
সংগৃহীত ছবি
বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও নিষিদ্ধ এলাকার ছবি-তথ্য সংগ্রহ করে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামের ফের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুল্লাহ পিয়াসের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির রমনা জোনের পুলিশ পরিদর্শক মো. নুর আলম রবিউলকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, রবিউল দীর্ঘদিন ধরে পর্যটক ও বিজনেস ভিসায় বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে যাতায়াত করতেন। তার পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই করে জন্মতারিখে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। পাসপোর্টে তার জন্মস্থান হিসেবে সৌদি আরবের রিয়াদের নাম উল্লেখ রয়েছে বলেও রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর ১৫ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রবিউল রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থের পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়ান। এ সময় তিনি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও নিষিদ্ধ এলাকার ছবি এবং গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, রবিউলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, পৃষ্ঠপোষক ও অর্থের উৎস সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আগের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য যাচাই, বিদেশি যোগাযোগের বিষয়টি অনুসন্ধান এবং জব্দ করা মুঠোফোনের তথ্য বিশ্লেষণের জন্য তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নম্বর সেক্টরের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে রবিউলকে আটক করে ডিবির রমনা বিভাগের একটি দল। এ সময় তার কাছ থেকে ভারতীয় পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও দুটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়।
পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর আদালত তাকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে ২৭ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে হাজির করে আরও সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
পরবর্তীতে রবিউলের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় সরকারি গোপনীয়তা আইনের ৩, ৩এ, ৪, ৫ ও ৯ ধারায় মামলা করা হয়। গত ১ অক্টোবর দায়ের করা এ মামলার নম্বর ২।
মামলার নথিতে রবিউল ইসলাম (৪৪)-কে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মাটিয়া থানার গৌড়িজোড় এলাকার বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তা পাঠানোর চেষ্টার অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।