শুক্রবার ১৭ জুলাই ২০২৬ ১ শ্রাবণ ১৪৩৩

শিরোনাম: বন্যার আশঙ্কায় ৯ জেলায় আগাম সতর্কতা জারি   বেক্সিমকোর ঋণ জালিয়াতি: জনতা ব্যাংকের ১০ কর্মকর্তাকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ   বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া, সর্বনিম্নই ৮ হাজার ডলারের কাছাকাছি   সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করল ঢাকা উত্তর সিটি   জান্নাতের ১০ মহা নেয়ামত, যা মুমিনকে অভিভূত করবে   ফুটবলের সঙ্গে মানবিকতার জয়, ফিলিস্তিনিদের পাশে নরওয়ে   নতুন নৌবাহিনী প্রধান হলেন রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম   
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী, কে এই মোজাফফর?
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৫ পিএম   (ভিজিট : ১৯৮)

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৪৫ বছর ধরে পলাতক অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে বনানী ডিওএইচএস থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা গেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ও ৪৫ বছর ধরে পলাতক অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে ডিবি পুলিশ আটক করেছে। পরে তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের ভয়াল রাত

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোর ৪টার দিকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অতর্কিত হামলা চালায় সেনাবাহিনীর একদল সদস্য। উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, হামলায় ব্যবহৃত হয় ১১টি সাবমেশিনগান, ৩টি রকেট লঞ্চার ও ৩টি গ্রেনেড ফায়ারিং রাইফেল। হামলায় জিয়াউর রহমান ছাড়াও লে. কর্নেল আ.ক.ম. মঈনুল আহসান, ক্যাপ্টেন আশরাফুল হাফিজ খানসহ মোট ৮ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও তৎকালীন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দিন এম. চৌধুরী তার ‘দুই জেনারেলের হত্যাকাণ্ড’ বইতে লিখেছেন, ভোররাতে গোলাগুলির আওয়াজে তার ঘুম ভাঙে। সার্কিট হাউজের এক সহকারী প্রটোকল অফিসার তাকে জানান, ভোর চারটার দিকে সেনাবাহিনীর কয়েকটি গাড়ি গুলি করতে করতে সার্কিট হাউজে প্রবেশ করে এবং সিঁড়ি বেয়ে ওপরে রাষ্ট্রপতির কক্ষের দিকে যায়। কিছুক্ষণ পর আবার গুলির শব্দ শোনা যায়।

কারা অংশ নিয়েছিল?

প্রত্যক্ষ হামলাকারী দলে ছিল ১৬ জন সামরিক কর্মকর্তা ও কিছু সংখ্যক সাধারণ সৈনিক। উইকিপিডিয়ায় তালিকাভুক্ত হামলাকারীদের মধ্যে রয়েছেন, লে. কর্নেল মতিউর রহমান, মেজর স.ম. খালেদ, লে. কর্নেল শাহ মো. ফজলে হোসেন, মেজর মোজাফফর হোসেন, ক্যাপ্টেন জামিল হক, ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, মেজর আ.জ. গিয়াসউদ্দীন আহমেদ, ক্যাপ্টেন সৈয়দ মোহাম্মদ মুনীর, লে. রফিকুল হাসান খান প্রমুখ। 

হত্যাকাণ্ডের দুই দিনের মধ্যে বিদ্রোহ দমন করা হয়। পরবর্তীতে সামরিক আদালতে কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে ১২ জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়, প্রশ্ন হলো এই সেনা কর্মকর্তারা কি সত্যিই নিজেরাই হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন, নাকি তাদের পেছনে আরও বড় কেউ ছিল?

৪৫ বছরেও বিচার হয়নি কেন?

জিয়া হত্যার বিচারের নামে যা হয়েছে, তা ছিল সামরিক আদালতের সংক্ষিপ্ত বিচার (কোর্ট মার্শাল)। পুলিশ বাদী হয়ে চট্টগ্রামের আদালতে মামলা দায়ের করলেও সিভিল ট্রায়াল কখনোই সম্পন্ন হয়নি। মেজর জেনারেল মঞ্জুর হত্যা মামলার বিচারও দীর্ঘ ২৭ বছরেও শেষ হয়নি।

তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার অভিযোগ পেয়েও ‘ওপরের নির্দেশে’ নীরব থাকেন। আর সেনাপ্রধান এরশাদ নিজেও এই মামলায় আসামি থাকলেও পরবর্তীতে অব্যাহতি পান। মঞ্জুরের ভাই ১৯৯৫ সালে পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু সেই মামলা আজ পর্যন্ত চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।

তাহলে জিয়া হত্যার পেছনে কারা ছিল?

উপলব্ধ তথ্য ও তদন্ত বলছে, জিয়া হত্যাকাণ্ড একটি গভীর ষড়যন্ত্রের ফসল। প্রত্যক্ষ হামলা চালিয়েছিল সেনাবাহিনীর একটি অংশ, কিন্তু সেই হামলার পেছনে ছিল ঊর্ধ্বতন মহলের নির্দেশ ও পৃষ্ঠপোষকতা। এই হত্যাকাণ্ডের সূত্র ধরে যিনি সবচেয়ে বেশি ক্ষমতার কেন্দ্রে পৌঁছান, তিনিই মূল সুবিধাভোগী তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। জিয়া হত্যার পেছনের হোতা ও মঞ্জুরের মুখ বন্ধের নির্দেশদাতা হিসেবে বারবার তার নাম উঠে এসেছে।

৪৫ বছর পেরিয়েও জিয়া হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ সত্য উদঘাটন ও সঠিক বিচার হয়নি বলে আক্ষেপ করছে একটি বড় অংশ। প্রশ্ন থেকেই যায় জিয়া হত্যাকাণ্ডের মূল চক্রীরা কারা? কেন ১৯৮১ সালে মঞ্জুরকে বিচারের মুখোমুখি করে সব সত্য উদঘাটনের সুযোগ দেওয়া হয়নি? আর কেন ৪৫ বছর পরেও এই হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষ হয়নি? এসব প্রশ্নের উত্তর হয়তো আর কখনো জানা যাবে না। কিন্তু যত দিন না এসব প্রশ্নের যথাযথ উত্তর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে, তত দিন জিয়া হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় রহস্য হয়ে থাকবে।










  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]