প্রকাশ: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ২:১৫ পিএম (ভিজিট : ৩৭)

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নানা বিষয় নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনা করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে দিল্লির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে তার যোগাযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্তকে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর কোনো পেশাদার কূটনীতিকের পরিবর্তে একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিককে ঢাকায় পাঠিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা দীনেশ ত্রিবেদীর বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ভারতের সাবেক রেলমন্ত্রী এবং বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা। এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেও তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ছিল। ফলে দিল্লি ও কলকাতার রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
বাংলাদেশে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দুই দেশের অমীমাংসিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়ে আসছেন ত্রিবেদী। সীমান্ত সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করার পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের স্বার্থে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে সম্পর্ককে আরও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় করার লক্ষ্যেই দীনেশ ত্রিবেদীর মতো একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হাইকমিশনার হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। তিস্তা পানি বণ্টন, সীমান্ত, বাণিজ্য, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোতে তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে।
সম্প্রতি ত্রিবেদী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে বলেছেন, নয়াদিল্লি তাকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষা করছে। এতে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে ভারতের আগ্রহের বিষয়টিও স্পষ্ট হয়েছে।
সব মিলিয়ে, দীনেশ ত্রিবেদীর মাধ্যমে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ে রাজনৈতিক যোগাযোগ, পারস্পরিক আস্থা এবং অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দিচ্ছে ভারত এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।