প্রকাশ: রোববার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৯ এএম (ভিজিট : ৬৩)

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক তিনটি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬৭ ভরি স্বর্ণালংকার, ১০টি মোবাইল ফোন, দুটি ল্যাপটপ ও তিন কার্টন সিগারেটসহ সাতজনকে আটক করেছে এয়ারপোর্ট (১৩) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিমানবন্দর এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। এয়ারপোর্ট এপিবিএন জানায়, বিমানবন্দরের গোলচত্বরের উত্তর পাশে গোপন অভিযান চালানোর সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় এপিবিএনের সদস্যরা পাঁচজনকে আটক করেন। পরে তাদের এপিবিএন কার্যালয়ে নিয়ে শরীর তল্লাশি করে ৪৮৪ দশমিক ২ গ্রাম স্বর্ণালংকার, দুটি ল্যাপটপ, আটটি মোবাইল ফোন ও তিন কার্টন সিগারেট উদ্ধার করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—তোফাজ্জল হোসেন (৩৭), জসিম উদ্দিন (৩৯), আরাফাত হোসাইন (২৮), আরিফ (৪২) ও মো. আলামিন গাজী (৩৭)। অন্যদিকে, বিমানবন্দরের আগমনী ২ নম্বর ক্যানোপির পাশের পাকা সড়কে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরার সময় রূপবান বেগম (৩৯) নামে এক নারীকে আটক করা হয়। পরে তার শরীর তল্লাশি করে ৯৮ দশমিক ৭ গ্রাম স্বর্ণালংকার ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া বিমানবন্দরের মূল প্রবেশপথের গোলচত্বরের পশ্চিম পাশের পাকা সড়ক থেকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরার সময় এম. এ. মতিন (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ১৯৮ দশমিক ৪ গ্রাম স্বর্ণালংকার ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
এপিবিএন জানায়, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারগুলো বিভিন্ন দেশ থেকে অজ্ঞাতনামা যাত্রীদের মাধ্যমে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দরের স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের রিসিভার হিসেবে কাজ করে আসছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় আটক সাতজনের বিরুদ্ধে শনিবার বিমানবন্দর থানায় পৃথক তিনটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ২৫বি(১)(বি)/২৫-ডি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এয়ারপোর্ট (১৩) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের পুলিশ সুপার (অপারেশন্স) মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধ ও অন্যান্য অপরাধ দমনে এয়ারপোর্ট এপিবিএন সক্রিয় রয়েছে। স্বর্ণ ও মাদক চোরাচালানসহ সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।