
যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচিতি থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেছেন আলোচিত ঠিকাদার ও জি.কে.বি. অ্যান্ড কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস.এম গোলাম কিবরিয়া শামীম (জিকে শামীম)। শুধু তাই নয়, পদ পদবীতে না থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনে জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতি ধারণ করেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে রেলওয়ের টেন্ডারসংক্রান্ত ইস্যুতে তাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। এর প্রেক্ষিতে শুক্রবার (১৭ জুলাই) এক লিখিত বিবৃতিতে জিকে শামীম এমন দাবি করেছেন।
বিবৃতিতে জিকে শামীম জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় থেকেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এবং ব্যক্তিগতভাবে জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী একজন সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তবে ব্যক্তিজীবনে কোনো রাজনৈতিক দলের বর্তমান কমিটির সঙ্গে নিজেকে জড়াননি।
যুবলীগের নেতা ছিলেন না দাবি করে বিবৃতিতে তিনি বলেন, তৎকালীন (আওয়ামী লীগ আমলে গ্রেফতারের সময়) যুবলীগ সভাপতিসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারাও অতীতে পরিষ্কার করেছিলেন যে, তিনি কখনোই যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না।
সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘রেলওয়ের বিজ্ঞাপনে একক নিয়ন্ত্রণ চান জিকে শামীম’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিবৃতিতে প্রকাশিত সংবাদটিকে তিনি ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন’ বলেও দাবি করেছেন।
জিকে শামীম বলেন, জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণেই তৎকালীন আওয়ামী সরকার আমাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গ্রেফতার করে। ২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর যখন আমাকে গ্রেফতার করা হয়, তখন আমার প্রায় ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকার কাজ চলমান ছিল। দীর্ঘ ৬ বছর আমি কারাগারে ছিলাম। ওই সময় আমার কনস্ট্রাকশন সাইটের যন্ত্রপাতি লুট করা হয়, চলমান কাজগুলো দখল করে নেওয়া হয় এবং সকল বিল আটকে দিয়ে আমাকে আর্থিকভাবে ধ্বংস করা হয়।
ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে জিকে শামীম বলেন, আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি, আমি কোনো দিন ক্যাসিনো কারবারে সম্পৃক্ত ছিলাম না, ক্যাসিনো কী জিনিস তাও জানি না। আমি ক্যাসিনো খেলেছি বা এই কারবারে জড়িত-এমন কোনো ভিডিও ফুটেজ বা ছবি থাকলে তা জনসমক্ষে প্রকাশের চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি। এমন কোনো প্রমাণ দিতে পারলে আমি ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে রাজি আছি।
রেলওয়ের বিজ্ঞাপনসংক্রান্ত সংবাদের বিষয়ে তিনি বলেন, আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তিনি মাত্র একবার রেল ভবনে গিয়েছিলেন। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। যোগাযোগ ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে অন্য আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মতো তার আবেদনেও একটি সাধারণ সুপারিশ করেছেন, যা কাজ পাওয়ার চূড়ান্ত যোগ্যতা নয়। এখানে কোনো অনৈতিক বা অসততার আশ্রয় নেওয়া হয়নি।
মানিলন্ডারিং বা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি জীবনে কোনো দিন দেশের বাইরে টাকা পাচার করিনি। আমার কোনো সন্তান দেশের বাইরে পড়াশোনা করে না এবং বিদেশে আমার কোনো সম্পদ নেই। আমার যাবতীয় সম্পদ বৈধভাবে অর্জিত এবং আমি দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ করদাতা। ১৯৯১ সাল থেকে দীর্ঘ তিন যুগ ধরে আমার প্রতিষ্ঠান সুনামের সহিত কাজ করে আসছে।