প্রকাশ: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩১ পিএম (ভিজিট : ৪০)

রাশিয়ার জ্বালানি পণ্য কেনা দেশগুলোর ওপর কঠোর অর্থনৈতিক চাপ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে মার্কিন সিনেট এমন একটি বিল পাস করেছে, যাতে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর আওতায় পড়তে পারে ভারত ও চীন।
শুক্রবার মার্কিন সিনেটে বিলটি ৮৬-১১ ভোটে পাস হয়। এখন এটি প্রতিনিধি পরিষদে যাবে। বিলটি আইনে পরিণত হলে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের বাণিজ্যিক চাপ প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি থেকে পাওয়া আয় কমিয়ে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মস্কোর রাজস্ব প্রবাহ সংকুচিত করতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভারত ও চীন রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হওয়ায় নতুন মার্কিন উদ্যোগে তাদের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়ার কাছ থেকে তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি কেনার কারণে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কেও নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিতে পারে।
তবে ১০০ শতাংশ শুল্ক এখনই কার্যকর হচ্ছে না। বিলটি প্রথমে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদন পেতে হবে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই এটি কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এমনকি আইন কার্যকর হলেও শুল্ক আরোপের বিষয়টি প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শুধু ভারত ও চীন নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও এর বড় প্রভাব পড়তে পারে। রাশিয়ার তেল আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য জ্বালানি ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতিতেও অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ভারত ও চীন এখন পর্যন্ত রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্যকে নিজেদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের অংশ হিসেবে দেখছে। ফলে ওয়াশিংটনের নতুন চাপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কে আরও টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে।