সোমবার ● ১২ অক্টোবর ২০২৬ ● ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

শিরোনাম: বিতর্ক-প্রতিবাদের মধ্যে আড়ালে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার, জ্ঞানেশ কুমার কোথায়?   গ্রামীণ কল্যাণের দুই রিট খারিজ, ৬৬৬ কোটি টাকা আদায়ে ডিমান্ড নোটিশ জারির নির্দেশ   এনসিটি ইজারা বাতিল ও চাকরির নিরাপত্তার দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরে গণ-অনশন   নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতায় ‘জিরো টলারেন্স’ বাস্তবায়নের তাগিদ রাষ্ট্রপতির   চকবাজারে সাততলা ভবনের মার্কেটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ৫ ইউনিট   রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দুই অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার ৪ দিনের রিমান্ড   ইউপি নির্বাচনের ভোটের তারিখ ঘোষণা   
গ্রামীণ কল্যাণের দুই রিট খারিজ, ৬৬৬ কোটি টাকা আদায়ে ডিমান্ড নোটিশ জারির নির্দেশ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩৩ পিএম   (ভিজিট : ২৩)

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের কাছে পাঁচ করবর্ষের বিপরীতে প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা বকেয়া কর আদায়ের বিষয়ে কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বৈধতা বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এ-সংক্রান্ত গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক দুটি রিট খারিজ করে দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৩২ ও ১৫ পৃষ্ঠার পৃথক দুটি রায় প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন। গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ১২১এ(৪বি) ধারা অনুযায়ী, গ্রামীণ কল্যাণ যখন ৭৫(২)(ডি)(৩) ধারার অধীনে সংশ্লিষ্ট করবর্ষগুলোর রিটার্ন দাখিল করেছিল, তখন আইন অনুযায়ী ৭৪ ধারা অনুসারে কর পরিশোধ করা তাদের বাধ্যবাধকতা ছিল। গ্রামীণ টেলিকমের উৎসে কর পরিশোধকে নিজেদের কর পরিশোধ হিসেবে দেখানোর কোনো সুযোগ গ্রামীণ কল্যাণের ছিল না।

আদালত আরও বলেন, আয়কর অধ্যাদেশের ১৭৩ ধারা কর কমিশনারকে নিজ উদ্যোগে ভুল সংশোধনের ক্ষমতা দিয়েছে। আগের আদেশের ১৩ দিনের মধ্যে যথাযথ নোটিশ দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে শুনানির সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে কমিশনার ওই সংশোধন করেন। শুনানির সময় গ্রামীণ কল্যাণের ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট করবর্ষগুলোর রিটার্নের বিপরীতে প্রদেয় কর পরিশোধের কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।

রায়ের শেষাংশে আদালত বলেন, সংশ্লিষ্ট আদেশে এমন কোনো আইনগত ত্রুটি বা অবৈধতা নেই, যার কারণে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। ফলে কোনো খরচ ছাড়াই রুল খারিজ করা হয় এবং আগে দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। একই সঙ্গে গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে বকেয়া কর আদায়ের জন্য অবিলম্বে ডিমান্ড নোটিশ জারি করতে কর কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলার পটভূমি

পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে কর দাবি করা হয়। ওই দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি পৃথক দুটি রিট করে। প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেন।

চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণসহ রুল নিষ্পত্তি করেন। ওই রায়ে কর কমিশনারের আদেশ বাতিল করা হয়েছিল। পাশাপাশি বিলম্ব মার্জনা করে শর্তসাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে অতিরিক্ত কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করার সুযোগ দেওয়া হয়।

হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আপিল বিভাগে পৃথক লিভ টু আপিল করে। আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ আপিল বিভাগ গ্রামীণ কল্যাণের রিটের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে হাইকোর্টে পুনরায় শুনানির নির্দেশ দেন।

পুনঃশুনানি শেষে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ রিট দুটি খারিজ করে রায় ঘোষণা করেন। তবে একই বছরের ২৯ আগস্ট ওই রায় প্রত্যাহার করা হয়। কারণ হিসেবে বলা হয়, বেঞ্চের দ্বিতীয় বিচারক অতীতে এসব মামলায় সরকারের পক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করে মামলাগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এ কারণে রায়টি ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। পরে মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চে পাঠান। ওই বেঞ্চে পুনরায় শুনানি শেষে গত ১০ সেপ্টেম্বর রিট দুটি খারিজ করে রায় দেওয়া হয়।

প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা আদায়ের উদ্যোগ

১০ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ সাংবাদিকদের জানান, পাঁচটি করবর্ষে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা অনাদায়ী ছিল। কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে প্রতিষ্ঠানটি দুটি রিট করেছিল। চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত রুল খারিজ করেছেন। ফলে গ্রামীণ কল্যাণকে সরকারের রাজস্ব বাবদ প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে।

তিনি আরও জানান, রায়ের কপি পাওয়ার পর কর বিভাগ ৩০ দিন সময় দিয়ে দাবি আদায়ের জন্য ডিমান্ড নোটিশ জারি করবে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের রায়ের পর তা স্থগিত চেয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগে আবেদন করে গ্রামীণ কল্যাণ। শুনানি শেষে আপিল বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন। একই সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার কথা জানান আদালত।

গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ ১৪ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, হাইকোর্টের রায় আপাতত বহাল থাকলেও পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের আগে এনবিআর এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেবে না। রাষ্ট্রপক্ষের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকেও আদালতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানান আইনজীবীরা।

পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর আইনজীবী খাজা তানভীর আহমেদ দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) বলেন, আইন অনুযায়ী যত দ্রুত সম্ভব হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল (সিপি) করা হবে।

আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, সরদার জিন্নাত আলী ও আবদুল্লাহ আল মামুন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ।









  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]