
হাম ও উপসর্গ নিয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসসহ কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে একাধিক মামলার আবেদন হলেও তা খারিজ করেছেন আদালত। আইন যদি সবার জন্য সমান হয়, তাহলে ড. ইউনূস ও তার সহযোগীরা কেন বাদ পড়বেন? এমন প্রশ্ন রাখেন লেখক ও গবেষক নাদিম মাহমুদ।
উদাহরণ হিসেবে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনাসহ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার কথা উল্লেখ করেন।
আজ সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন নাদিম মাহমুদ।
তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার নামে মামলা হয়েছে, আদালত গ্রহণ করেছে। এরশাদের নামে মামলা হয়েছে।
শেখ হাসিনার নামে গিনেস বুকে রেকর্ড করার মতো মামলা হয়েছে, তা-ও আদালত গ্রহণ করেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার নামেও অনেকগুলো মামলা ছিল। আদালত শুধু মামলা গ্রহণই করেননি, এসব মামলার তদন্ত হয়েছে, বিচার হয়েছে, শাস্তিও হয়েছে অনেকের। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় দেখেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ইউনূস ও তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করতে গিয়ে ফিরে আসছে।
হাম ও রুবেলার টিকা যথাসময়ে আমদানি না করে শিশুদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আজ সোমবার আদালতে মামলার আবেদন করেছিলেন সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। আবেদন-পরবর্তী শুনানি শেষে তা খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
এ বিষয়ে নাদিম মাহমুদ লিখেছেন, ‘ছয় শতাধিক শিশু হামে মৃত্যুর পর ক্ষুব্ধ বাবা-মা যদি ওই সরকারের (অন্তর্বর্তী) দায়িত্বাধীন ব্যক্তিদের আদালতের মুখোমুখি করতে চায়, তাহলে সমস্যা কোথায়? খারিজ কেন করতে হবে? আইন যদি সবার কাছে সমান হয়, তাহলে অধ্যাপক ইউনূস ও তার সহযোগীরা কেন বাদ পড়বে?’
তিনি বলেন, শুনলাম আজ একজন সংসদ সদস্য তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে গিয়েছিলেন, সেটিও খারিজ হয়েছে। তবে আদালতের উচিত ছিল, মামলার মেরিট বিবেচনা করে মামলা গ্রহণ করা। একটি শিশুও যদি আগের সরকারের আহম্মকির জন্য প্রাণ হারায়, সেই বিষয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন, অন্তত জাতি জানতে চায় ওই মানুষগুলো ঠিক কী কারণে টিকা কিনতে গড়মসি করেছিল।
কেন এই শিশুদের প্রাণ যাবে, তা অব্শ্যই আদালতের মাধ্যমে আসতে হবে।