
সংগৃহীত ছবি
দেশের অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর মধ্যে বর্তমানে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে রেমিটেন্স বা প্রবাসী আয়। সংকটে থাকা অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এই আয়। আর রেমিটেন্স প্রবাহে সবচেয়ে বড় অবদান রাখছেন সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে মোট রেমিটেন্সের প্রায় এক-পঞ্চমাংশই এসেছে সৌদি আরব থেকে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সোমবার প্রকাশিত দেশভিত্তিক রেমিটেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৮৫৯ কোটি ২৫ লাখ (৮.৫৯ বিলিয়ন) ডলার রেমিটেন্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ প্রবাহ বেড়েছে ১৩ দশমিক ৩০ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রথম তিন মাসে আসা মোট রেমিটেন্সের ১৯ দশমিক ২০ শতাংশই এসেছে সৌদি আরব থেকে। এ সময়ে দেশটি থেকে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১৬৪ কোটি ৯৭ লাখ (১.৬৫ বিলিয়ন) ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে সৌদি আরব থেকে এসেছিল ১২৩ কোটি ১০ লাখ (১.২৩ বিলিয়ন) ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশটি থেকে রেমিটেন্স বেড়েছে ৩৪ শতাংশ।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে মোট ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ৯৪ লাখ (৩৫.৫৯ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স এসেছিল। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকেই এসেছিল সর্বোচ্চ ৫৮৪ কোটি ৮৯ লাখ (৫.৮৫ বিলিয়ন) ডলার, যা ওই অর্থবছরের মোট রেমিটেন্সের ১৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
বাংলাদেশের প্রায় দেড় কোটির বেশি মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি অবস্থান করছেন সৌদি আরবে। পশ্চিম এশিয়ার দেশটিতে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশির কর্মসংস্থান রয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই দেশটি বাংলাদেশের রেমিটেন্সের অন্যতম প্রধান উৎস।
তবে এর আগে টানা দুই অর্থবছর সৌদি আরবকে ছাড়িয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্র রেমিটেন্সের শীর্ষে উঠে আসে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সর্বোচ্চ ৪৬০ কোটি (৪.৬০ বিলিয়ন) ডলার রেমিটেন্স এসেছিল। ওই বছর সৌদি আরব থেকে আসে ২৭৪ কোটি (২.৭৪ বিলিয়ন) ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৯৬ কোটি (২.৯৬ বিলিয়ন) ডলার।
পরের অর্থবছর ২০২৪-২৫ সালে রেমিটেন্সের শীর্ষ উৎস ছিল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি থেকে এসেছিল ৪৭৩ কোটি ৩০ লাখ (৪.৭৩ বিলিয়ন) ডলার। সৌদি আরব থেকে আসে ৪২৬ কোটি ৪০ লাখ (৪.২৬ বিলিয়ন) ডলার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৪১৬ কোটি ৮০ লাখ (৪.১৬ বিলিয়ন) ডলার।
চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সৌদি আরবের পর সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে ১২১ কোটি ৬৭ লাখ (১.২২ বিলিয়ন) ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩১ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাজ্য থেকে এসেছিল ৯২ কোটি ৪৫ লাখ ডলার।
তৃতীয় সর্বোচ্চ ৭৭ কোটি ৭৬ লাখ ডলার এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। তবে গত অর্থবছরের একই সময়ে দেশটি থেকে এসেছিল ৮৮ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে আমিরাত থেকে রেমিটেন্স কমেছে ১২ দশমিক ৬১ শতাংশ।
রেমিটেন্সের অন্যতম বড় উৎস মালয়েশিয়া থেকেও অর্থপ্রবাহ কমেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে দেশটি থেকে এসেছে ৬৬ কোটি ৬৮ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের ৮২ কোটি ৩ লাখ ডলারের তুলনায় ১৮ দশমিক ৭১ শতাংশ কম।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিটেন্স বেড়েছে ২৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে দেশটি থেকে এসেছে ৭৭ কোটি ৪৮ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছিল ৬২ কোটি ৭৪ লাখ ডলার।