প্রকাশ: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৬ এএম (ভিজিট : ১৪৮)

সংগৃহীত ছবি
আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নেমেছেন লিওনেল মেসি। কিংবদন্তির বিদায়ী ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখতে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচের ১০ মিনিটে থামিয়ে দেওয়া হয় খেলা। এ সময় পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে টানা প্রায় এক মিনিট করতালির মাধ্যমে বিদায় জানায় আর্জেন্টিনার মহাতারকাকে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোরে বুয়েনস এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টালে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শুরু থেকেই মেসিকে ঘিরে ছিল আবেগঘন পরিবেশ। ১০ মিনিটে রেফারি বাঁশি বাজিয়ে খেলা থামিয়ে দিলে মাঠের খেলোয়াড়, বেঞ্চের কোচিং স্টাফ ও গ্যালারির দর্শকেরা সবাই দাঁড়িয়ে পড়েন।
মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে সেই ভালোবাসা গ্রহণ করেন মেসি। সতীর্থদের সঙ্গে তিনিও হাততালি দেন এবং পরে দর্শকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে অভিবাদনের জবাব দেন। প্রায় এক মিনিট ধরে চলে এই বিশেষ শ্রদ্ধা নিবেদন।
বিদায়ী ম্যাচ উপলক্ষে মাঠে নামানো হয় মেসির ১০ নম্বর জার্সির বিশাল প্রতিকৃতি। তবে সেখানে ছিল না তার নাম; লেখা ছিল ‘Gracias’। এরপরই গ্যালারিজুড়ে শুরু হয় ‘মেসি, মেসি’ স্লোগান।
বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচের মধ্য দিয়েই শেষ হচ্ছে মেসির আর্জেন্টিনা অধ্যায়। ২০০৫ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন ২০৮ ম্যাচ। করেছেন ১২৬ গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৬৮ গোল।
জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও অলিম্পিক স্বর্ণসহ প্রায় সব বড় অর্জনই রয়েছে মেসির ঝুলিতে। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অপূর্ণতাও ঘুচিয়েছেন তিনি। এরপরই আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে নিজের অবস্থান আরও উজ্জ্বল করে নেন এই মহাতারকা।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করার ঘোষণা দেন মেসি। এরপর দেশের মাটিতে শেষবারের মতো জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামার সুযোগ পান ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা।
বিদায়ী ম্যাচের আগে মেসি বলেন, ‘আমি শান্তিতে বিদায় নিচ্ছি। আমি আমার সর্বস্ব দিয়েছি। এই জার্সি ছিল আমার স্বপ্ন, আমার গর্ব এবং আমার জীবন।’
ম্যাচের আগে বেনিনের অধিনায়ক সেসি দা’আলমেইদাও মেসিকে বিশেষ উপহার দেন। অ্যামাজন যোদ্ধার একটি মূর্তি ও একটি চিঠি তুলে দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়কের হাতে।
সব মিলিয়ে বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্টালে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি হয়ে ওঠে শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির বর্ণিল অধ্যায়ের আবেগঘন বিদায়।