রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

শিরোনাম: চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৌসুমের শেষেও কানসাট আমের বাজারে জমজমাট বেচাকেনা   চাঁপাইনবাবগঞ্জের র‌্যাবের অভিজানে বিদেশি মুদ্রার জালনোটসহ দুজন আটক   বেনাপোল দিয়ে মরিচের সরবরাহ বাড়ছে, দ্রুত কমছে দাম   রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে উত্তাপ, ফখরুল-হাফিজের নাম আলোচনায়   মাতারবাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর পদচারণা, নজরে মেগাপ্রকল্পের অগ্রগতি   এতিমদের জন্য ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিলেন সায়েম সোবহান আনভীর   আত্মত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া বাংলাদেশকে আরও উন্নত করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী   
মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনতার যুদ্ধ, কোনো দলের নয়: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:৩১ পিএম   (ভিজিট : ১২০)

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না; এটি ছিল জনতার যুদ্ধ, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মানুষের ভোটাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এমন মন্তব্য করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে রাজধানীর ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সেস-এর ৫৪তম কমিশনিং ও ফেলোশিপ ডে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, জনগণের রায়কে অগ্রাহ্য করে গণতন্ত্রকে পদদলিত করার ফলেই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে এ দেশের মানুষ ছয় দফার ভিত্তিতে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে রায় দিয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী জনগণের সেই ভোটের প্রতি কোনো সম্মান দেখায়নি।

তিনি বলেন, পরবর্তীতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র মানুষের ওপর গণহত্যা ও ভয়াবহ নির্যাতন শুরু করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও ইপিআরের বাঙালি সৈনিক ও কর্মকর্তারা বিদ্রোহ ঘোষণা করে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করেন। দেশের বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে এবং সীমিতসংখ্যক সৈনিকের নেতৃত্বে হাজার হাজার ছাত্র-যুবক মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, প্রায় পাঁচ হাজার সৈনিকের আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রায় ৮০ হাজার তরুণ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং একপর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা প্রায় এক লাখে পৌঁছায়। এসব যোদ্ধাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও ইপিআরের সৈনিক ও কর্মকর্তারা।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর এমন একটি ধারণা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছে যে, কেবল কয়েকটি ভাষণের মাধ্যমেই দেশ স্বাধীন হয়েছে। অথচ বাস্তবে অসংখ্য তরুণ, সাধারণ পরিবারের সন্তান এবং সৈনিক জীবন উৎসর্গ করে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ ছিল গণতন্ত্র, মানবিক মর্যাদা, সম-অধিকার ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধের অনেক ঘটনা, ত্যাগ ও বীরত্বগাথা যথাযথভাবে ইতিহাসে স্থান পায়নি। এসব ইতিহাস সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে। নতুন প্রজন্মকে জানতে হবে কীভাবে দেশ স্বাধীন হয়েছে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন কী ছিল।

মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, অনেক তরুণ শারীরিক যোগ্যতার কারণে যুদ্ধে নেওয়া সম্ভব না হলে কান্নায় ভেঙে পড়তেন। দেশের জন্য লড়াই করার সুযোগ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় তারা নিজেদের জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করতে প্রস্তুত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার এসব ঘটনা জাতির ইতিহাসের অনন্য ও গৌরবময় অধ্যায়।

বক্তব্যে তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কথাও উল্লেখ করেন। বিশেষ করে মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে উদ্দীপ্ত করেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমান শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষেও স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুসংহত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দেশে আর কোনো স্বৈরশাসনের সৃষ্টি হওয়া উচিত নয়। সরকার ভুল করলে জনগণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তা সংশোধন করবে; কিন্তু কোনো অবস্থাতেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করা উচিত নয়।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। ২০২৪ সালের আগস্টে দেশের মানুষ যে গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছে, সেটিও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে রাজনীতিকদের আত্মসমালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মেজর এ মতিন চৌধুরী। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বক্তব্য দেন।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বর্তমান ও আগামী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।









  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]