
সংগৃহীত ছবি
সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে দেশটিতে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী ৬১টি ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে। এতে সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার টিকিট কেটেও যাত্রা করতে পারছেন না ৮ হাজার ৩৮১ জন যাত্রী।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনা ও ফ্লাইট পরিচালনা বিভাগের (এএসএম ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট) স্কোয়াড্রন লিডার মো. সাকিব এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় ৬১টি ফ্লাইটের ৮ হাজার ৩৮১ জন সৌদিগামী যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। বাতিল ও স্থগিত হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ২২টি সরাসরি এবং ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট।
সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ২টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ৪টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ৭টি ফ্লাইট রয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের ১৬টি, এমিরেটসের ৯টি, সালাম এয়ারের ৩টি, ইজিপ্ট এয়ারের ১টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি এবং ফ্লাইদুবাইয়ের ৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ রুটের সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া নিরাপত্তাজনিত কারণে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে নির্ধারিত বিজি-৩৪৯ ফ্লাইটটিও স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
গত শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের মোট ১৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩০৯ জন, যাদের মধ্যে ২৭ জন বাংলাদেশি।
নিহত দুই বাংলাদেশির একজন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. শাহেদ আহম্মেদ। তিনি জেদ্দার একটি কোম্পানিতে কাজ করতেন। দেশে ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফেরার জন্য বিমানবন্দরে ট্রানজিট ফ্লাইটের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।
অপর নিহত ব্যক্তি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরী। ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ট্রানজিটে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।
আহত ২৭ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জন প্রবাসী কর্মী এবং ১৬ জন ওমরাহ যাত্রী। তাদের মধ্যে ১২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।