প্রকাশ: রোববার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৩ পিএম (ভিজিট : ৯৯)

সংগৃহীত ছবি
ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েছেন তিনি। তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র সাত বলের ব্যবধানে চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে আফগানিস্তান।
আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ বলেছিলেন, নতুন বল হাতে পেলেই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বাংলাদেশের। তবে সেই প্রত্যাবর্তন যে এতটা নাটকীয় হবে, তা হয়তো কেউ ভাবেননি।
হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়েই বাস্তবে রূপ নেয় সেই সম্ভাবনা। এক ওভারে আফগানিস্তানের লোয়ার মিডল অর্ডারের তিন ব্যাটারকে ফিরিয়ে দিয়ে টেস্টে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। সব মিলিয়ে সাত বলের মধ্যে আফগানদের চার উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ।
ইসমাত আলমকে বোল্ড করে উইকেট উৎসবের সূচনা করেন হাসান। দারুণ এক ইনসুইঙ্গারে পরাস্ত হন আফগানিস্তানের এই ব্যাটার।
পরের বলে কাইস আহমেদকে ফেরান তিনি। এবার আউটসুইঙ্গারে ব্যাটের বাইরের কানায় বল লাগিয়ে বসেন কাইস। পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা লিটন দাস দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে তাঁকে সাজঘরে ফেরান।
হ্যাটট্রিকের সামনে দাঁড়িয়ে হাসানের পরের শিকার হন নতুন ব্যাটার জিয়া আকবর। ভেতরে ঢোকা বলে পরাস্ত হয়ে প্যাডে আঘাত পান তিনি। আম্পায়ার প্রথমে সাড়া না দিলেও রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। রিপ্লেতে বলের পিচিং, ইমপ্যাক্ট ও উইকেটে আঘাত—তিন ক্ষেত্রেই লাল সংকেত দেখা যায়। তাতেই নিশ্চিত হয় হাসানের ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক।
এর আগে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে হ্যাটট্রিক করেছিলেন অলক কাপালি ও সোহাগ গাজী। ২০০৩ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই কীর্তি গড়েন অলক কাপালি। এরপর ২০১৩ সালে হ্যাটট্রিক করেন সোহাগ গাজী। তবে বাংলাদেশের কোনো পেসার এর আগে টেস্টে হ্যাটট্রিক করতে পারেননি।
সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার ইতিহাসের অংশ হলেন হাসান মাহমুদ। তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়ে নতুন এক মাইলফলক যুক্ত হলো বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে।