প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৭ পিএম (ভিজিট : ১৪৪)

সংগৃহীত ছবি
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বর্ণিল অধ্যায়ের সমাপ্তি যেন এসে দাঁড়িয়েছে দোরগোড়ায়। লিওনেল মেসির বিদায়ের মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে কোটি ফুটবলপ্রেমীর মনে নেমে এসেছে আবেগ আর বিষাদের ছায়া। বুয়েনস আইরেসের ঐতিহাসিক এল মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি তাই নিছক ৯০ মিনিটের লড়াই নয়; এটি এক কিংবদন্তির বর্ণিল ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য শেষ অধ্যায়।
রোজারিওর ছোট্ট সেই বালক, যিনি শারীরিক জটিলতা পেরিয়ে ফুটবলবিশ্ব জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সময়ের পরিক্রমায় হয়ে উঠেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার। ২০০৫ সালে বার্সেলোনার হয়ে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করে ক্লাব ফুটবলে একের পর এক রেকর্ড গড়েছেন মেসি। কাতালান ক্লাবটির হয়ে ৭৭৮ ম্যাচে ৬৭২ গোল ও ৩৫টি ট্রফি জয়ের পাশাপাশি তার অর্জনের তালিকায় রয়েছে রেকর্ড আটটি ব্যালন ডি’অর।
মেসির ফুটবল ছিল নিছক গোল বা শিরোপার হিসাব নয়। বল পায়ে তার ড্রিবলিং, নিখুঁত পাস, ফ্রি-কিক ও সৃজনশীলতা ফুটবলকে অনেকের কাছে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। বার্সেলোনা অধ্যায় শেষে পিএসজি হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামিতে পাড়ি জমিয়েও গোল ও সাফল্যের ধারায় ছেদ পড়েনি তার। ক্যারিয়ারে ৯০০-এর বেশি অফিশিয়াল গোল ও শত শত অ্যাসিস্ট তার দীর্ঘ পথচলার সাক্ষ্য হয়ে আছে।
আর্জেন্টিনার জার্সিতেও মেসির পথচলা ছিল নানা উত্থান-পতনে ভরা। একের পর এক ব্যর্থতার পরও তিনি থামেননি। ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা জয় দিয়ে শুরু হয় আন্তর্জাতিক শিরোপার খরা কাটানোর অধ্যায়। এরপর ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে তুলে নিয়ে পূর্ণতা দেন নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে। আর্জেন্টিনার হয়ে ১৮০-এর বেশি ম্যাচে ১০০-এর বেশি গোল করে দেশের ফুটবল ইতিহাসে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি।
এল মনুমেন্তালের গ্যালারিতে বিদায়ের আবেগে মেতে উঠবেন হাজারো দর্শক। প্রিয় ১০ নম্বর জার্সি, বাঁ পায়ের জাদু, নিখুঁত পাস কিংবা ফ্রি-কিক—সবকিছুই হয়তো একসময় মাঠে মেসিকে ছাড়া দেখতে হবে ফুটবলপ্রেমীদের।
মেসি মাঠ ছাড়লেও তার রেখে যাওয়া রেকর্ড, শিরোপা ও অসংখ্য স্মৃতি থেকে যাবে ফুটবল ইতিহাসে। সবুজ গালিচায় তার পদচিহ্ন মুছে গেলেও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ফুটবলপ্রেমীদের কাছে লিওনেল মেসির নাম বেঁচে থাকবে এক অনন্য অধ্যায়ের প্রতীক হয়ে।