প্রকাশ: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:২০ পিএম (ভিজিট : ৩৭)

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের কৌশল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সতর্ক করে বলেছেন, শুধু বিমান হামলার মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে সব সামরিক লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নাও হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এ বিষয়ে অবহিত করেছেন জেনারেল কেইন। মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, ইরান অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুতের অবস্থাও সামরিক কার্যক্রমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে ট্রাম্পকে জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি আইনপ্রণেতাদের এক শুনানিতেও জেনারেল কেইন বলেন, সামরিক লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে ‘এয়ারপাওয়ারের সীমাবদ্ধতা রয়েছে’। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান মূলত বিমান হামলাকেন্দ্রিক হওয়ায় তাঁর এই বক্তব্যকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর মজুতেও চাপ তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ফলে অভিযান দীর্ঘায়িত হলে মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এরই মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতাকারীদের তৎপরতা বেড়েছে। আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এপি জানিয়েছে, দুই পক্ষকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফেরানোর প্রচেষ্টায় অগ্রগতি হয়েছে। কাতার ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ এ ক্ষেত্রে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে।
ইরান যুদ্ধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা ও জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ফলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে জেনারেল কেইনের সতর্কবার্তা থেকে স্পষ্ট, ইরানের ওপর সামরিক চাপ অব্যাহত রাখলেও ওয়াশিংটনের সামনে এখন বড় প্রশ্ন কতদিন বিমান হামলা চালিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব এবং সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার কার্যকর পথ কী।