
কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়িতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট) সকাল সোয়া ৯টার দিকে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে করে মহেশখালীর উদ্দেশে রওনা হন তিনি। পরে মাতারবাড়িতে পৌঁছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মেগাপ্রকল্পের অগ্রগতি সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
সফরসূচি অনুযায়ী, মাতারবাড়িতে প্রধানমন্ত্রী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, বাস্তবায়ন পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।
মাতারবাড়ির কর্মসূচি শেষে দুপুর ১২টার দিকে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে নতুন ঘর হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।
এরপর প্রধানমন্ত্রী ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলম বাবুনগর মাদরাসায় যাবেন। সেখানে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। পরে হাটহাজারীর আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসায় গিয়ে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন তিনি।
হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠেও প্রধানমন্ত্রীর একটি কর্মসূচি রয়েছে। বিকেল ৫টার দিকে সেখানে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে নতুন ঘর হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।
দিনের শেষ পর্যায়ে সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ হোটেলের মিলনায়তনে আয়োজিত একটি সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, ঢাকা থেকে মহেশখালী পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে যাবেন। এরপর ফটিকছড়ি থেকে সড়কপথে চট্টগ্রামে যাবেন তিনি। সফরের সব কর্মসূচি শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রামের হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে মহেশখালীসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোনো জনসভা বা বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ দেখা গেছে।
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর মূলত সরকারি ও আনুষ্ঠানিক। তবে তার আগমনকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের পক্ষ থেকে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং কক্সবাজারের সঙ্গে মহেশখালীর সরাসরি যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে কক্সবাজার-মহেশখালী সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে একদিকে মাতারবাড়ির গুরুত্বপূর্ণ মেগাপ্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা, অন্যদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং চট্টগ্রামে ধর্মীয় ও সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।