প্রকাশ: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩৫ পিএম (ভিজিট : ১৯৯)

মহাবিশ্বের অজানা রহস্য উন্মোচনে আরেকটি যুগান্তকারী অভিযানে যাচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের অভাবনীয় সাফল্যের পর এবার উৎক্ষেপণের অপেক্ষায় রয়েছে ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ, যার মূল লক্ষ্য ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি এবং সৌরজগতের বাইরের নতুন গ্রহের সন্ধান করা। এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশি জ্যোতির্বিজ্ঞানী লামীয়া আশরাফ মওলা।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েলেসলি কলেজের হুইটিন অবজারভেটরির জ্যোতির্বিজ্ঞানী হিসেবে কর্মরত লামীয়া আশরাফ মওলা এর আগে ২০২১ সালে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ প্রকল্পের গবেষণা দলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এবার নাসার নতুন প্রজন্মের রোমান স্পেস টেলিস্কোপ প্রকল্পে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি বাংলাদেশের জন্যও গৌরবের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন।
বর্তমানে মহাবিশ্ব সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের জানা তথ্য অনুযায়ী, গ্রহ, নক্ষত্র, গ্যাস ও ধুলিকণা মিলিয়ে দৃশ্যমান বস্তু মহাবিশ্বের মাত্র ৫ শতাংশ। বাকি ৯৫ শতাংশ জুড়ে রয়েছে রহস্যময় ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি, যার প্রকৃতি এখনও অজানা। সেই অজানা রহস্যের সন্ধানেই নির্মিত হয়েছে ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ।
অন্যদিকে, পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ লাখ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করে গত সাড়ে পাঁচ বছর ধরে মহাকাশের বিস্ময়কর সব তথ্য ও ছবি পাঠিয়ে চলেছে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ। সেই ধারাবাহিকতায় আরও বিস্তৃত পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার নতুন অধ্যায় শুরু করবে রোমান টেলিস্কোপ।
লামীয়া আশরাফ মওলার মতে, এই টেলিস্কোপ শুধু ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জির রহস্য উন্মোচনেই নয়, সৌরজগতের বাইরের নতুন গ্রহ শনাক্ত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশেও মহাকাশ গবেষণার সুযোগ ও সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।
ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডে অবস্থিত নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে টেলিস্কোপটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। উৎক্ষেপণের প্রস্তুতির জন্য এটি ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ আগস্ট মহাকাশের উদ্দেশে যাত্রা করবে ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ, যা মহাবিশ্বের অজানা অধ্যায় উন্মোচনে বিজ্ঞানীদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।