
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুই দশকের বেশি সময় পার করেছেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম। খেলেছেন শতাধিক টেস্ট, বাংলাদেশের হয়ে গড়েছেন একের পর এক রেকর্ড। তবে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একটি অপূর্ণতা থেকেই গিয়েছিল তার। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কখনো টেস্ট খেলা হয়নি অভিজ্ঞ এই ব্যাটারের। অবশেষে শেষ হতে যাচ্ছে সেই অপেক্ষা।
দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ দল এখন অস্ট্রেলিয়ায়। আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনের ডিএক্সসি অ্যারেনায় শুরু হবে প্রথম টেস্ট। এই মাঠেই প্রথম অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ। নেটে দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করেছেন মুশফিক।
২০০৩ সালের পর প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ খেলতে গেছে বাংলাদেশ। আগের সফরের সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকই হয়নি মুশফিকের। এরপর ২১ বছরের বেশি সময় ধরে টেস্ট খেললেও অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পাননি তিনি। ৩৯ বছর বয়সে এসে সেই অপূর্ণতাই এবার ঘোচাতে চলেছেন বাংলাদেশের হয়ে শতাধিক টেস্ট খেলা একমাত্র ক্রিকেটার।
ক্রিকবাজ জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়া সফরকে সামনে রেখে ব্যক্তিগতভাবে দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নিয়েছেন মুশফিক। দেশটির কন্ডিশন সম্পর্কে ধারণা নিতে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা পরিচিতজনদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। সঙ্গে নিয়েছেন সাধারণ সময়ের তুলনায় কিছুটা হালকা ব্যাট। অস্ট্রেলিয়ার উইকেটে স্কয়ার অব দ্য উইকেট বেশি শট খেলার সুযোগ থাকবে বলেই এমন সিদ্ধান্ত তার।
বিশেষভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন ভেতরে ঢোকা বল সামলানোর জন্যও। প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডদের গতিময় আক্রমণের বিপক্ষে এই ধরনের বল বড় পরীক্ষা নিতে পারে বাংলাদেশের ব্যাটারদের। ক্যারিয়ারের সম্ভবত শেষ অস্ট্রেলিয়া সফরে তাই প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখতে চান না মুশফিক।
প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশারও মনে করেন, দীর্ঘ পরিশ্রমের পুরস্কার হিসেবেই অস্ট্রেলিয়ায় খেলার সুযোগটি পেয়েছেন মুশফিক।
হাবিবুল বলেন, ‘প্রতিটি টেস্টই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত দিক থেকে এটি সম্ভবত অস্ট্রেলিয়ায় মুশফিকের শেষ টেস্ট সিরিজ। সে অবশ্যই বিশেষ কিছু করার চেষ্টা করবে। এত বছরের পরিশ্রমের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলার স্বপ্ন পূরণের এই সুযোগ তার প্রাপ্য।’
২০১৭ সালে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন মুশফিক। সেই জয়ের পর তার ধারণা ছিল, অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ খেলার সুযোগ দ্রুতই আসবে। কিন্তু অপেক্ষা করতে হয়েছে আরও প্রায় এক দশক।
মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার থেমে গেলেও খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন মুশফিক। নিয়মিত অনুশীলন এবং নিজেকে প্রস্তুত রাখার ক্ষেত্রে এখনো তিনি দলের অন্যতম উদাহরণ।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এবারের সিরিজ তাই মুশফিকের কাছে শুধু আরেকটি টেস্ট সফর নয়। দুই দশকের বেশি সময় ধরে লালন করা একটি স্বপ্ন পূরণের সুযোগ। ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে পাওয়া সেই সুযোগটিকে স্মরণীয় করে রাখাই এখন তাঁর লক্ষ্য।