সোমবার ● ১২ অক্টোবর ২০২৬ ● ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

শিরোনাম: বিতর্ক-প্রতিবাদের মধ্যে আড়ালে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার, জ্ঞানেশ কুমার কোথায়?   গ্রামীণ কল্যাণের দুই রিট খারিজ, ৬৬৬ কোটি টাকা আদায়ে ডিমান্ড নোটিশ জারির নির্দেশ   এনসিটি ইজারা বাতিল ও চাকরির নিরাপত্তার দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরে গণ-অনশন   নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতায় ‘জিরো টলারেন্স’ বাস্তবায়নের তাগিদ রাষ্ট্রপতির   চকবাজারে সাততলা ভবনের মার্কেটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ৫ ইউনিট   রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দুই অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার ৪ দিনের রিমান্ড   ইউপি নির্বাচনের ভোটের তারিখ ঘোষণা   
এনসিটি ইজারা বাতিল ও চাকরির নিরাপত্তার দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরে গণ-অনশন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩০ পিএম   (ভিজিট : ২৭)

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) ইজারা চুক্তি বাতিল এবং বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে গণ-অনশন শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ও চট্টগ্রাম পোর্ট প্রোটেকশন কমিউনিটি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের ওয়ান স্টপ সার্ভিস বিল্ডিংয়ের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে এ কর্মসূচি শুরু হয়। বিকেল ৪টা পর্যন্ত অনশন চলার কথা রয়েছে। এতে সংহতি জানিয়ে যোগ দেন চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতারাও।

কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বিদেশি অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, গোপনীয়তা চুক্তির (নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট) মাধ্যমে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রস্তাবিত ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইব্রাহিম খোকন বলেন, সরকার কোন যুক্তিতে এ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা তাঁরা জানেন না। প্রস্তাবিত আধুনিকায়নের মাধ্যমে কীভাবে বন্দরের কার্যক্রম উন্নত হবে, সে বিষয়েও সরকার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দিলে দেশের বাণিজ্য ও লজিস্টিকস খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো কীভাবে সমাধান হবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর মতে, আমদানিতে পণ্যের মূল্য কম দেখানো, শুল্ক ছাড়পত্র পেতে বিলম্ব এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতার কারণে ব্যবসায়িক ব্যয় বেড়ে যায়।

বন্দরের আশপাশের সড়কে যানজট নিরসন এবং শুল্ক ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া দ্রুত করতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। ইব্রাহিম খোকন বলেন, লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন চাইলে সড়ক যোগাযোগ, শুল্ক ছাড়পত্র ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। এসব প্রক্রিয়া দ্রুত করার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।

বন্দরের কার্যক্রম ও পণ্য খালাসের সময়ের পার্থক্য তুলে ধরে ইব্রাহিম খোকন বলেন, কনটেইনার ওঠানামার সময়কে কাস্টমসের মাধ্যমে আমদানি করা পণ্য খালাসের সময়ের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়। তাঁর দাবি, এক হাজার থেকে তিন হাজার কনটেইনার বহনকারী একটি জাহাজের পণ্য খালাস ও নতুন কনটেইনার বোঝাইয়ের কাজ প্রায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব।

তিনি বলেন, আমদানি করা পণ্য খালাসের বিষয়টি মূলত কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল, যা বন্দর কর্তৃপক্ষ এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় যেকোনো সময় জাহাজ চলাচল সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ইব্রাহিম খোকনের মতে, চট্টগ্রাম বন্দর মূলত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ আমদানি-রপ্তানির চাহিদা পূরণ করে; এটি প্রধান ট্রান্সশিপমেন্ট হাব নয়। তাই শুধু টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করলেই দেশের লজিস্টিকস খাতের সব সীমাবদ্ধতা দূর হবে না। ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে এনসিটির পরিচালনার দায়িত্ব দিলে বন্দরের দক্ষতা ও জাতীয় অর্থনীতির কী ধরনের সুফল হবে, তা সরকারকে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, সরকারের বক্তব্য হলো, আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটর যুক্ত হলে বন্দরের ধারণক্ষমতা বাড়বে, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে এবং পরিচালনাগত দক্ষতা উন্নত হবে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ডিপি ওয়ার্ল্ড টার্মিনাল পরিচালনার পাশাপাশি যন্ত্রপাতি ও সংশ্লিষ্ট সুযোগ-সুবিধায় বিনিয়োগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে এ উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন বন্দর শ্রমিক ও অন্যান্য অংশীজন। তাঁদের উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে চাকরির নিরাপত্তা, চুক্তির স্বচ্ছতা এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব।

ইব্রাহিম খোকন বলেন, গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একটি গণতান্ত্রিক সরকারের উচিত বিভিন্ন পক্ষের মতামত শোনা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাঁদের বক্তব্য না শুনলে দাবি আদায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পরিষদের উদ্বেগ নিরসন না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে বলেও জানান তিনি।









  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]