শনিবার ● ১০ অক্টোবর ২০২৬ ● ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

শিরোনাম: প্রয়াত শিক্ষিকা দিপালী মুখার্জির ১২তম প্রয়াণ দিবস আজ   মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভয়, লজ্জা ও কুসংস্কার দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান   বনানীতে শেষ শ্রদ্ধা, বিকেলে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন তৌফিক ইমরোজ খালিদীর   যশোরে দাদার কবরের পাশে দাফন তাজমিনের, হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি পরিবারের   ফুটপাত দখলমুক্তের উদ্যোগ ঘিরে জামায়াত ষড়যন্ত্র করছে: ডিএনসিসি প্রশাসক   মুক্তির সাত দিনেই ৩৮৩ কোটি রুপি আয় ‘দৃশ্যম ৩’-এর   রিয়াদ বিমানবন্দরে তৃতীয় দফায় হামলার দাবি হুতিদের, ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজ   
খাল খননের পাশাপাশি কর্মসংস্থান, আসছে সরকারের ‘মডেল খাল’ কর্মসূচি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩০ পিএম   (ভিজিট : ৯৫)

এআই জেনারেটেড ছবি

এআই জেনারেটেড ছবি

দেশের আট বিভাগে ২০টি সরকারি খালকে পরীক্ষামূলকভাবে ‘মডেল খাল’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শুধু পানি নিষ্কাশন নয়, পুনঃখননের পর এসব খালকে মাছ ও হাঁস চাষ, খালপাড়ে সামাজিক বনায়ন, মৌসুমি সবজি উৎপাদন এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের উৎস হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এ কর্মসূচিতে যুক্ত করা হবে প্রায় ২ হাজার ৪০০ অতিদরিদ্র পরিবারকে।

আগামী ১৯ নভেম্বর লালমনিরহাটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মসূচিটি উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এ-সংক্রান্ত ধারণাপত্রে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

‘শুধু খাল খনন নয়, খননকৃত খালের বহুমুখী ব্যবহার’—এ ধারণাকে সামনে রেখে কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর লক্ষ্য সরকারি জলসম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা, পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ-সহনশীল জীবিকা গড়ে তোলা এবং অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শুরু করা খাল খনন কর্মসূচি পরবর্তী সময়ে অবহেলা ও অবৈধ দখলের কারণে ব্যাহত হয়েছে। সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী, চারটি মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে ত্রাণ মন্ত্রণালয় ৭ হাজার কিলোমিটার খননের দায়িত্ব পালন করবে। গত অর্থবছরে এ খাতে ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার খননের কাজ শেষ হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ, পানিতে হাঁস ও মাছ চাষ এবং কুটিরশিল্পের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে খালের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

কেন মডেল খাল কর্মসূচি

মন্ত্রণালয়ের ধারণাপত্র অনুযায়ী, পুনঃখননের পর নিয়মিত তদারকি ও সমন্বিত ব্যবহারের অভাবে অনেক খাল আবার পলি জমে ভরাট হয়ে যায়, অবৈধ দখলের শিকার হয় কিংবা আবর্জনায় দূষিত হয়। এসব সমস্যা মোকাবিলায় খালের পানি ধারণক্ষমতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ অক্ষুণ্ণ রেখে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচির আওতায় খালপাড়ে সামাজিক বনায়ন, হাঁস ও মাছ পালন, মৌসুমি সবজি চাষ, নৌচলাচল এবং স্থানীয় মানুষের বৈধ ব্যবহারের সুযোগ রাখা হবে। পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য স্থায়ী জীবিকার পথ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য, সামাজিক নিরাপত্তাকে শুধু ভাতা বা সহায়তানির্ভর না রেখে উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে তোলা।

আট বিভাগে ২০টি খাল

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে আট বিভাগের ২০টি নির্বাচিত খালে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানো হবে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে তিনটি করে এবং রংপুর, সিলেট, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে দুটি করে খাল নির্বাচন করা হবে।

প্রতি খালের গড় দৈর্ঘ্য তিন কিলোমিটার ধরে মোট প্রায় ৬০ কিলোমিটার খাল এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আগে পুনঃখনন করা হয়েছে—এমন খাল স্বয়ংক্রিয়ভাবে মডেল খাল হিসেবে নির্বাচিত হবে না।

