বৃহস্পতিবার ● ৮ অক্টোবর ২০২৬ ● ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

শিরোনাম: মদিনায় যেসব স্থানে নামাজ পড়েছেন নবী কারিম (সা.)   ধর্ম-বর্ণ-পরিচয় নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী   বণিকদের আস্থা ও ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে যেতে চান আসাদুজ্জামান   ফিশারিঘাটে মাছ কিনতে নারীদের ভিড়, সভাপতি-বিএফডিসি ব্যবস্থাপকের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন   সামরিক ড্রোন রপ্তানির ৮৬ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের দখলে   ডিসেম্বর ঘিরে নাশকতার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই: ডিবি প্রধান   প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের দোসররা ঘাপটি মেরে আছে: রিজভী   
২২ ব্যাংকের পুঞ্জীভূত লোকসান ২ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৩ পিএম   (ভিজিট : ১২৬)

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

দেশের ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে ২২টি পুঞ্জীভূত লোকসানে রয়েছে। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত এসব ব্যাংকের মোট পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা। একই সময়ে পুরো ব্যাংক খাতে পরিচালন মুনাফা থাকলেও প্রভিশনসহ বিভিন্ন ব্যয় সমন্বয়ের পর নিট লোকসান হয়েছে ৮ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা।

রোববার (৩ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া এক প্রতিবেদনে ব্যাংক খাতের এই চিত্র উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ব্যাংক খাতে পরিচালন মুনাফা ছিল ৭৮৯ কোটি টাকা। তবে উচ্চ শ্রেণিকৃত ঋণ, খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ, মূলধন ঘাটতি ও দুর্বল সম্পদমানের কারণে পরিচালন মুনাফা শেষ পর্যন্ত নিট লোকসানে পরিণত হয়েছে।

লোকসানে থাকা ২২টি ব্যাংকের মধ্যে চারটি রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক—জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংক। বিশেষায়িত ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানও লোকসানে রয়েছে।

বেসরকারি খাতের ১৫টি ব্যাংক পুঞ্জীভূত লোকসানে রয়েছে। এগুলো হলো—এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে, উচ্চ শ্রেণিকৃত ঋণ, প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ, মূলধন ঘাটতি ও দুর্বল সম্পদমান ব্যাংকগুলোর আয়ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে পরিচালন পর্যায়ে মুনাফা থাকলেও বিভিন্ন ব্যয় সমন্বয়ের পর অনেক ব্যাংক নিট লোকসানে চলে যাচ্ছে।

অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার প্রথম আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ব্যাংক খাতে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত দূর করা সম্ভব নয়। বর্তমান লোকসান সেই সমস্যারই ফল। তবে পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, লোকসানে থাকা বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ১২টি ব্যাংকের ৯টি আওয়ামী লীগ সরকারের নেতা ও তাঁদের অনুগত ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এসব ব্যাংকে ব্যাপক অনিয়ম এবং ঋণের নামে অর্থ বের করে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ব্যাংক খাতের অনিয়মের প্রভাব পড়েছে খেলাপি ঋণেও। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, গত ৩০ জুন পর্যন্ত ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ৩৩ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ২২টি ব্যাংক লোকসানে থাকা মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। ব্যাংক খাতের স্বাস্থ্যের অন্যতম সূচক খেলাপি ঋণের হার উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ঋণ খেলাপি হয়ে গেছে। একই সঙ্গে ব্যাংকের এক-তৃতীয়াংশের বেশি লোকসানে রয়েছে। এতে কিছু ব্যাংকের কারণে পুরো আর্থিক খাতের ওপর মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।

এদিকে ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকটও প্রকট হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মার্চ পর্যন্ত ১৫টি ব্যাংক ন্যূনতম মূলধন সংরক্ষণ করতে পারেনি। আর ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১২টি ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা নিয়েছে।

জরুরি তারল্য সহায়তার মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পেয়েছে ১৫ হাজার ৮১০ কোটি টাকা, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ১০ হাজার ৮৪৩ কোটি, এক্সিম ব্যাংক ১২ হাজার ১০ কোটি, ন্যাশনাল ব্যাংক ১০ হাজার ৫৬৮ কোটি, ইউনিয়ন ব্যাংক ৫ হাজার ৪২১ কোটি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ৩ হাজার ৪ কোটি, এবি ব্যাংক ৪ হাজার ২৭০ কোটি, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক ৬১৫ কোটি, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক ২৫২ কোটি, পদ্মা ব্যাংক ২৫২ কোটি, প্রিমিয়ার ব্যাংক ৪ হাজার ৯০০ কোটি এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ১৭ হাজার কোটি টাকা। তবে এসব সহায়তা কত সময়ে দেওয়া হয়েছে, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

বৈঠকে খেলাপি ঋণ স্থায়ীভাবে রোধে সংস্কার প্রস্তাব দেন কমিটির সদস্য ও এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল আলমও দলের পক্ষ থেকে ব্যাংক খাত সংস্কারে লিখিত প্রস্তাব দেন।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সংসদীয় কমিটির কাছে জবাবদিহি করা সরকারের দায়িত্ব এবং কোনো বিষয় লুকানো হবে না। ব্যাংকের পরিচালক ও চেয়ারম্যান নিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থনীতিতে রাজনীতিকরণের সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য সাইফুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, দেশে ব্যাংকের সংখ্যা কমাতে হবে। বাংলাদেশের মতো ছোট দেশে এতগুলো ব্যাংকের প্রয়োজন নেই।

কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, জালাল উদ্দিন, মঈনুল ইসলাম খান, সফিকুর রহমান ও সৈয়দ জয়নুল আবেদীন অংশ নেন।










  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]