প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ পিএম (ভিজিট : ১৩৭)

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে যানজট কমাতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাস রুট রেশনালাইজেশন বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ব্যবস্থায় প্রতিটি রুটে একটি কোম্পানির অধীনে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস চলাচল করবে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে ঢাকা মহানগরের গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী দুই মাসের মধ্যে বাসের স্টপেজ নির্ধারণ, জরাজীর্ণ বাস মেরামত এবং চালকদের মাসিক বেতনের ভিত্তিতে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ সময়ের মধ্যে কয়েকটি রুটে বাস চলাচলও শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে ঢাকার ৩২টি রুটেই ছয় মাসের মধ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাসসেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় কাউন্টারভিত্তিক যাত্রীসেবা, ই-টিকিটিং ও জিপিএস ট্র্যাকিং সুবিধা থাকবে। এর মাধ্যমে বাস চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন এবং একই রুটে একাধিক কোম্পানির বাসের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাজধানীতে একই রুটে বিভিন্ন কোম্পানির বাস চলাচলের কারণে দীর্ঘদিন ধরে যানজট ও প্রতিযোগিতার সমস্যা রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২০১৫ সালে তৎকালীন সরকার একটি কমিটি গঠন করে। এর আগে ২০০৪ সালে প্রণীত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (এসটিপি) রাজধানীতে বাস ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট কমিটিকে।
২০২১ সালের ডিসেম্বরে ঘাটারচর থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ২৬ নম্বর রুটে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাসসেবা চালু করা হয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রান্স-সিলভা ও রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) যৌথভাবে এ সেবা পরিচালনা করেছিল। এতে কাউন্টারভিত্তিক ই-টিকিটিং ব্যবস্থা ছিল। যাত্রীদের নির্ধারিত স্টপেজ থেকে টিকিট সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে নামতে হতো। তবে ওই রুটের অন্যান্য কোম্পানির বাস এ ব্যবস্থার আওতায় না আসায় শেষ পর্যন্ত সেবাটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত যাত্রীছাউনিগুলোও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে বাসমালিকদের সাড়া না পাওয়ায় তা সফল হয়নি। এবার নতুন করে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে জোর দিয়েছে তারেক রহমানের সরকার।
ইতিমধ্যে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) সম্ভাব্য ৩২টি রুট নির্ধারণ করেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বাসমালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সংস্থাটি রুটভিত্তিক বাসের সংখ্যা, পরিচালনাকারী কোম্পানি, কাউন্টার, ডিপো ও বাস রাখার নির্ধারিত স্থানসংক্রান্ত পরিকল্পনা তুলে ধরে। একই সঙ্গে বাসের জন্য নির্দিষ্ট ও ন্যূনতম মানদণ্ড নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হলেও কোন রুটে কতটি বাস চলবে, তা নির্ধারণ করে আঞ্চলিক পরিবহন কমিটি (আরটিসি)। ঢাকায় এ কমিটির সভাপতি ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার।