
দীর্ঘদিন পর দল পুনর্গঠনে জোর দিচ্ছে বিএনপি। সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত দলীয় কমিটি ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। এর অংশ হিসেবে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতেও নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার জোর আলোচনা চলছে।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, নিষ্ক্রিয় নেতাদের পরিবর্তে তরুণ, ত্যাগী ও সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় নেতৃত্বকে সামনে আনার পাশাপাশি অভিজ্ঞ নেতাদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচির কথা বিবেচনায় রেখে পর্যায়ক্রমে মহানগর, জেলা ও উপজেলা কমিটিও পুনর্গঠন করা হবে।
বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, দুর্বল সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো সুবিধা নিতে পারে। তাই এখন দল পুনর্গঠনই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।
দলীয় সূত্র জানায়, চলতি বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। প্রায় এক দশক পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই কাউন্সিলের আগেই স্থায়ী কমিটির শূন্য পদগুলো পূরণ হতে পারে।
আলোচনায় রয়েছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কিংবা ড. আব্দুল মঈন খান রাষ্ট্রপতি, স্পিকার বা অন্য কোনো সাংবিধানিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে গেলে স্থায়ী কমিটিতে নতুন শূন্যতা তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ও লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় নন। অপরদিকে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ স্পিকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর দলের সাংগঠনিক পদে নেই। ফলে নতুন নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আলোচনায় যাদের নাম
বিএনপির কয়েকজন স্থায়ী কমিটির সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শূন্য পদগুলোতে নতুন সদস্য হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন
>ভাইস চেয়ারম্যান ও সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি
>ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু
>সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী
>চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ
>চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল
এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুকের নামও আলোচনায় রয়েছে।
বর্তমান স্থায়ী কমিটির অবস্থা
বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল হয় ২০১৬ সালে। তখন স্থায়ী কমিটির সদস্যসংখ্যা নির্ধারণ করা হয় ১৯টি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হন।
পরে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যু হয়। স্পিকারের দায়িত্ব পাওয়ার পর হাফিজ উদ্দিন আহমেদও সাংগঠনিক পদ ছাড়েন।
বর্তমানে স্থায়ী কমিটিতে রয়েছেন দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
যা বলছেন নজরুল ইসলাম খান
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা সীমাবদ্ধতার কারণে গত ১০ বছর দলীয় কাউন্সিল হয়নি। তবে এ সময়ে আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেমে থাকেনি। সাংগঠনিক কাজ অব্যাহত রয়েছে।’ তবে নতুন নেতৃত্ব বা কাউন্সিলের সময়সূচি নিয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলীয় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা বিএনপির জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সে ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণী ফোরামে নতুন ও পরীক্ষিত নেতৃত্ব যুক্ত হলে দলের সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়বে এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।