প্রকাশ: রোববার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম (ভিজিট : ৫৩)

ফারহানা তাসনিম
এত কঠিন প্রতিযোগিতার ফলাফলের মধ্যেও স্বস্তির সাফল্য এনে দিয়েছে নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ফারহানা তাসনিম। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়ার পাশাপাশি নম্বরের হিসাবেও অসাধারণ কৃতিত্ব দেখিয়েছেন তিনি।
প্রকাশিত ফলাফলের গ্রেডশিট অনুযায়ী, ফারহানা তাসনিম ১০টি মূল বিষয়ে মোট ১১৫০ নম্বরের মধ্যে ১১০৫ নম্বর পেয়েছে। অর্থাৎ মূল বিষয়গুলোতে তার প্রাপ্ত নম্বরের হার প্রায় ৯৬ দশমিক ০৯ শতাংশ। প্রতিটি বিষয়েই সে এ প্লাস (A+) গ্রেড অর্জন করেছে।
বিষয়ভিত্তিক ফলাফলেও রয়েছে চমক। বাংলায় ১৯৪, ইংরেজিতে ১৮৪, গণিতে ১০০, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে ৯৮, ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষায় ৯১, পদার্থবিজ্ঞানে ৯৯, রসায়নে ৯৭, জীববিজ্ঞানে ৯৭, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ৪৮ এবং উচ্চতর গণিতে ৯৭ নম্বর পেয়েছে ফারহানা।
ধারাবাহিক মূল্যায়নের বিষয়গুলোতেও তার ফলাফল শতভাগ। শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়ায় ৫০ এবং ক্যারিয়ার শিক্ষায় ৫০ নম্বর পেয়েছে সে। সব মিলিয়ে মূল ও ধারাবাহিক মূল্যায়ন মিলিয়ে ফারহানার প্রাপ্ত নম্বর ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২০৫ ।
ফারহানা তাসনিমের এই সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও একটি গৌরবের খবর। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আনঅফিশিয়াল হিসাবে নড়াইল জেলার মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করেছে নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এই কৃতী শিক্ষার্থী।
ফারহানা তাসনিমের বাবা গোলাম রব্বানী, যিনি নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার (ATEO) হিসেবে কর্মরত। তার মা সাথিয়ারা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা।বাবা-মায়ের উৎসাহ, পরিবারের সহযোগিতা এবং শিক্ষকদের দিকনির্দেশনায় ফারহানা এই সাফল্য অর্জন করেছে।
ফারহানার এমন অসাধারণ ফলাফলে তার পরিবার, নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। নিয়মিত পড়াশোনা, কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস ও অধ্যবসায়কেই নিজের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হিসেবে দেখছে এই কৃতী শিক্ষার্থী।
ফারহানা তাসনিমের এই সাফল্য শুধু একটি জিপিএ-৫ অর্জন নয়, বরং নড়াইলের শিক্ষাঙ্গনে মেধা ও পরিশ্রমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নড়াইলের মুখ উজ্জ্বল করবে এমন প্রত্যাশা সবার।