প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৯ এএম (ভিজিট : ১৭৮)

সংগৃহীত ছবি
তিন বছর আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে জয়ের অন্যতম নায়ক হয়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তখনো অধিনায়ক হননি তিনি। ২০২৩ সালের জুনে শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই টেস্টে আফগানিস্তানকে রেকর্ড ৫৪৬ রানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক জয়ের মূল কারিগর ছিলেন শান্ত।
সেই ম্যাচের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেছিলেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। প্রথম ইনিংসে ১৪৬ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে করেছিলেন ১২৪ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর সঙ্গে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন মুমিনুল হকও। মুমিনুলের ১২১ রানের ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ ৪ উইকেটে ৪২৫ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। এতে আফগানিস্তানের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ৬৬২ রান। জবাবে মাত্র ১১৫ রানে অলআউট হয়ে ৫৪৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারে আফগানরা।
তিন বছর পর আবারও আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ। আবুধাবিতে চলমান ম্যাচে পেসার হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিকের সুবাদে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড পেয়েছিল শান্তর দল। রোববার তৃতীয় দিনের খেলা শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের লিড বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২৯ রানে। হাতে রয়েছে আরও চার উইকেট।
প্রথম ইনিংসে মাত্র ৩৯ রান করে আউট হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে আবারও সেঞ্চুরি করে দলের জয়ের নায়ক হওয়ার সুযোগ ছিল শান্তর সামনে। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমের সামনেও ছিল শতকের হাতছানি। তবে দুজনের কেউই তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। শান্ত ৮২ রানে এবং মুশফিক ৮১ রানে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন। সেঞ্চুরি থেকে যথাক্রমে ১৮ ও ১৯ রান দূরে থামতে হয় তাঁদের।
দিনের শেষ ভাগে দুই সেট ব্যাটার শান্ত ও মুশফিকের বিদায়ে বাংলাদেশের ইনিংসে ছন্দপতন ঘটে। ২১২ থেকে ২২৩ রানে পৌঁছাতেই মাত্র ১১ রানের ব্যবধানে তিনটি উইকেট হারায় দলটি। এর আগে নাইটওয়াচম্যান হিসেবে ব্যাট করতে নেমে হ্যাটট্রিক করা হাসান মাহমুদও মাত্র ১ রান করে ফিরে যান।
প্রথম ইনিংসেও শেষ দিকে দ্রুত উইকেট হারানোর একই চিত্র দেখা গিয়েছিল। ওপেনার সাদমান ইসলাম ৬৭, তানজিদ হাসান তামিম ৮৩ এবং শান্ত ৩৯ রান করে আউট হওয়ার পর শেষ পাঁচ উইকেট হারাতে বাংলাদেশ যোগ করতে পেরেছিল মাত্র ৫৯ রান। দ্বিতীয় ইনিংসেও কি একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে, এখন সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে।
শেষ দিকে দ্রুত উইকেট পড়তে থাকলে বাংলাদেশের প্রত্যাশিত লিড কিছুটা কমে যেতে পারে। যদিও তৃতীয় দিন শেষে ৩২৯ রানের ব্যবধান তৈরি হওয়ায় বড় লক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ এখনো রয়েছে। প্রথম ইনিংসে ২৪০ রানে অলআউট হওয়া আফগানিস্তানের সামনে পৌনে ৪০০ রানের কাছাকাছি লক্ষ্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
তবে শান্ত ও মুশফিক ক্রিজে টিকে থাকলে বাংলাদেশের লিড আরও বড় হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এমনকি পাঁচশ রানের লিডের আশাও করা যাচ্ছিল। তাঁদের বিদায়ে সেই সম্ভাবনা আপাতত কঠিন হয়ে পড়েছে।
এখন বাংলাদেশের ভরসা লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। চতুর্থ দিন সোমবার সকালে এই দুজন যদি প্রথম সেশন পর্যন্ত উইকেটে টিকে থাকতে পারেন, তাহলে লিড আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ কত বড় লক্ষ্য দাঁড় করাতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।