছু মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে খুব শিগগির মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতিবাচক কিছু নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হবে।’

এফডব্লিউসিএমএসে ৩৩৮ বাংলাদেশি এজেন্সির তালিকা

এর আগে গত ২১ আগস্ট ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশের পর নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সিন্ডিকেট গঠনের অভিযোগ ওঠে। পরে ২৮ আগস্ট মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিউসিএমএসে ৩৩৮টি বাংলাদেশি এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করা হয়।

সরকারের অনুরোধে ২৫টি প্রধান এজেন্সির অধীনে ২৫০টি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের অধীনে ৬২টি—মোট ৩১২টি এজেন্সিকে সহযোগী এজেন্সি হিসেবে যুক্ত করা হয়।

তবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের শর্ত অনুযায়ী রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচনে বর্তমান সরকারের সরাসরি ভূমিকা নেই। তাদের ভাষ্য, এসব শর্ত আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল।

বারবার বন্ধ হয়েছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ২০০৮ সালে বন্ধ হওয়ার আট বছর পর ২০১৬ সালে আবার চালু হয়। তবে দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয় দেশটি।

পরবর্তী সময়ে ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর নতুন সমঝোতা চুক্তির পর শ্রমবাজারটি আবার চালু হয়। ২০২২ সালের আগস্ট থেকে বাংলাদেশি কর্মীরা মালয়েশিয়া যেতে শুরু করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১ জুন আবারও বন্ধ হয়ে যায় শ্রমবাজারটি।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক এক বিশেষ বৈঠকে বন্ধ ও সংকুচিত শ্রমবাজারগুলো পুনরায় চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরও ছিল মালয়েশিয়ায়। ওই সফরে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরুর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।










  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]