রবিবার ৩০ আগস্ট ২০২৬ ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

শিরোনাম: শরণখোলায় মাদ্রাসার ছাত্রকে গুরুতর মারধরের অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে   চোখে আলো নেই, ৪০ বছর ধরে মায়ের সংসারের শেষ ভরসা মুকলেস!   জিনিয়াস শেফ আয়োজন করলো বেকিং কর্মশালা   বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ নিয়ে নতুন সম্ভাবনা   হঠাৎ হাসপাতালে ভর্তি ঊর্ফী জাভেদ   মার্কিন অর্থনৈতিক অভিযান থেকে বাঁচার যে উপায় জানালেন মোজতবা!   নিজ কাণ্ডে দুঃখ প্রকাশ করলেন হাসনাত আবদুল্লাহ!   
সেই তরুণীর সঙ্গে বাইকে থাকা দুই যুবককে নিয়ে যা জানা গেল!
ভোরের পাতা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪২ পিএম   (ভিজিট : ১১৭)

রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে গভীর রাতে মোটরসাইকেলে দুই যুবকের মাঝখানে বসা অবস্থায় যে তরুণীকে ‘নিথর’ মনে হয়েছিল, তিনি নিজেই মদ্যপ ছিলেন বলে জানিয়েছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরের পর টঙ্গী পশ্চিম থানায় পুলিশের সঙ্গে কথা বলার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান ওই তরুণী।

ওই তরুণী বলেন, হ্যাঁ, আমি নিজেই মদ খেয়েছি। কেউ তো খাওয়ায় দেয় নাই। ওই লোকগুলো (বাইকের) আসছে আমাকে সাহায্য করতে।

এদিকে, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই তরুণীকে তার বোনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা মোটরসাইকেলের দুই আরোহীর পরিচয় শনাক্তের পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খোঁজ করা হচ্ছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ (উত্তর) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, আমরা মেয়েটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, পারিবারিকভাবে বিভিন্ন সমস্যায় মানসিক চাপে ছিল। সে নিজ বাড়িতে গিয়ে মদ পান করে।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে মদ্যপ অবস্থায় ওই তরুণদের সঙ্গে যায়। আমরা মোটরসাইকেলে থাকা দুইজনকে খুঁজছি। তারা হয়তো ভয়ে সামনে আসছে না। তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

ডিসি শফিকুল ইসলাম আরও জানান, তরুণীটিকে আপাতত তার বোনের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ।

এদিকে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশ ও সাংবাদিকদের কাছে নিজের অবস্থার ব্যাখ্যা দিয়েছেন ওই তরুণী। তিনি জানান, পারিবারিক নানা জটিলতার কারণে কিছুদিন ধরে মানসিক চাপে ছিলেন। এ পরিস্থিতিতে নিজ বাড়িতে গিয়ে মদ পান করেন। পরে অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে অসুস্থ হয়ে একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন বলে দাবি করেন তিনি।

তরুণীর ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তিকে তিনি তার চাচা হিসেবে চিনতেন। অচেতন হয়ে পড়ার পর তাদের দেখতে পেয়ে তিনি তাদের ফোন করেন। ফোন পেয়ে ওই দুই ব্যক্তি এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বর্তমানে টঙ্গীতে থাকেন বলেও জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া তার একাধিক বিয়ের তথ্যকে তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

তরুণীর দাবি, তার সাবেক স্বামী শাহরিয়ার তাকে বিপদে ফেলতে বিভিন্ন মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। এসব কারণে তিনি মানসিকভাবে অশান্তিতে ছিলেন বলেও গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দাবি করেন।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মোটরসাইকেলের মাঝখানে এক তরুণীকে অনেকটা নিস্তেজ অবস্থায় বসিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে ওই তরুণীকে মৃত কিংবা গুরুতর অসুস্থ বলে ধারণা করে বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্য করেন। পরে জানা যায়, তরুণীটি জীবিত এবং বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের দাবি ছড়িয়ে পড়লেও সেগুলোর সবকটির সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। বিশেষ করে তরুণীকে কেন ওই অবস্থায় মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি কারা, তারা কোথা থেকে তাকে নিয়ে যাত্রা করেছিলেন এবং ঠিক কী পরিস্থিতিতে তরুণীটি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন- এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ভাইরাল ভিডিওতে থাকা মোটরসাইকেলটির নম্বর শনাক্ত করেছে। মোটরসাইকেলটির মালিক ও দুই আরোহীর পরিচয় নিশ্চিত করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা চলছে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, মোটরসাইকেলের মালিকানা, ভিডিওর উৎস, ঘটনাস্থলের তথ্য এবং অন্যান্য বিষয় যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তরুণী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা তথ্যের মধ্যে বেশ কিছু অসঙ্গতি দেখা গেছে। এ কারণে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে মোটরসাইকেলে থাকা দুই যুবকের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হলে ওই রাতের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, তরুণী বর্তমানে সুস্থ আছেন এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে তার বোনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, নাকি অসুস্থ অবস্থায় থাকা ওই তরুণীকে উদ্ধারের ঘটনাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্নভাবে ছড়িয়েছে—তা নিশ্চিত হতে পুলিশের তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।









  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]