
রাজকীয় আয়োজনে প্রিয় প্রধান শিক্ষক এস এম হায়াতুজ্জামানের বিদায়
৩১ বছরের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের ইতি টেনে অবসরে গেলেন নড়াইলের লোহাগড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম হায়াতুজ্জামান। প্রিয় শিক্ষকের বিদায়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীরা। ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর আবেগঘন মুহূর্তে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো তাঁর ‘রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা’।
‘বিদায় নয়, এটি নতুন পথচলার সূচনা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার সকালে লোহাগড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে বিদ্যালয়ের আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় ভালোবাসা ও আবেগের এক মিলনমেলায়।
লোহাগড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মুস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সৈয়দ মহসীন আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নড়াইল জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান আলেক।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মাওলানা হাফিজুর রহমান। বিদায়ী প্রধান শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি পাঠ করেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
এ সময় বক্তব্য দেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন, লোহাগড়া অফিসার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আব্দুর রহমান, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মৃত্যুঞ্জয় দাস, সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র শিক্ষক নুরুন্নাহার, মরিচ পাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মে. আমির হোসেন, কাশিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন, লক্ষীপাশা আদর্শ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোরাদুজ্জামান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আলমগীর হোসাইন, বাঁকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হান্নান বিশ্বাসসহ আরও অনেকে।
প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে অনুষ্ঠানে আবেগঘন বক্তব্য রাখে বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইরানী ও ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আইয়ান। তাদের কথায় উঠে আসে একজন শিক্ষকের প্রতি শিক্ষার্থীদের গভীর ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও বিচ্ছেদের কষ্ট।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বিদায় মুহূর্তটি যেন আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে অনুষ্ঠান শেষে। বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ফুলে সজ্জিত একটি খোলা মাইক্রোবাসে করে বিদায়ী প্রধান শিক্ষক এস এম হায়াতুজ্জামানকে তাঁর লোহাগড়ার পোদ্দারপাড়াস্থ বাড়িতে পৌঁছে দেন। এ সময় সৃষ্টি হয় এক হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য। প্রিয় শিক্ষককে শেষবারের মতো বিদ্যালয় থেকে বাড়ি পৌঁছে দিতে গিয়ে অনেকের চোখেই ছিল অশ্রু, মুখে ছিল ভালোবাসা আর কণ্ঠে ছিল তাঁর জন্য দোয়া ও শুভকামনা।
দীর্ঘ ৩১ বছর শিক্ষকতা জীবনে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করেছেন গুণী ও বরেণ্য শিক্ষক এস এম হায়াতুজ্জামান। তাঁর বিদায়ে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হলেও, তাঁর হাতে গড়ে ওঠা অসংখ্য শিক্ষার্থীর হৃদয়ে তিনি থেকে যাবেন আজীবন।
বিদায় তাই কেবল একটি শব্দ -শিক্ষক এস এম হায়াতুজ্জামানের জন্য এটি নতুন জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা।