| শিরোনাম: |

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইজারাদার কর্তৃপক্ষ এসব দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, খাসিয়ামারা নদীর বালুমহালটি সরকারি বিধিবিধান ও নীতিমালা অনুসরণ করে বৈধ উপায়ে ইজারা নেওয়া হয়েছে। ইজারার কোনো শর্ত লঙ্ঘন করা হয়নি। সরকারি নির্ধারিত রাজস্ব প্রদান করেই নিয়মতান্ত্রিকভাবে সনাতন পদ্ধতিতে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, নদীতে ৫০ থেকে ৬০টি অবৈধ ড্রেজার চালানোর যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সম্পূর্ণ মিল নেই। ইজারাদারদের দাবি, নদীর রাবারড্যাম ও পরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরাসরি ভারী ড্রেজার বা বাল্কহেড ব্যবহার না করে সাময়িকভাবে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ পদ্ধতিতে পাইপলাইনের মাধ্যমে বালু স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এছাড়া খাসিয়ামারা নদী পাহাড়ি ঢলের নদী হওয়ায় বর্ষা ও পাহাড়ি ঢলে নদীর তীরে কিছু অংশে ভাঙন দেখা দেওয়াকে স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে নদীর দুই তীরে নদীভাঙনের দায় চাপানোর প্রচেষ্টাকে ভিত্তিহীন বলেও দাবি করা হয়।
স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যে মনগড়া অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সত্য নয়। প্রশাসন নিয়মের মধ্য থেকেই দায়িত্ব পালন করছে এবং কোনো কার্যক্রমে সরকারি নীতিমালা অমান্য করা হয়নি।
বক্তারা আরও বলেন, বালু ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বালু পরিবহনের নিয়ম রয়েছে। বাস্তবতার ক্ষেত্রেও ভোর থেকে বালু সংগ্রহ করে দিনের দিকে পরিবহন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় এবং সন্ধ্যার আগেই তা বন্ধ হয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে ইজারাদার কর্তৃপক্ষ বলেন, “আমরা কোনো অবৈধ বা আইনবহির্ভূত কাজের সঙ্গে যুক্ত নই। রাবারড্যাম রক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মতান্ত্রিকভাবেই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।”
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তারা বলেন, কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে একতরফা তথ্য বা রাজনৈতিক বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে সরেজমিনে গিয়ে প্রকৃত তথ্য অনুসন্ধান করে সংবাদ প্রকাশের অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে বিভ্রান্তিকর ও একপেশে সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে খাসিয়ামারা নদী বালুমহালের ইজারাদার কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন এবং প্রকৃত তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানান।