
মাধবী,
তোমার নামের মাঝে একটু আধটু ভিটামিন আছে মনে হয়। গতরাতে সিঙ্গাপুরের রাস্তায় যখন টরিক ভাই-ভাবীর সাথে লংড্রাইভে রাতের সিঙ্গাপুর দেখতে বের হয়েছিলাম, তখন মেহেদী হাসানের কন্ঠে ‘মাধবী’ সিরিজের কয়েকটি পত্র-আবৃত্তি টরিক ভাইয়ের বিলাসবহুল গাড়ীর সাউন্ড সিস্টেমে শুনলাম, মনে হলো গাড়ীতে উপস্থিত সমবেত সকলের সাথে আমিও মাধবীতে হারালাম, আনমনে মুগ্ধতায় আবিষ্ট হলাম, মনে হলো আমিও মাধবীকে চিনি, প্রথমবার উপলব্ধি করলাম ‘মাধবী’ আমার সৃষ্টি, আমি ‘মাধবী’র স্রষ্ঠা, অহংবোধ হলো কিছুটা, যেখানে একটু জ্বালানী ঢাললেন ভাবী, প্রশংসা করে! ‘মাধবী’ তো সুন্দর ও ঐতিহ্যবাহী মেয়েদের নামের প্রতিবিম্ব, কখনো কখনো তোমার মতো উচ্চবংশীয় অহংকারীরাও ‘মাধবী’ হয়, যারা নিজে না জ্বলে অন্যকে জ্বালায়, নিজে না পুড়ে অন্যকে পুড়ায়, অন্যের জীবন মরনের উপপাদ্য হয়ে উঠে। ‘মাধবী’ নামের অর্থ কি তুমি জানো? আমি জানতাম না। গুগল মামারে শুধোলাম, মামায় বললো, ‘মাধবী’ নামের কয়েকরকম অর্থ আছে। কোন কোন ক্ষেত্রে ‘মাধবী’ নাম ব্যবহৃত হয় মিষ্টি বা মধুর সাথে তুলনা করতে, কখনো বা ‘মাধবী’ হয়ে উঠে ‘বসন্তকালীন’ কিংবা ‘বসন্তের ফুল’ এর সমার্থক শব্দে। সংস্কৃত শব্দ ‘মধু’ বা ‘মিষ্টি’ সিংহল সমূদ্রের পাড় বেয়ে হাজার বছর হেঁটে এসে কখনো হয়েছে নাটোরের বনলতা, কখনো হয়েছে সুনীলের বরুণা কিংবা নীলান্জনা বা হেলাল হাফিজের হেলেন। সেই সংস্কৃত শব্দ ‘মধু' ই যুগের পরিক্রমায় হয়ে উঠেছে আদিত্যর ‘মাধু’ কিংবা আমার মনের মাধুরী মিশানো মাধবী! তবে, হিন্দু পৌরাণিক কাহিনীতে ‘মাধবী’ ধনসম্পদ ও ঐশ্বর্যের দেবী লক্ষ্মী বা রাধার অপর নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ‘মাধবী’ রুপ রস গন্ধ রহস্য আর উপমাকে আরও বেশী উপমেয় করে তুলতে, মাধুর্যমন্ডিত করতে সুন্দর লতাগুল্ম কিংবা ফুলের সাথেও তুলনা করে আদরে ডাকা হয় ‘মাধবীলতা’ বলে।
মাধবী,
আদিত্য মারা যাওয়ার শোকে আমার এই হৃদয় পাথর হয়েছিলো, লিখতে পারতাম না, শব্দ-বাক্যরা কোথায় যেন হারিয়েছিলো। আজ সিঙ্গাপুর থেকে ফেরার সময় কিসের যেন ছোঁয়া পেলাম, মনে হলো হিন্দু মাইথোলজির সূত্র ধরে আদিত্যর পূনর্জন্ম হয়েছে, মনে হলো আদিত্য ফিরেছে। একসময় আদিত্য আমাকে আরণ্যক বসু’র কবিতা থেকে মাঝে মধ্যে নিচের ক'লাইন আবৃত্তি করে শুনাতো, বলতো,
'পরের জন্মে তিতাস হবো, দোল মঞ্চের আবীর হবো
শিউলিতলার দুব্বো হবো, শরৎকালের আকাশ দেখার
অনন্তনীল সকাল হবো, এসব কিছু হই বা না হই-
তোমার প্রথম পুরুষ হবো
মনে থাকবে?’
আমার অবশ্য আরণ্যক বসুর মতো পূণর্জন্মে বিশ্বাস নেই, আফসোস নেই, প্রত্যয় কিংবা প্রত্যাশা নেই, আমি অবশ্য আদিত্যর মতো পূণর্জন্ম নিয়ে ফিরে আসার আকাঙ্খা করি না, স্বপ্ন দেখিনা, অতটা বিশ্বাসী উচ্চাভিলাষ নেই আমার! তবে মনে মনে ভাবি ইস্, এই জন্মে যদি তোমার প্রথম পূরুষ হতাম, তাহলে হয়তো কলেজ মাঠের দূব্বো হতাম, অনন্তনীল সকাল হতাম, মানবজন্মের সকল সুখের বাসর রাতের সাথী হতাম, যেখানে একমাত্র দোসর হতে তুমি, আমার আজন্মের আরাধ্য মাধবী। অমন ককে যখন ভাবি, অমন স্বপ্নে যখন হারাই, তখন কল্পনায় কখনো কখনো মালয় কিংবা সিংহল সমূদ্রতীরে তোমার সাথে হাঁটি, তুমি হয়ে উঠো আমার দূর্বোধ্য স্বপ্নের দোসর। সেই তুমিই যখন আমার স্বপ্ন-কল্পনায় চীন কিংবা প্রশান্ত মহাসাগরের তীর ধরে হেঁটে চলো, তখন তোমার হাতে হাত রাখি, মাঝে মাঝে নির্বাক চোখা চোখির স্বাধ জাগে, চোখাচোখি করি, স্বাধ মেটাই, তোমার চোখে চোখ রেখে শুধোয়, এত আবীর ছড়ায়ে ভালোবাসো কেমন করে, মাধবী?
মাধবী,
কি করছো? পূর্ণেন্দু পত্রীর মতো করে তোমাকে শুধোতে ইচ্ছে করছে, 'তুমি কি এখন স্নানে? শাওয়ারের প্রপাতের নীল জলে তোমার লুণ্ঠন? তোমার শরীর ওরা সকলের আগে ছুঁয়ে নিল, আমাকে যা দিতে দ্বিধা,
কি সহজে তার বিসর্জন!'
শু ভ রা ত্রি!
(লেখাটি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এর ফেসবুক প্রোফাইল থেকে নেওয়া)