প্রকাশ: রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম (ভিজিট : ৪৭)

বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরুর পর দেশের সীমান্তবর্তী বাজারগুলোতে এর দামে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে যশোরের শার্শা উপজেলার বিভিন্ন বাজারে কাঁচা মরিচের দাম অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।
রোববার (৯ আগস্ট) সকাল থেকে শার্শার বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ পাঁচ দিন আগেও একই মরিচের দাম ছিল কেজিপ্রতি প্রায় ৩০০ টাকা।
বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দেওয়ার পর গত পাঁচ দিনে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে মোট ৮০ টন কাঁচা মরিচ দেশে এসেছে।
বেনাপোল বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার প্রথম চালানে একটি ভারতীয় ট্রাকে ৯ হাজার ২০০ কেজি কাঁচা মরিচ আসে। পরদিন মঙ্গলবার তিনটি ট্রাকে আসে ৪২ হাজার ২২০ কেজি। বৃহস্পতিবার আরও একটি ট্রাকে ১৪ হাজার কেজি এবং শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় একটি ট্রাকে ১৫ হাজার কেজি কাঁচা মরিচ আমদানি হয়।
আমদানিকারক রফিকুল ইসলাম বলেন, ভারত থেকে প্রতি টন কাঁচা মরিচ ৩০৫ ডলারে আমদানি করা হচ্ছে। শুল্কসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে দেশে পৌঁছানোর পর প্রতি কেজিতে প্রায় ১৩৫ টাকা খরচ পড়ছে। সামান্য লাভ রেখে বাজারে মরিচ বিক্রি করা হচ্ছে। আমদানি আরও বাড়লে দাম কমে আসবে বলে আশা করছেন তিনি।
তবে কাস্টমসের বিভিন্ন জটিলতা ও পণ্য খালাসে সময়ক্ষেপণের কারণে অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আমদানিকারকরা। এতে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি লোকসানের আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারের অনুমোদনের পর ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ, বিশেষ করে নাসিক এলাকা থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৬৯ জন ব্যবসায়ীকে মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) দেওয়া হয়েছে।
বেনাপোলের কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি অব্যাহত থাকলে বাজারে সরবরাহ আরও বাড়বে। এতে কাঁচা মরিচের দাম শিগগিরই কেজিপ্রতি ১০০ টাকার নিচে নেমে আসতে পারে।
আমদানিকৃত মরিচের চালান বন্দরে পৌঁছানোর পর দ্রুত কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে শিমু এন্টারপ্রাইজ কাঁচা মরিচ আমদানি করছে এবং সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট হিসেবে খালাস কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে শিমু শিপিং লাইন্স।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (ট্রাফিক) রুহুল আমিন বলেন, মরিচবাহী ট্রাক বন্দরে পৌঁছানোর পর দ্রুত কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে পণ্য খালাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সীমান্তের ওপারে আরও বেশ কিছু কাঁচা মরিচবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।