শনিবার ১৮ জুলাই ২০২৬ ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

শিরোনাম: ইরানে মার্কিন বিমান হামলা, প্রাণ গেল আরও ৮ জনের   ফাইনালের আগে আলোচনায় রেফারি, বিশ্বকাপ ভাগ্য নির্ভর করছে রেফারির ওপর!   বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ভ্রমণ বিপর্যয়ে আর্জেন্টিনা   আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন   ক্যাসিনো সম্পর্কে কিছুই জানি না, ছাত্রদল করাই ছিল অপরাধ: জি কে শামীম   পুরোনো প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক, নতুন সফটওয়্যারে দুদক   বিশ্বকাপের ফাইনালে থাকছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প   
পুরোনো প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক, নতুন সফটওয়্যারে দুদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম   (ভিজিট : ৩৫)

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান, তদন্ত ও প্রসিকিউশন কার্যক্রম পুরোপুরি ডিজিটাল ব্যবস্থায় আনার উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তায় তৈরি একটি সফটওয়্যার কার্যকরভাবে চালু না হওয়ায় এখন নতুন করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) তৈরির কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি। তবে আগের প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা নিয়ে দুদকের কর্মকর্তাদের মধ্যেই দেখা দিয়েছে ভিন্নমত।

দুদক সূত্র জানায়, অভিযোগ গ্রহণ থেকে শুরু করে অনুসন্ধান, তদন্ত, মামলা পরিচালনা এবং প্রসিকিউশনের প্রতিটি ধাপকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার লক্ষ্যেই ২০২৩ সালে সফটওয়্যারভিত্তিক ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল ম্যানুয়াল নথি ব্যবস্থাপনার জটিলতা কমানো, কাজের গতি বাড়ানো এবং প্রতিটি অভিযোগের অগ্রগতি সহজে পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি করা।

কিন্তু প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। দুদকের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, সফটওয়্যারটি কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সীমিত পরিসরে ব্যবহার হয়েছে। ফলে সফটওয়্যারটিতে অসংখ্য কারিগরি ত্রুটি থাকায় এটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।

এ ছাড়া কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দুদকের মতো একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে শতাধিক প্রযুক্তিগত সমস্যা শনাক্ত করা হলেও সেগুলোর সমাধান না করেই উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করে চলে যায়। পরে আর প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তাও পাওয়া যায়নি। দুদকের মতো দুর্নীতি দমনকারী একটি প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ত্রুটি সংশোধন সম্পন্ন না করেই এমন প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

দুদকের সাবেক মহাপরিচালক মঈদুল ইসলামের মতে, অনুসন্ধান, তদন্ত ও প্রসিকিউশনের মতো স্পর্শকাতর কার্যক্রম পরিচালনার সফটওয়্যারে বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটি থাকলে তা শুধু সরকারি অর্থের অপচয়ই নয়, তথ্যের নিরাপত্তা, তদন্তের গতি এবং পুরো প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর আগে পর্যাপ্ত পরীক্ষামূলক ব্যবহার, নিরাপত্তা যাচাই এবং ব্যবহারকারীদের মতামতের ভিত্তিতে সফটওয়্যার পরিপূর্ণ করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

দুদকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সফটওয়্যারটি পুরোপুরি কার্যকর না হওয়ায় অনুসন্ধান ও তদন্তের অধিকাংশ কাজ আগের মতোই ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। এতে একটি অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত সময়ে তথ্য জানার সুযোগ থাকে না। তবে এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতেই এবার সরকারি অর্থায়নে কমিশনের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন এমআইএস তৈরি করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন ব্যবস্থায় অভিযোগ গ্রহণ, অনুসন্ধান, তদন্ত, মামলা ও প্রসিকিউশনের প্রতিটি ধাপ একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত থাকবে। অনুমোদিত কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে নথির অগ্রগতি দেখতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। একই সঙ্গে অভিযোগকারীর জন্যও অভিযোগের অবস্থান জানার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

দুদকের কর্মকর্তারা মনে করেন, নতুন সফটওয়্যার সফলভাবে চালু করা গেলে প্রশাসনিক জটিলতা কমবে, কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে এবং দুর্নীতির অভিযোগ নিষ্পত্তির পুরো প্রক্রিয়া আগের তুলনায় আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে।










  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]