জেলাগুলো থেকে পাওয়া প্রস্তাবের ভিত্তিতে জিপিএস স্থানাঙ্ক, জমির খতিয়ান, দখল পরিস্থিতি, পানিপ্রবাহ এবং স্থানীয়ভাবে চাষাবাদের উপযোগিতা যাচাই করে চূড়ান্ত খাল নির্বাচন করা হবে।

উপকারভোগী নির্বাচন যেভাবে

কর্মসূচিতে স্থানীয় অতিদরিদ্র কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি), নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছেন—এমন দরিদ্র পরিবার থেকে উপকারভোগী নির্বাচনের পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে তাঁদের নির্বাচন করা হবে।

প্রাথমিকভাবে ২০টি খালে প্রায় ২ হাজার ৪০০ পরিবারকে যুক্ত করা হবে। স্থানীয় পর্যায়ে সমবায়ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে, যেখানে অন্তত ৫০ শতাংশ নারী সদস্যের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রস্তাব রয়েছে।

তবে কোনো উপকারভোগী বা সমবায়কে খাল, খালপাড়ের জমি কিংবা সরকারি অবকাঠামোর ওপর স্থায়ী মালিকানা দেওয়া হবে না। তাঁরা শর্তসাপেক্ষে এবং হস্তান্তর করা যাবে না—এমন ব্যবহারের অনুমতি পাবেন।

খালের কোন অংশে কী হবে

খালের পরিবেশ ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা অক্ষুণ্ণ রেখে বিভিন্ন অংশকে নির্দিষ্ট ব্যবহারের জন্য ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় মানুষের পানি সংগ্রহ ও অন্যান্য বৈধ ব্যবহারের জন্য থাকবে উন্মুক্ত এলাকা। উপযুক্ত গভীরতার অংশে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পরামর্শে নিয়ন্ত্রিতভাবে মাছ ও হাঁস চাষ করা হবে। নৌযান চলাচলের উপযোগী খালে রাখা হবে নির্দিষ্ট নৌচলাচল পথ।

এ ছাড়া খালের দুই পাড়ের মাটি ধসে পড়া ঠেকাতে জলসহিষ্ণু ও ফলজ গাছ লাগিয়ে সামাজিক বনায়ন করা হবে। খালপাড়ের ঢালু অংশে মাচা পদ্ধতিতে মৌসুমি সবজি চাষের সুযোগও রাখা হবে।

১০ কোটি টাকার ঘূর্ণায়মান তহবিল

ধারণাপত্রে কর্মসূচির প্রাথমিক বিনিয়োগের জন্য সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে। আলাদা বড় কোনো প্রকল্প না নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে বিদ্যমান সরকারি কাঠামোর আওতায় এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রাথমিক অর্থ স্থায়ী অনুদান বা দীর্ঘমেয়াদি ভর্তুকি হিসেবে নয়, ঘূর্ণায়মান তহবিল হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। উৎপাদন শুরু হওয়ার পর অর্জিত আয় থেকে স্থানীয় সমবায়গুলো নিজেদের পরিচালন ব্যয় মেটাবে। এতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমবে বলে আশা করছে মন্ত্রণালয়।

কর্মসূচির তদারকিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় পর্যায়ে একটি আন্তমন্ত্রণালয় স্টিয়ারিং কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে ১২ মাস কার্যক্রম পরিচালনার পর স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মূল্যায়নের ভিত্তিতে এটি সারা দেশে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সেখ ফরিদ আহমেদ বলেন, কর্মসূচির মূল ভিত্তি হলো স্থানীয় নিবন্ধিত হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে সংগঠিত করে সমবায় সমিতি গঠন। প্রথম দুই বছর সরকার আর্থিক বরাদ্দ, উৎপাদন উপকরণ, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেবে। পরীক্ষামূলক পর্যায় শেষে খালকেন্দ্রিক উৎপাদন, আয় ও সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সমবায়ের সদস্যদের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর আশা, খালপাড়ের দরিদ্র পরিবারগুলো এসব কর্মকাণ্ড থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হলে নিজেরাই খালের দেখভাল ও রক্ষণাবেক্ষণে আগ্রহী হবে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন কর্মচাঞ্চল্য তৈরির পাশাপাশি খালগুলোর দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণও সহজ হবে।










  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]