প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৬ পিএম (ভিজিট : ৭৬)

দীর্ঘ ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর গ্রেপ্তার হওয়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। মামলার নথি ও তদন্তের বিবরণে ওই রাতের ঘটনায় তার ভূমিকার বিস্তারিত উঠে এসেছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ৩০ মে গভীর রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে হামলা চালানো কিলিং স্কোয়াডের সক্রিয় সদস্য ছিলেন মেজর মোজাফফর। হামলার সময় তিনি ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কক্ষের দিকে অগ্রসর হন।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে প্রথমে কক্ষের বাইরে এনে শনাক্ত করেন মেজর মোজাফফর। এরপর তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান বলেও নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তদন্তে বলা হয়, হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর তিনি তৎকালীন চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোনে ইংরেজিতে জানান, "The President has been killed."
১৯৮১ সালের ৩১ মে সরকারি বাহিনী পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলে বিদ্রোহের মূল হোতা মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ অনেককে গ্রেফতার করা হয়। পরে মঞ্জুর নিহত হন। তবে মেজর মোজাফফর হোসেন এবং মেজর এস এম খালেদ সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
পরে জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার বিচার শেষে ১৩ জন সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তাদের একজন ছিলেন মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেন। তবে রায় কার্যকরের আগেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় তিনি ভারতে ছদ্মনামে অবস্থান করেন। নিজের পরিচয় গোপন রাখতে ভুয়া নাম, পরিচয়পত্র ও জাল কাগজপত্র ব্যবহার করেন। পরবর্তী সময়ে ভুয়া নথির মাধ্যমে বিদেশ ভ্রমণও করেছেন বলে গোয়েন্দাদের দাবি।
সম্প্রতি মেয়ের কর্মস্থল ও একটি নির্দিষ্ট বাসার সূত্র ধরে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএসে নজরদারি শুরু করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। নাকের নিচে থাকা একটি জন্মচিহ্ন এবং নিজের মুখে পরিচয় দেওয়ার পর নিশ্চিত হয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, মোজাফফর একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এবং কোর্ট মার্শালে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।