
সংগৃহীত ছবি
নিজের ব্যবহৃত বাসা ছেড়ে যাওয়ার আগে নতুন বাসিন্দাদের কাছে কাকদের জন্য খাবার রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন দীপান্বিতা কিংশুক ঋতি। তিন বছর আগে লেখা তাঁর সেই চিঠি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাণীদের প্রতি ভালোবাসা ও মমত্ববোধের এমন দৃষ্টান্ত প্রশংসা কুড়াচ্ছে নেটিজেনদের।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) চিন্ময় বড়ুয়া নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী চিঠিটির ছবি নিজের আইডিতে পোস্ট করেন। এরপরই চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
২০২৩ সালের ১ এপ্রিল লেখা চিঠিতে দীপান্বিতা উল্লেখ করেন, তিনি ওই বাসায় টানা ১০ বছর বসবাস করেছেন। এ সময়ের বেশির ভাগ দিন বারান্দা থেকে সানশেডে খাবার ছিটিয়ে কাকদের খেতে দিতেন। বাসা ছাড়ার আগে নতুন বাসিন্দাদের কাছেও মাঝেমধ্যে কাকদের জন্য খাবার রাখার অনুরোধ জানান তিনি।
চিঠিতে লেখা ছিল, ‘এই বাসায় নতুন যারা আসবেন; আমি এ বাড়িতে ১০ বছর থেকে আজ বিদায় নিচ্ছি। এই ১০ বছরের বেশির ভাগ দিন বারান্দা থেকে সানশেডের ওপরে খাবার ছিটিয়ে আমি কাকদের খেতে দিয়েছি। আমি ওদের ভালোবাসি। আপনাদের প্রতি একান্ত অনুরোধ, মাঝেমধ্যে সানশেডে ওদের কিছু খাবার দেবেন। পরম প্রেমময় ঈশ্বর আপনাদের মঙ্গল করবেন।’
চিঠির নিচে স্বাক্ষর রয়েছে দীপান্বিতা কিংশুক ঋতির। ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে রাজধানীর আজিমপুরের পি অ্যান্ড টি অফিসার্স কোয়ার্টার্স।
চিঠিটি ছড়িয়ে পড়ার পর মন্তব্যের ঘরে অনেকেই তাঁর প্রাণীপ্রেমের প্রশংসা করেছেন। কেউ কেউ নিজেরাও বাসা ছাড়ার সময় নতুন বাসিন্দাদের কাছে পাখিদের জন্য খাবার রাখার অনুরোধ জানানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
‘সেঁজুতি সাঁঝের বাতি’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে মন্তব্য করা হয়েছে, কয়েক মাস পর বাসা বদলাতে হতে পারে। নিজের পরিচিত চড়ুই, শালিক, কাকসহ অন্যান্য পাখিদের কথা ভেবে চিন্তিত ছিলেন তিনি। তাই নতুন ভাড়াটেদের অন্তত প্রতিদিন পাখিদের জন্য কিছু খাবার ছড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানাবেন বলে উল্লেখ করেন।
‘ফাতেমা মুস্তারি’ নামের আরেক ব্যবহারকারী লিখেছেন, তিনিও বাসা ছাড়ার সময় এমন একটি চিরকুট রেখে যাবেন, যাতে তাঁর ছাদের অতিথি পাখিদের খাবার দেওয়া অব্যাহত থাকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করছেন, নগরজীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও পাখিদের প্রতি এমন দায়িত্ববোধ সত্যিই প্রশংসনীয়। বাসা ছেড়ে যাওয়ার আগে লেখা একটি ছোট্ট চিঠি যে প্রাণীদের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারে, দীপান্বিতার এই উদ্যোগ যেন তারই উদাহরণ।