| শিরোনাম: |
প্রতীকী ছবি
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে ‘ইতেহাদুলউম্মাহ’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলার পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাঁরা উগ্রবাদী তৎপরতায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তিনি বলেন, উগ্রবাদী তৎপরতার বিষয়ে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে।
সম্প্রতি রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের একটি মসজিদ থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ২৩ জনকে আটক করে পুলিশ। ১৮ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের পর সেখানে গোপন বৈঠক চলার সময় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁদের আটক করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পরে আটক ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাই ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা হেফাজতে নেন। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য উগ্রবাদী তৎপরতা ও নতুন সংগঠন গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে তদন্ত চলছে।
তেজগাঁওয়ে আটকের পরদিন, ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুর ও মধ্য বাড্ডায় তিনটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। একই দিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে একটি পিকআপে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। পরদিনও নগরীর কয়েকটি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে, কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে জঙ্গিবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অবস্থান নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহের হোসেনের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে জঙ্গিবাদের একাধিক মামলার আসামিও ছিলেন। তাঁদের কয়েকজনকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হলেও অন্যদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে বিপুলসংখ্যক বন্দি পালিয়ে যান। তাঁদের মধ্যে জঙ্গিবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পুনরায় গ্রেপ্তার এবং সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেছেন, বাংলাদেশে উগ্রবাদের উপস্থিতি নতুন নয়। গত প্রায় দুই বছরে এ ধরনের গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড কতটা কার্যকরভাবে নজরদারিতে ছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর মতে, কিছু গোষ্ঠীর নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা সম্পর্কে বিভিন্ন আলামত পাওয়া যাচ্ছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এক ওয়ারেন্ট অফিসারের নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ঘিরেও তদন্তের বিষয়টি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অভ্যন্তরে কোনো উগ্রপন্থি নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না, তা নির্ধারণে তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর ভিত্তিতে দেশে উগ্রবাদের ব্যাপক উত্থান ঘটেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত তথ্য এখনো নেই। সম্ভাব্য তৎপরতা শনাক্ত করতে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
নতুন সংগঠন গঠনের পরিকল্পনা, কারাগার থেকে পলাতক জঙ্গিবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অবস্থান এবং বিদেশি গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তদন্তের মাধ্যমে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান বিবেচ্য বিষয়।