প্রকাশ: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:৫০ পিএম (ভিজিট : ৩৯)

দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের শেষ নাগাদ শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
শনিবার (৮ আগস্ট) নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদীর ভাঙনকবলিত বিভিন্ন এলাকা ও ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা জানান।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এরই মধ্যে এ প্রকল্প নিয়ে গঠিত কারিগরি কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এখন পরবর্তী প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এত বড় একটি প্রকল্প একদিনে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তবে পাইলট প্রকল্প হিসেবে খুব শিগগিরই কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করছি, বছরের শেষ দিকে তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, তিস্তা নদীর পানি সংরক্ষণ, নদীভাঙন রোধ, দুই তীরের স্থায়ী সুরক্ষা এবং নদী ব্যবস্থাপনার উন্নয়নকে পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
এ সময় তিস্তার ভাঙন পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তিনি। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত নদীতীর সংরক্ষণকাজ শুরু করার নির্দেশ দেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, নদীভাঙনের কারণে কোনো মানুষের বসতভিটা ও কৃষিজমি যেন নদীগর্ভে বিলীন না হয়, সে বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। প্রয়োজন অনুযায়ী জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ব্যবহার করে জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বুড়ি তিস্তা পুনঃখনন প্রকল্পের জটিলতা নিরসনেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ভুক্তভোগী, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন রোধের পাশাপাশি পানি সংরক্ষণ, কৃষি, মৎস্য ও তিস্তা অববাহিকার মানুষের জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।