
সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য এসেছে স্বস্তির খবর। এখন থেকে পুরোনো কফিল (নিয়োগকর্তা) আকামা (রেসিডেন্সি পারমিট) নবায়ন না করলে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে কফিল পরিবর্তনের মাধ্যমে আকামা নবায়নের সুযোগ পাবেন বাংলাদেশি কর্মীরা। একই সঙ্গে আইটি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, চিকিৎসা ও প্রকৌশলসহ বিভিন্ন খাতে দক্ষ বাংলাদেশি জনবল নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে সৌদি আরবের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।
তিনি বলেন, আকামা নবায়নের সময় বাংলাদেশি কর্মীদের সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পর সৌদি প্রতিনিধিদল জানিয়েছে, যেসব কর্মী পুরোনো কফিলের মাধ্যমে আকামা নবায়ন করতে পারবেন না, তারা নিয়ম মেনে কফিল পরিবর্তন করে আকামা নবায়নের সুযোগ পাবেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বৈঠকে সৌদিতে কর্মরত বাংলাদেশিদের অধিকার, মর্যাদা ও কর্মপরিবেশের উন্নয়ন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশি প্রবাসীরা শুধু সৌদি আরব নয়, দুই দেশের অর্থনীতিতেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
তিনি আরও জানান, ২০২৭ সালের এএফসি এশিয়ান কাপ, ২০৩০ সালের ওয়ার্ল্ড এক্সপো এবং ২০৩৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনকে সামনে রেখে সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক জনবলের প্রয়োজন হবে। এ কারণে দেশটি সাধারণ শ্রমিকের পাশাপাশি আইটি, এআই, রোবোটিক্স, চিকিৎসা ও প্রকৌশলসহ বিভিন্ন খাতে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বৈঠকে সৌদির কারাগারে ছোটখাটো অপরাধে আটক বাংলাদেশিদের ক্ষমা করে দেশে ফেরানোর সুযোগ, নৈতিক নিয়োগ (ইথিক্যাল রিক্রুটমেন্ট) জোরদার এবং শ্রমবাজারে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে সৌদি আরবের প্রতিনিধিদলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার বিষয়ক ডেপুটি মিনিস্টার ড. মোহাম্মদ এ এম আলশামেরি, মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি মিনিস্টার মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ঈসা এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ।